প্রবাস বার্তা ২৪ ডটকম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: শাহজাহান চৌধুরীঃ সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ৪৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার ৪৮ সিন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাড়া-মহল্লা, বাসাবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
শনিবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ।
বিকেল ৩ টায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৭ দশমিক ৬৪ সিন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদ সীমার ৪৪ সিন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬ টায় সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদ সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর। ৭ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বিপদ সীমা ধরা হয়।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বাংলো, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পিটিআই, শহরের নতুনপাড়া, বড়পাড়া, বিলপাড়, নবীনগর, সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর, সুরমা ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এছাড়াও জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আমির শাহ জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ -তাহিরপুর সড়কের আনোয়াপুর এলাকায় সড়কটি ভেঙ্গে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সড়কের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকায়ও একইভাবে ভেঙ্গে গেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল হক জানান, জেলার ১১ টি উপজেলায় ৩ শত মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণায় থেকে ৫ হাজার পরিবারের শুকনো খাবার এসে সুনামগঞ্জ পৌছেছে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে, চিড়া, গুড়, চাল,ডাল, লবন, তেল, দিয়াশলাই, মোমবাতিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ১২ শত থেকে ১৪ শত টাকা হবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, শনিবার বিকেলে তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ার ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান ডিসি।
