উইঘুর মুসলিমদের হত্যা করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করছে চীন: জাতিসংঘ


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের হত্যা করে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীও চীনা সরকারের এমন বর্বরতার শিকার বলে প্রকাশ পেয়েছে।

এ ঘটনাকে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতার সঙ্গেও তুলনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল।

ডয়চে ভেলে বাংলা জানায়, চীনের জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ খতিয়ে দেখতে গঠিত একটি ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ট্রাইব্যুনালের কাউন্সেল হামিদ সাবি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে (ইউএনএইচআরসি) জানান, “বহু বছর চীনজুড়ে জোর করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং আজও তা অব্যাহত আছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ফালুন গং-এর বন্দী এবং উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের এই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়, এতে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “শিকারের জন্য শিকার, মৃত্যুর জন্য মৃত্যু, হার্ট ও অন্যান্য অঙ্গ জীবিত অবস্থায় কেটে ফেলা-এর মাধ্যমে নির্দোষ ও নিরীহ মানুষ এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ গণ-অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।”

হামিদ সাবি বলেন, “জীবন বাঁচাতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন একটি বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বিজয়, কিন্তু এর জন্য দাতাকে হত্যা করা অপরাধ।’’

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মূলত তার্কিকভাষী উইঘুরসহ অন্য মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। গত শতকের ৫০ থেকে ৭০ দশকের মধ্যে সেখানে সরকারিভাবে হান চীনাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। তখন থেকে মুসলমান ও হানদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকে৷

ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বন্দী এবং ফালুন গং ও উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে তারা। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চীন সরকার সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর লোকদের হত্যা করে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে বিক্রি করছে।

বন্দী ও সংখ্যালঘু ছাড়াও জীবিত বা মৃত ব্যক্তির কিডনি, লিভার, হার্ট, ফুসফুস, কর্নিয়া এবং ত্বকের চামড়া বিক্রির জন্য অপসারণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ২০১৫ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের অঙ্গও তারা আর ব্যবহার করে না৷

আধ্যাত্মিক গোষ্ঠী ফালুন গংকে ২০ বছর আগে নিষিদ্ধ করা হলে এর ১০ হাজার সদস্য বেইজিংয়ে নীরব প্রতিবাদ করতে আসছিল। এরপর এদের বেশির ভাগকে জেলে পাঠানো হয়৷

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জেফ্রি নিস বলেন, “সরকার, জাতিসংঘ এবং এর সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা এটি প্রমাণের জন্য আর অন্ধ দৃষ্টি রাখতে পারবে না।”

সাবেক যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি স্লোবোডান মিলোসেভিকের বিচারের নেতৃত্ব দেওয়া প্রসিকিউটর নিস বলেন, “ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানের পর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

চীনা নাগরিকদের পাশাপাশি প্রচুর বিদেশি চীনে গিয়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন। লন্ডনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, “সরকারি বিধিবিধানে শর্ত রাখা হয়েছে মানব অঙ্গ দান স্বেচ্ছাসেবায় এবং বিনা অর্থে হতে হবে।”

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *