ঝুলন্ত সুন্দরীর বিচারবিহীন লাশ এবং দ্বিচারিণী সুন্দরীদের রমরমা ব্যবসার খেসারৎ – রোদেলা নীলা


ঝুলন্ত তরুণীর লাশের বিচার চাইবার চাইতেও দেহ ব্যবসা বা মাদক সেবকরা যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের কাছে, তা জনগন বেশ ক’দিন ধরে দেখে আসছে । মেয়েটির নাম ছিল মুনিয়া,বয়স ১৭ বৎসর, অবশ্যই সুন্দরী তবে মফস্বল শহর থেকে উঠে আসা অভিভাবক বিহীন উচ্চাভিলাষী এক তরুণী । তাই মৃত্যূটা তার জন্য বুঝি অবধারিত ছিল, সেজন্যই নড়ে চড়ে বসেনি রাষ্ট্র, এই লোভী বলে আখ্যা দেওয়া মেয়েটি খুন হলো নাকি নিজে নিজে শখ করে গলায় দড়ি দিল তা জানতে চায়নি রাষ্ট্র, উলটো যার বিরুদ্ধে আনিত হলো অভিযোগ সেই শিল্পপতি বসুন্ধরার এম ডি আনভির সাহেবের নাম অব্দি উচ্চারণ করতে ভয়ে পিছ পা হলো নির্লজ্জ কিছু সংবাদ মাধ্যম । তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করাতো অনেক দূরে তাকে  কতিপয় সাংবাদিকরা মিলে পুরস্কৃত করলেন, কারণ তাদের পেটের ভাত জোগান দেয় এই বসুন্ধ্ররা গ্রুপ ।তাকে কিছুতেই রাগানো যাবে না !

এমন হাজার হাজার মুনিয়া এই দেশের মাটিতে ধুকে ধুকে মরে, মুনিয়ার নামটি পত্রিকায় এসেছে তার মরা কপালের ভাগ্য, কারণ তার সম্পর্ক ছিল কোটিপতি ব্যবসায়ীর সাথে, যদি কেরানী টাইপ কারো সাথে থাকতো তাহলে তার নাম অব্দি পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পেত না । মুনিয়া দেহ ব্যবসা করতো না, তবে বিশ্বাস করে দেহ বিক্রি করেছিল; আর তার চরম শাস্তি সমাজ তাকে আজো দিয়ে আসছে মৃত মুনিয়ার ভিডিও ভাইরালে নোংড়া ভাবে উপস্থাপন করে । কে তাকে ঢাকায় আনলো, কে তাকে লক্ষ টাকার ফ্ল্যাটে রাখলো আর কেইবা তাকে মৃত্যূর মুখে ঠেলে দিল এই আলোচনার বাইরে একটাই কথা জনতার মুখে- বেশ্যা মেয়ে, নষ্টা মেয়ে, মৃত্যূই তার জন্য শ্রেষ্ঠ পাওনা । তার মানে দাঁড়াচ্ছে এই বাংলাদেশে অপঘাতে মৃত নারীর চরিত্রের ভেরেন্ডা বাজানো একেবারেই সঠিক, খুনের কোন বিচার দরকার নেই  । ইতিমধ্যে মুনিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আনভীরের নাম অপসারণ করা হয়ে গেছে যা সত্যি পুরো বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয় ।

কিছুদিন যাবত বাংলাদেশ পুলিশ / র‍্যাব রীতিমতো রেট দিয়ে দেশের কিছু পরিচিত মডেল নায়িকা, নারী পরিচালক ধরছেন । তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা মাদক গ্রহণ করেন, তাদের বাড়িতে এল এস ডি পাওয়া গেছে, তারা দেহ বিক্রি করে বাড়তি পয়সা উপার্জন করেন  । মডেল পিয়াসা, মৌ,নায়িকা পরীমনি সবাই এখন পুলিশের রিমান্ডে । আমার জানা মতে, রিমান্ডে নেওয়া হয় সে সমস্ত অপরাধীদের যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাদের উঠিয়ে নেবার পর পুলিশ মামলা করেছে বলেই আমি জানি । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, গ্রাম থেকে শামসুন্নাহার স্মৃতি কিভাবে ঢাকায় এসে এমন মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত হলো ? কারা তাকে এই পথে নিয়ে এলো ? কারাতার মিনি বারের খদ্দের ?

দেহ ব্যবসা সম্পর্কিত বিবিসির একটা খবরের উদ্ধৃতি দিতে পারি, নায়িকা হতে হলে পরিচালকরা / প্রযোজকরা কী ধরণের প্রস্তাব রাখেন ।

হলিউডে  নায়িকা  হবার  আশায় অভিনয় করতে এসেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এক তরুণী। বলিউডে নায়িকা হবার ইচ্ছা নিয়ে ভারতের একটি ছোট গ্রাম থেকে শহরে আসে মেয়েটি।

“অভিনেত্রী হতে চাইলে তোমাকে যৌন সম্পর্ক করতে হবে,” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সে অভিনেত্রী বলেন। সিনেমার শিল্পী নিয়োগ করে এমন একজন এজেন্ট তাকে যৌন নিপীড়ন করেছে।

ভারতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন অভিনেত্রী ঊষা জাদভ। সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি তাকে সরাসরি যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

“তুমি যদি এ ভূমিকা পেতে চাও তাহলে আমার সাথে শুতে হবে। আমাকে এমন কথা বলা হয়েছিল,” ঊষা জাদভ বিবিসিকে বলেন। সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

