একাদশ শ্রেণী থেকে যেন একান্নবর্তি পরিবার—-


এম সি কলেজের সাবেক ছাত্রদের মিলন মেলা

প্রবাস বার্তা ২৪.কম বিশেষ প্রতিনিধি সেবুল চৌধুরীঃ হ্যাঁ হাঁটি হাঁটি পা পা আর স্বরে অ স্বরে বলে বলে যখন এক এক করে দশটি বৎসর পার করে একাদশ শ্রেণীতে পা রাখার মধ্যে দিয়েই আমাদের জীবনের আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হয়।

সকল ক্লাস মেইট তখন দোস্তে পরিনত হন। কলেজ জীবনের প্রথম দু’বছরকে যদি আলাদা ভাবে মূল্যায়ন করলে এককথায় বলতে হবে ছাত্র জীবনের স্বর্ণ যুগ। লেখা পড়ার পাশাপাশি, খেলা ধূলা, রাজনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব কিছুরই শিক্ষানবিস শুরু হয় ঐ সময়কাল থেকে ।

কালের কিংবা শিক্ষা জীবনের ধারাবাহিকতায় দ্বাদশ শ্রেণী অতঃপর এইচ এস সি ফাইনাল। তারপর চলে আসে অন্যধাপ।এই দোস্ত’রাই কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে,আবার কেউ কেউ জীবন জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমান ।

যে যেখানে যে অবস্থায়ই থাকেন না কেন, একাদশ/দ্বাদশ শ্রেণীর সেই স্মৃতিময় সুন্দর দিনগুলোর কথা কেউ কোন দিন ভূলতে পারেননি। যার বাস্তব উপলব্ধি পাওয়া গেলো ইস্ট লন্ডনে বারাকা রেস্টুরেন্টে ঐতিহ্যবাহী সিলেট এম সি ইন্টার মিডিয়েট কলেজের ৮৩/৮৪ ব্যাচের ছাত্র/ছাত্রীদের এক জম্পেড আড্ডা’র মধ্যে দিয়ে ।  প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর সেই দোস্ত দের চিনতে মনে হলো–চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা । তাই লিখার প্রারম্ভেই উদ্যোক্তা আব্দুল মালিক খোকন, আব্দুর রব খান নেওর, হিফজুর রহমান সহ সবাইকে কৃতজ্ঞতার সহিত ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেই সাথে একথা বলবো, আয়োজকদের চেনা গেলে ও দোস্ত খায়রুলকে চেনা ছিল অসম্ভব। দেখে মনে হয়েছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের দাদাভাই বলে খ্যাত সিরাজুল আলম খান, নীলমনিকে দেখে মনে হয়েছিল চাইনিজ পরিব্রাজক মাওসেতুঙের উত্তর সুরী, এক সময়ের কলেজ ক্যাম্পাসের দাপুটে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সুধেন সিংহাকে ও দেখে মনে হলো চীনা প্রতিনিধি ।

এক সময়ের ভালো ক্যারেম খেলোয়াড় জুনেদকে দেখে মনে হলো সিলেটের ঝারনার পর এলাকার আছি। মামু মুজাহিদ যেখানে যেমন সেখানেই তেমন । নাট্যকার তারেক চৌধূরী নাটক ছেড়ে দিলেও সংলাপ ছাড়া যাবে না?যাঁর সংলাপ ছিল দোস্তদের আড্ডার খোরাক।

তবে যা না বললেই নয় তা হলো – আমরা সবাই এত ঘনিষ্ঠ, এত আপন থাকার পর শারীরিক পরিবর্তনের জন্য একে অন্যকে চিনতে যেমন দেরি হয়েছে, কথাবার্তায় ও সাময়িক সমস্যা হয়েছে। যেমন একে অন্যকে তুই (আন্তরিক অর্থে)বা তুমি না বলে আপনি বলেই সম্বোধন করতে ছিলেন । এতে বাদ সাজেন সাজু।

সাজু’র মতে আমরা সবাই একান্নবর্তি পরিবারের সদস্য । আমরা সেই ‘দোস্ত ‘ অতীতে ছিলাম, বর্তমানে আছি, ভবিষ্যতে ও থাকবো। আডডার অন্যতম আকর্ষণ ছিল খাবার দাবার, যার কোনো কমতি ছিল না। চা-কপি থেকে শুরু করে গ্রীল, ভুনা মিট, ভুনা চিকেন, ডাল-ভাত থেকে শুরু করে ডিজার্ট কোন কিছুই বাদ পড়ে নাই ।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমাদের আরেক বন্ধু পল্লব চন্দ্র দেব ( অপু) হযরত শাহজালাল( রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরতবস্হায় বার বার টেলিকন্ফারেন্সের মাধ্যমে আড্ডায় অংশ গ্রহণ করে ।অনুরুপভাবে কুলাউড়া থেকে দোস্ত শাহজাহান ভিডিও কলিং করে আমাদের সাথে মিলিত হয়।

দোস্ত আডডার পরবর্তী স্হান হিসেবে সবার পছন্দ বৃটেনের দ্বিতীয় বাঙালী ঘনবসতি শহর নগর বার্মিংহাম ।বিকাল ছয় ঘটিকা থেকে শুরু রাত এগারোটা পর্যন্ত এ আড্ডা শেষ হয়ে ও যেন শেষ হচ্ছে না। বিশেষ করে খোকন, সাজু আমাদের ছাড়ছেন না ।

লন্ডন ইউস্টন রেল স্টেশনে পৌছে দিয়ে ও বলছেন থেকে যাও(রইজাও রেবা)দোস্ত । থেকে যাও। অবশেষে ট্রেনে বসে বসে লিখছি আর ভাবছি যে লিখার শেষ নাই। কত মুখ, কত নাম , কত কথা , স্মৃতিপটে রয়েছে ?অনেকের কথা বা নাম তাৎক্ষনিক মনে না হওয়ায় জন্য আমি নয়, আমার স্মৃতি শক্তি দায়ী। মাঝে মাঝে মনে হয় স্মৃতি বড় প্রতারক ।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *