একীভূত হচ্ছে আরো ৩ দুর্বল ব্যাংক


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: দুর্বল আরো তিনটি ব্যাংক তুলনামূলক সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) একীভূত হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে। একীভূতকরণ নিয়ে এই চার ব্যাংকের মধ্যে চলতি সপ্তাহে চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 এগুলোর বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক। এ নিয়ে উভয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঈদের পরই ব্যাংক দুটির মধ্যে একীভূতকরণ চুক্তি হতে পারে। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মুরশীদুল কবির জানান, ‘বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা আমাদের কাছে নেই। এ নিয়ে চুক্তি হলে আমাদের তো জানাবে।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি ব্যাংকের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি পুরো ব্যাংক খাতকে করে ফেলেছে কলুষিত। সৃষ্টি হয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি। অনাস্থা, তারল্য সংকট বেড়েই চলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্যাংক একীভূত করার যে সিদ্ধান্ত সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তাতে কী লাভ হবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে তাদের আশঙ্কা-একীভূত করার মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি দেয়া হতে পারে। এটা যদি হয় তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবার উচ্চ খেলাপি ঋণের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক একীভূত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে এসব ব্যাংকের এমডিকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাছের, নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং সরকারি চার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা বলা হয়েছে বৈঠক থেকে। এর আগে আনুষ্ঠানিকতার জন্য এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বুধবার হঠাৎ চার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে ডেকে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য আগে থেকে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি, এমনকি আলোচনার বিষয়বস্তুও বলা হয়নি। একটি সভায় সোনালী ব্যাংক ও বিডিবিএলের চেয়ারম্যান-এমডিকে জানানো হয়, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিডিবিএল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। আরেকটি সভায় বিকেবি ও রাকাবকে একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানার বেসিক ব্যাংকও একীভূতকরণের আলোচনায় রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার আরেক বড় ব্যাংক অগ্রণীর সঙ্গে বেসিককে এক করে দেয়া হতে পারে। তবে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে এসব খারাপ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে এ খাত-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের নিয়ম-নীতি মেনে একীভূতকরণের পরামর্শ দিয়েছে। জোরপূর্বক একীভূতকরণ না করার কথা বলেছে সংস্থাটি।

এই তিন ব্যাংকের একীভূতকরণের পর আলোচনায় রয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল, এবি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক এবং বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এভাবে একীভূতকরণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের সংখ্যা ৪৪টি করা হতে পারে।

একটি সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ঈদের আগে সম্ভব নয়, ঈদের পর এমওইউ সই হতে পারে। এর আগে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে লুটপাটের শিকার (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) পদ্মা ব্যাংক একীভূত হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই দুই ব্যাংকের আদলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আলোচিত ব্যাংকগুলোর সমঝোতা স্মারক সই হবে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সবাইকে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটা গোপনে হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *