আজকের প্রসঙ্গ ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশন


আজকের প্রসঙ্গ ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশন

ওল্ডহ্যাম কমিউনিটির কিছু মানুষের চিন্তা ভাবনা নিয়ে আজকের আলোচনা। গত ২রা জুন মঙ্গলবার চ্যাডারটন নর্থ থেকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত জনপ্রিয় কাউন্সিলার মোহন আলীর বিজয় উৎসবে উপস্থিত বক্তাদের চমৎকার কিছু মন্তব্য। মানুষ মানুষের জন্য, মানব সেবার চেয়ে বড় কোন সেবা পৃথিবীতে আছে বলে আমার জানা নেই।

হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা প্রসঙ্গে তাঁর জীবন যখন হুমকির সম্মুখীন তখন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “আমার বাঙ্গালীর কল্যাণের কাছে আমার মতো নগণ্য ব্যাক্তির জীবনের মূল্যই বা কতটুকু? মজলুম দেশবাসীর বাঁচার জন্য সংগ্রাম করার মতো মহান কাজ আর কিছু আছে আমি বলে মনে করি না”। কাউন্সিলার মোহন আলী তাঁর জীবনকে মানব সেবার জন্য বেঁছে নিয়েছেন ।

এখানে তার ওয়ার্ডের জনগণের কোন কাজই তাঁর কাছে ছোট নয় এবং গুরুত্বহীন বলে মনে করেন না। কোন লোক যদি মধ্যরাতেও ফোন করেন, পরের দিন মিছকল পেয়ে কল রিটান করে জেনে নিয়েছেন এবং বিরক্তি নয় বরং হাসি মুখে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে এসেছেন।

তিনি তাঁর বিগত টার্মেই এর প্রমাণ করে এসেছেন। উপস্থিত বক্তারা তাঁদের প্রতিটি বক্তব্যেই প্রশংসার ফুলঝুরি করে আসছিলেন। সত্য বলা বড় কঠিন, সবাই কিন্তু সত্য বলতে পারে না । কারণ সত্য কথা বললে অনেকের খারাপ লাগে এবং অনেকের প্রতিপক্ষ হতে হয়। আবার সত্য বলার জন্য সৎ সাহসের প্রয়োজন। উপস্থাপক জনাব শাহিনুল ইসলাম তাঁর সু-মধুর ও মার্জিত ভাষায় বক্তা আবিদুল ইসলামের বক্তব্যের প্রশংসা করেন।

তাঁর বক্তব্যের সুত্র ধরেই ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের ভোট বিহীন (অনির্বাচিত) আজীবন চেয়ারম্যান জনাব নজমুল ইসলাম লিজু বলেন, লেবার পার্টির সদস্য হয়ে যদি কেউ লেবার পার্টিকে ভোট দেয় না তাহলে এটা হবে লেবার পার্টির দলের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা।

এই অপ্রিয় সত্য কথা বলার জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এখন জনগণের সম্পদ ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশনকে তিনি বিগত বিশটি বছর ধরে জনগণের ভোটের ম্যান্ডেট না নিয়ে কাউন্সিলের টাকা লুটপাট করে চেয়ারম্যানের আসন দখল করে আছেন।

এখন জনগণের পক্ষ থেকে জনাব নজমুল সাহেবকে কোন ঘাতকতার টাইটেল দেওয়া যায়? জনাব নজমুল ইসলাম লিজু, আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, একটু নিরব হয়ে ভাবু্ন তু! যখন  কোন একজন আপনাকে সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যান বলে সম্বোধন করে এবং পিছনে আর পাঁচজন আপনাকে তিরস্কার করে, কোনটা আপনার কাছে বেশি সম্মানের মনে হয় ?

আপনিই বলুন ওল্ডহ্যামের প্রবীণ সম্মানী ব্যাক্তিবর্গ জনাব মরহুম মখসুদ আলী, জনাব মরহুম মোবাশ্বির খাঁ, জনাব মরহুম সমুজ আলী সাহেব ও সর্ব শেষ নির্বাচন ১৯৯৮ সালে জনাব আব্দুল মান্নান সাহেব তাঁরাও এই এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ছিলেন কিন্তু তাঁরা কি আপনার মত অনির্বাচিত ছিলেন ? আপনি কেন কোন স্বার্থে এই জনগণের সম্পদ দখল করে আছেন ?

