যুক্তরাজ্যের নতুন বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: যুক্তরাজ্যে স্প্রিং বাজেট ও অটাম মিনি বাজেট নামে প্রতি বছর ঘোষণা করা হয় দুটি বাজেট। মার্চ মাসে যে স্প্রিং বাজেট ঘোষণা করা হয় এটিই মূল বাজেট। তাই বাজেটের দিনকে ঘিরে চলে নানা রকম আনুষ্ঠানিকতা। চ্যান্সেলরের বাসভবন ইলেভেন ডাউনিং স্ট্রীট থেকে বেরিয়ে ঐতিহ্যবাহী লাল বাক্সের ভেতরে বাজেটের কাগজ নিয়ে পার্লামেন্টে যান চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট। সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজেট ঘোষণায় চ্যান্সেলর স্বীকার করেন, ব্রিটেনে মৃদু অর্থনৈতিক মন্দা চলছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার এই মুহূর্তে এখনও বেশী। যখনই সম্ভব হবে তখনই ট্যাক্স কমানো হবে বলে জানান চ্যান্সেলর।

ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স প্রতি পাউন্ডে আরও দুই পেন্স কমানো নতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত এবং আকর্ষণীয় বিষয়। কয়েক মাস আগেও ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স ২ পেন্স কমিয়েছিল সরকার।এপ্রিল মাস থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হলে বার্ষিক ১৫ হাজার পাউন্ড আয়ের একজন কর্মজীবী বছরে ৫০ পাউন্ড বাঁচাতে পারবেন। যার আয় ২৫ হাজার, তিনি বাঁচাতে পারবেন আড়াই শ’ পাউন্ড; আর ৩৫ হাজার পাউন্ড আয়ের একজন ব্যাক্তি বছরে সাড়ে ৪ শ’ পাউন্ড বাঁচাতে পারবেন।

আগামী মাস থেকে চাইল্ড বেনিফিট পাওয়ার শর্ত আরও শিথিল হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাবা-মায়ের যে কোনো একজনের বার্ষিক উপার্জন ৫০ হাজার হলে চাইল্ড বেনিফিট দেয়া হয়না। এপ্রিল থেকে চাইল্ড বেনিফিট না পাওয়ার এই আয়সীমা বাড়িয়ে ৬০ হাজার পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু একজনের আয়কে বিবেচনায় নিয়ে চাইল্ড বেনিফিত দেয়ার এই নিয়ম পুনর্বিবেচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলর। কেননা বাবা-মা দুই জনই বার্ষিক ৫০ হাজার করে ১০০ হাজার পাউন্ড আয় করলেও চাইল্ড বেনিফিত পাবেন। কিন্তু একজন সিঙ্গেল প্যারেন্ট বছরে ৬০ হাজার পাউন্ড আয় করলে তিনি চাইল্ড বেনিফিট পাবেন না। এই নিয়মকে অন্যায্য মনে করেন চ্যান্সেলর।

ট্যাক্স কমানোর ঘোষণায় সরকারের আয় কমবে। এই রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মেটাতে সরকার বিজনেস ক্লাস ফ্লাইট, হলিডে হোমের মালিক, তামাকজাত পণ্য এবং ভেইপিঙের ট্যাক্স বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলর। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলকোহলের ওপর ডিউটি বাড়ানো হবেনা; জ্বালানী তেলের ডিউটিও বাড়বে না। এরপর চ্যান্সেলর এমন একটি ঘোষণা দেন, যেটি আসলে লেবার দলের পলিসি থেকে চুরি করা হয়েছে। নন-ডোম ট্যাক্স পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। এটি বিদেশী ধনীদের জন্য নির্ধারিত এমন এক ধরনের ট্যাক্স ব্যবস্থা যারা ব্রিটেনে বসবাস করেন কিন্তু তাদের স্থায়ী ঠিকানা বিদেশে।

লেবার নেতা প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই বাজেট প্রতারণায় ভরা। এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে অনেক মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হবে। কিয়ার স্টারমার বলেন, এখনও গত ৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্যাক্স দিতে হচ্ছে জনগণকে। বাজেট নিয়ে জনগণের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here