ম্যানচেস্টার – সিলেট বিমানের সরাসরি ফ্লাইট প্রসঙ্গে? নর্থ ওয়েস্ট বাসী জানতে চায় …….


প্রবাস বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ লন্ডনের পর ম্যানচেষ্টার নর্থওয়েস্ট ইংল্যান্ড অনেক বাংলাদেশী মানুষের বসবাস। মিডল্যন্ড থেকে শুরু করে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত রয়েছে অনেক ছোট-বড় টাউন যেমন বামিংহ্যাম, ষ্টোক-অন-ট্রেন্ট, চেষ্টার, ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, ব্ল্যাকপুল, প্রেস্টন নিউক্যাসল, ওয়েলস। এখান থেকে এমিরেটস, কাতার এবং ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্স এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশী ম্যানচেস্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাই করে থাকেন ।

সপ্তাহের সাত দিনই ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট থেকে যেসব ফ্লাইট বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, সেখানে প্রচুর যাত্রী থাকেন। জনসংখ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে প্রায় দুই লক্ষেরও উপরে বাংলাদেশীদের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সুফল পায়নি বরং রাজনীতিবিদ ও সরকারের পক্ষ থেকে আশা – নিরাশার বাণী শোনানো হয়েছে বারবার ।

বিমান নিয়ে এত টালবাহানা কেন? এভাবে আর কতদিন?

১৯৯২ পরবর্তী সময়ে ম্যানচেস্টার থেকে বাংলাদেশের প্রথম বিমান উড্ডয়ন করলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়েছিল। তারপর একি নাটক আবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। বাংলাদেশের জনগণের কথা চিন্তা করে সরকার ম্যানচেস্টার থেকে অন্তত দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট সংযোজন করতে পারে। এয়ারক্রাফটের যেখানে স্বল্পতা রয়েছে সেখানে বাংলাদেশ বিমানের রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা । সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ বিমান বারেবারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এই কোম্পানিকে ঢালাও ভাবে সাজাতে পারলে বাংলাদেশীরা বিনিয়োগে এগিয়ে আসতো । বিমানের শেয়ার হোল্ডার হতে পারতেন এবং বিমানের যে উড়োজাহাজে সংকট বারেবারে দেখানো হয় সেই সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হতো। নর্থ ওয়েস্ট বাসি আর আশার বাণী শুনতে চায় না, বাস্তবে দেখতে চায় মাস্টার মানচেষ্টার বিমানবন্দর থেকে যাতে অতি শীঘ্রই বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হল বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশি পতাকাবাহী এই বিমানটি প্রধানত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়াও, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহনের পাশপাশি আভ্যন্তরিন সেবাও প্রদান করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৪২ টি দেশের সাথে এর আকাশ সেবার চুক্তি থাকলেও মাত্র ১৬টি দেশে এর কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে একক আধিপত্য বজায় রাখে। ১৯৯৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি ঘটতে থাকে। কিন্তু দুর্নীতি আর অসাধু ব্যাবস্থাপনার জন্য ১৯৯৬ এর পর লোকসান হতে থাকে। বাংলাদেশ বিমান সর্বোচ্চ ২৯ টি গন্তব্যে এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা টু নিউ ইয়র্ক এবং ঢাকা টু টোকিয়ো ফ্লাইট। ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয় রুপান্তরিত হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশ বিমান, বোয়িং এর সাথে ১০ টি বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি করেছে।

বিমান বাংলাদেশের যাত্রী সেবার একটা বিশাল অংশ হল হাজ্জযাত্রী আর বিদেশগামি যাত্রী। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি মালিকানাধিন বেসরকারি বিমান প্রতিষ্ঠান চালু হওয়াতে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো উন্নত এবং বিশ্বস্ত সেবা দিয়ে ৮% হারে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশি বাজার সুবিধা গ্রহন করতে আগ্রহী। বাজারের এই উন্নতির জন্য কৃতিত্ব দিতে হয় প্রবাসী বাঙ্গালি ও পর্যটকদের।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে চলছে। পবিত্র হজের দুই মাস ছাড়া বছরের বাকি ১০ মাসই লোকসান দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত একটি সংস্থার এ হাল উদ্বেগজনক।

মূলত অব্যবস্থাপনা, ব্যাপক দুর্নীতি, মাথাভারি প্রশাসনসহ প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি লোকবলের কারণে বিমানকে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ লোকসান দিতে হচ্ছে। অব্যবস্থাপনার কারণে বিমানের চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজের অধিকাংশ মনিটর নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে মিসর থেকে ভাড়ায় আনা দুটি উড়োজাহাজ এক বছর ধরে পড়ে আছে ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে। সেগুলো টাকার অভাবে মেরামত করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সম্প্রতি চালু হওয়া বিলাসবহুল উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার দিয়ে লন্ডনে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট অপারেট করার ঘোষণা দেয়া হলেও মাত্র তিন দিনের মাথায় তা বাতিল করা হয়েছে। এ চিত্র থেকেই বোঝা যায় কেন বিমানকে লোকসান গুনতে হয়।

ইতিপূর্বে খবর বেরিয়েছিল, বিমানের বৈদেশিক জিএসএ অফিসগুলোর দুর্নীতির কারণে সংস্থাটি প্রতি বছর শত কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। বিমানের লোকসানের এটিও একটি কারণ নিঃসন্দেহে।

বস্তুত বিমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। সংস্থাটির নেই সেবার মান বৃদ্ধির কোনো প্রয়াস। ফলে পারতপক্ষে কেউ বিমানের উড়োজাহাজে চড়তে চান না। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হলে সে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার বিকল্প নেই।

এদিক থেকেও বিমানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অদক্ষতা, অযোগ্যতা আর দুর্নীতি এ সংস্থাটির পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিমানের পিছিয়ে পড়ার এটাই অন্যতম কারণ।

অতীতে জনবল কমিয়ে আনা এবং বিদেশিদের সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়াসহ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই দাবি উঠেছে বিমানকে গতিশীল করতে একটি পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের।

এ লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য। জানা যায়, নতুন উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে সম্প্রতি বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *