আর কত মানুষ মরলে আর কত মানুষ সংক্রামিত হলে সিলেটকে ঝুঁকি পূর্ণ বলা হবে। প্রথম দিকে সিলেট লকডাউন, ঝুঁকি পূর্ণ এলাকা ঘোষণা দেওয়ার জন্য লেখালেখি করেছিলেন অনেকে। আমিও অনেক বার লিখেছি, কেউ আমল দেয় নি। পরবর্তী সময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের জারি করা লকডাউন! যা মানতে বেশির ভাগ মানুষ নারাজ ছিলেন৷ যার কারণে দেশে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ব্যাপক হারে বেড়েছে। সিলেটে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কারণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জৈন্তা বার্তার রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৩৫ দিন ধরে প্রতিদিন সিলেটে ১১৭ জন করে আক্রা্ন্ত হচ্ছে আর গত ১ সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন ১৪৮ জন। যা সত্যিই ভয়াবহ তথ্য।
বর্তমান সময়ে সিলেটের সুশীল সমাজ মানুষকে ঘরে রাখার জন্য দ্বিতীয় বারের মত লকডাউন চেয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছেন প্রশাসনের কাছে। কারণ সিলেট সব চাইতে ঝুঁকিপূর্ণ এবং রেড জোন হিসেবে ঘোষণা দেয়ার জন্য । কিন্তু সেক্ষেত্রে সফলতা কতটুকু আসবে জানা নেই।
সরকারি নির্দেশনা কেবা মানছে কে শুনছে কার কথা! অমান্য করে, রাস্তাঘাট, বাজার, পার্ক ও চায়ের দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন যুবকেরা। লকডাউন যখন শিথিল করা হয়েছে সিলেটে র রাস্তা ঘাটে সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা তত বেড়ে ই চলেছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রা বর্তমান অবস্থায়ই হিমশিম খাওয়ার উপক্রম। সিলেটে নাম করা কজন ডাক্তার কে আমরা ইতিমধ্য হারিয়েছি! সম্প্রতি আমরা আমাদের সাবেক নগরপিতা কে হারালাম । আর যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে সিলেটের অবস্থা হবে ভয়াবহ। এক জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হলে এক মাস আগে সুস্থ হচ্ছেন না।
প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছেন। যেভাবে তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার বাড়ছে মনে হয় অল্প কিছুদিনের মধ্যে সিলেটে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য লোকই থাকবে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সিলেটকে কবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করবে? আজ এই প্রশ্ন সিলেটের সচেতন মহলে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেনে চলার ব্যাপারে মানুষের সমর্থন থাকলেও কার্যত তা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ছে সব মহলেই। এ কারণে বিপদ বাড়ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পরিকল্পনার ঘাটতি থাকায় সুরক্ষার ব্যাপারটিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না। যা উৎকন্ঠার মধ্যে ফেলেছে নগরবাসী কে। আর কত লাশ পড়লে আমাদের মহান হস্তিদের টনক নড়বে জানা নেই। এভাবে চললে আমরা আমাদের মানুষদের হারাবো, তাই এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজকে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে সম্মিলিত হয়ে। ভিড়ে নয় নীড়ে হোক আমার আপনার অবস্থান।
বহ্নি চক্রবর্তী, ইংল্যান্ড প্রবাসী