তাহলে কি সত্যি কাউন্সিলের টাকা লুটপাট করে খাওয়ার জন্য ? হয়ত বলতে পারেন এখানেতো আর অনেকেই আছেন আমি শুধু আপনাকে কেন আঘাত করছি। আমি আপনাকেই আঘাত করব। আমার ছুট বেলায় একটি বাস্তব গল্প বলি। ফুটবল খেলার পাগল ছিলাম, আমাদের গ্রামের দক্ষিনের মাঠে প্রতি দিন বিকালে ফুটবল খেলতাম।

একদিন বিকাল বেলা স্কুল থেকে ঘরে এসে বই খাতা রেখেই খেলার মাঠে যাওয়ার জন্য বাড়ির উঠুন দিয়ে দৌড়াচ্ছি। আমার দাদা উঠুনে বসে তামাক পান করছিলেন, হঠাৎ দাদার হাতের লাঠি উঠিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, এই দাড়া! দাদাকে মুঠেই ভয় পেতাম না কিন্তু দাদাজীর এই ডাকে সত্যি সেদিন ভয় পেয়েছিলাম। দাদাজীর লাঠির দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললাম জি দাদাজী! দাদাজি এবার লাঠি নামিয়ে হাসি মুখে নির্ভয়ে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য বললেন।

কাছে যেতেই মাতায় হাত ভুলিয়ে বললেন, ভাত না খেয়ে খেলার মাঠে যাওয়া হবে না। বললাম খাব তবে এখন ক্ষিদে নেই । কিন্তু দাদাজি নাছুড় বান্দা তাই তাড়াতাড়ি হলেও খেতে হবে। মাকে ডাক দিয়ে বললেন ভাত নিয়ে আসার জন্য। দাদাজীকে বললাম আমি ঘরে বসে খাব কিন্তু না দাদাজীর আদেশ তাঁর পাশে বসেই খাওয়া শুরু হল।

ভাত খাচ্ছি আর সেই সুযোগে দাদাজীর ভাষণ শুনছি। দাদাজী বলছেন, তুমি যাহাই কর আমার আপত্তি নেই কিন্তু লেখাপড়া তুমাকে করতেই হবে। লেখা পড়া করে যদি গরুও রাখালি কর তবে সেই গরুও তুমার কথা শুনবে, অন্য মানুষের বেড়া ভেঙ্গে ধান খাবে না।

আর যদি লেখা পড়া না কর তবে গরুও তুমার কথা শুনবে না, অন্যের বেড়া ভেঙ্গে ধান খাবে। জনাব নজমুল ইসলাম লিজু, আপনাকে আমি সম্মান করি। আমি চাই এই কমিউনিটির মানুষও আপনাকে আজীবন সম্মান করুক।

বাংলাদেশ কালচ্যারেল সেন্টার এই ওল্ডহ্যামের জনগণ, তাঁদের নিজস্ব টাকায় খরিদ করেছিল এবং বড় করে বাংলা ভাষায় লিখা ছিল ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ কালচ্যারেল সেন্টার। আপনি ওল্ডহ্যামের বাহিরে যে কোন শহরে গেলে দেখতে পাবেন শুধু বাঙ্গালীরা নয় পাকিস্থানীরা উর্দু ও ইংলিশে পাকিস্থানী কমিউনিটি সেন্টার এবং ইন্ডিয়ানরাও তাঁদের সেন্টারে ও হিন্দিতে ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টার লিখে রেখেছে ।

কিন্তু অত্যান্ত লজ্জার ব্যাপার ওল্ডহ্যামে আমাদের পূর্ব পুরুষরা তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নের তৈরি নিজস্ব ভবনে বাংলায় লেখেছিলেন “ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ কালচ্যারেল সেন্টার”। আপনারা সেই লেখা মুছে কাউন্সিলের কাছে তুলে দিয়ে ম্যালিনিয়াম সেন্টার করেছেন। আমার প্রশ্ন এই সেন্টারের মালিক যে জনগণ তাঁদের অনুমতি কি নিয়েছিলেন?

জনগণের সম্পদ জনগণের পারমিশন না নিয়ে কাউন্সিলের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জনগণ আপনাদেরকে কি বলবে ? জনগণের সাথে এটা কি বেইমানী বা বিশ্বাস ঘাতকতা নয় ? সত্য কথা বলতে ভয় পাই না এবং সত্য বলার জন্য যদি কারু কাছে খারাপ হয়ে যাই তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

,

One response to “আজকের প্রসঙ্গ ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *