সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে প্রাইভেট কারের মধ্যে চার দফা ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে গাড়িটি ধুয়েমুছে রাখতে চেয়েছিলেন আসামিরা। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে জেনে পালিয়ে যান তাঁরা।
গতকাল শুক্রবার রাতে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে তাঁরা এসব তথ্য দেন বলে তদন্ত ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হলে গতকাল বেলা সোয়া তিনটার সময় সাইফুর, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামকে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তিনজন পর্যায়ক্রমে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
সাইফুর, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম গতকাল সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাতে যোগাযোগ করলে মহানগর সিলেট পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ‘তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুধু এটুকু জানি। আসামিরা কী বলেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানি না।’
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা জবানবন্দি দেন সাইফুর। এরপর অর্জুন জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সাইফুর বলেছেন, তরুণীকে আগে থেকে চিনতেন তিনি। তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবককে চিনতেন না। ওই যুবককে স্বামী বলে পরিচয় দেন তরুণী। আসামিরা তরুণীর স্বামীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করেন। ধর্ষণের পর অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আসামিরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করেন। ছাত্রাবাসে পুলিশ প্রবেশ করার আগেই খবর পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। তার আগে মুঠোফোনে তাঁদের সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিষয়টি জানান।


সিলেটে গণধর্ষণের শিকার তরুণী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত
এ সময় গাড়িতে বসে ছিলেন দুজন (সাইফুর ও অর্জুন), পেছনে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন একজন (শাহ রনি)। ছাত্রাবাসের সামনে নিয়ে প্রথমে টাকা দাবি করেন। তারপর স্বামীকে নামিয়ে আটকে রেখে তরুণীকে গাড়িতে ধর্ষণ করা হয়। পরে তরুণীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কক্ষে নিয়ে যান, আবার গাড়িতে নিয়ে আসেন। এভাবে কয়েকবার আনা–নেওয়া করেন বলে জানিয়েছিলেন স্বামী।