তার মানে আমরা ধরে নিতে পারি, যারা হর্তাকর্তাদের নিজ দেহ দান করতে রাজি হয়েছেন তাদের সঠিক মেধা না থাকা স্বত্ত্বেও ঠিকি ২০/২৫ টা সিনেমার কেন্দ্রিয় চরিত্র পেয়ে গেছেন । সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি –যারা মডেলিং করে, বিমানবালা হয়,যারা সিনেমা নাটক করে সেই মেয়েরা ভালো না । এই খবরগুলো অন্তত পক্ষে সেটাই বুঝিয়ে দেয় আমাদের । নায়িকারা দেহ ব্যবসা করছে –এমন তথ্য আমার কাছে অন্তত নতুন কিছুনা ।শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতে বা হলিউডে ভালোই চলে অভিনেত্রীদের দেহ ব্যবসা । অভিনয়ের পাশাপাশি যাদের নাম দেহ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে তারা হলো-  সায়রা বানু, কিন্নেরা, ভুবেনশ্বরী, আইশ আনসারী, শার্লিন, শ্বেতা বসু প্রসাদ । (সূত্রঃ বেঙ্গলি নিউজ ১৮) গুগল করলে মুম্বাইইয়ের খ্যাতিনামা অনেক না্যিকার নাম চলে আসবে ।

পিয়াসা মৌ পরীমনির ব্যাপারে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ধনীর দুলালদের তারা নাকি ট্র্যাপে ফেলেছে । সত্যি সেই ধনীর দুলালদের নাম আমাদের খুব জানতে ইচ্ছে করে, তারা কী ফিডার খান ? তারা জানেন না মধ্য রাত হলে এই মেয়েদের কাছে যাওয়া যাবে কী যাবে না ?  সেই ধনীর দুলালদের বাড়ী বাড়ি গিয়ে কি পিয়াসা মৌ অথবা পরীমনি  ধরে নিয়ে এসেছেন নাকি এই সুন্দরীদের তরতাজা শরীরের ঘ্রাণ নিতে মৌচাকের পেছনে মৌ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা ধরা পড়েছেন ? নিজের বিবাহিত স্ত্রীদের ঘরে রেখে কতিপয় কোটিপতি এমন সুন্দরীদের বড় বড় ফ্ল্যাটে বড় অংকে রাখেন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশী বিদেশী মদ সাপ্লাই করে জলশা ঘর বানান সেই আমলের বাদশাদের মতো  এবং অনেক দালাল আছে যারা আরো কোটিপতী কারো ব্যবসা ধরার জন্য এই মেয়েদের তাদের পেছনে লেলিয়ে দেন বাংলা সিনেমায় এমন চিত্র চোখে পড়ে  ।

তার মানে এই যে চক্রটি এর মধ্যে নারী এবং পুরুষ সমান ভাবে জড়িত  । কিন্তু জাতি কেবল পরিচালক রাজ নামে একজন পুরুষের নাম জানতে পারলো আর যারা আসল চালক মানে এই ব্যবসার পাইলট ; তাদের  নাম কোন ভাবেই প্রকাশিত হয় না । তারা ধনীর দুলাল বা শিল্পপতী এই সব বিশেষণেই আজীবন ঢাকা পড়ে গেল আর এই বোকা মেয়ে গুলো তাদের বিশ্বাস করে ধরা খেল ।

পরিশেষে, বাংলাদেশ বর্তমানে করোনা মহামারীতে অনেক কঠিন সমস্যায় জর্জরিত, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেকার সমস্যা ।  দেহ ব্যবসা বা গিভ এন্ড টেকের এই যে প্রথা চালু আছে দেশে এবং দেশের বাইরে এটা কেবল মিডিয়াতে না, অনেক করপোরেট অফিসে আছে, বসকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে বেশিরভাগ সুন্দরী মহিলাদের প্রমোশান হয় না ; মেয়েরা এই কথা বাইরে বলে না লোক লজ্জার এবং চাকরি যাওয়ার ভয়ে । করোণাকালীন সময়ে চাকরি পাওয়াতো অনেক দূরে অফিসে অফিসে কেবল লোক ছাটাই চলছে, ঘরে ঘরে বাড়ছে বেকারত্ব । মানুষ তার নৈতিকতা হারিয়ে পশুর চাইতে অধম হছে, দেশে ব্যবসা সফল ছবি নেই , শিল্পীরা বিনা চিকিতসায় মারা যাচ্ছে । এতো এতো সমস্যা জর্জরিত দেশে যখন টিভি বা ইউটিউব খুললেই কেবল পরীমনি আর পিয়াসা দিয়ে নিউজ ভরা থাকে সত্যি তখন চরম বিরিক্তি আসে নিজের মধ্যে । আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই, বেকারদের কর্ম সংস্থান চাই, গরীবের মুখে ভাত চাই, হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা চাই । একই গোলায় থেকে যদি দুই জন সমান অন্যায় করে, তাহলে বিচারটাও নারী পুরুষ বিভাজন না করে সমান দেখতে চাই ।

এই সুন্দরীদের গৃহে কারা যেতেন তাতো সিসি ফুটেজ ঘাটলেই বোঝা যায়, তারা যেসব হোটেলে পার্টি করেন সেসন জাঁকজমক অনুষ্ঠানের  বিল কার নামে হয় এটা জানতে পারা খুবই সহজ, আমাদের বিচক্ষণ আইন শৃংখলা বাহিনীকে এই ছোট্ট বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেবার ধৃষ্টতা আমার নেই । সঠিক ভাবে আইন প্রয়োগ করবার ইচ্ছেটিই যথেষ্ট ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *