প্রবাস বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকাম বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: করোনাকালে ফের সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বেড়েছে অপরাধ প্রবণতার হার। তুচ্ছ কারণেই ঘটছে হত্যার মতো ঘটনা। সংঘটিত হয়েছে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি। ধানি জমিতে লাশ মিলেছে অজ্ঞাত ব্যক্তির। গেল দেড় মাসের মধ্যেই ৪টি হত্যাকাণ্ড, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার হয়েছে অর্ধগলিত লাশ।
সর্বশেষ শনিবার প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হন সুমেল আহমদ (১৮) নামে এক স্কুল পড়ুয়া কিশোর। কেবল গেল এপ্রিল মাসেই বিভিন্ন ঘটনায় ৩২টি মামলা হয়েছে থানায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গেল ২৮ জানুয়ারি হাওরে পানি সেচকে কেন্দ্র করে খুন হন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চৈতননগর গ্রামের কৃষক ছরকুম আলী দয়াল (৭০)। গ্রামের কৃষক আহমদ আলী ও আলোচিত লন্ডনি সাইফুলের অনুসারী, টিলাপাড়া গ্রামের দিলোয়ার গংদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
গেল ২০ মার্চ নারী সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নির্মম ভাবে খুন হন ইমরান আহমদ সায়মন (২৪) নামের এক যুবক। তিনি পৌরসভা জানাইয়া দক্ষিণ মশুলা গ্রামের মছলন্দর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় একই গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে খুনি এনাম উদ্দিনসহ (২৩) চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুও উদ্ধার করা হয়।
জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ১৪ এপ্রিল রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন রাবিয়া বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধা। তিনি উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের মৃত রজব আলীর স্ত্রী। প্রতিবেশী হাফিজ আলী গংদের হামলায় গুরুতর আহত হলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সর্বশেষ গেল ১লা মে শনিবার প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হন সুমেল আহমদ (১৮) নামের এক স্কুল পড়ুয়া কিশোর। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চৈতননগর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের (পশ্চিমপাড়া) সড়কে মাটিকাটা নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কে সম্প্রতি মাটিকাটা শুরু করেন সাইফুল ওরফে লন্ডনি সাইফুল। এসময় নজির মিয়ার ধানী জমি থেকে মাটি কাটতে গেলে আপত্তি করেন তিনি। এ নিয়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষে বাধে। এসময় নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে সাইফুল গুলি ছুড়লে আহত হন সুমেল।। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার: গেল ২৮ মার্চ রাতে রামপাশা ইউনিয়নের সদরপুর হাওরের ধানি জমি থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনও তার নাম পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
ডাকাত গ্রেফতার: গেল ৭ এপ্রিল ভোরে রশিদপুর সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি করার সময় দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো বিবাড়িয়ার আখাউড়া থানার দেবগ্রামের হাফিজের ছেলে আল-আমিন (২৯) ও ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ গ্রামের শরীফুল শেখের ছেলে এরশাদ শেখ (২৮)।
ছিনতাই: গত ১১ ফেব্রুয়ারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ গ্রাম গোবিন্দনগরে (বিলপার) ছিনতাইয়ের শিকার হন ব্যবসায়ী আরিফ আহমদ। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কয়েক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
