ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের কুদ্স বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার জবাব সামরিক হামলার মাধ্যমেই দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিয়োজিত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানচি এই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আল-কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা যুদ্ধের বরাবর। মার্কিনদের এই সামরিক হামলার জবাব সামরিক হামলায় দেয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ড্রোন হামলা চালিয়ে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যুদ্ধ শুরু করতে নয়; বরং এটি থামাতেই ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
মার্কিনদের হামলায় দেশের শীর্ষ জেনারেল নিহতের হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরানের জনগণ। শুক্রবার রাতে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মজিদ তাখত বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধের শামিল।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এক শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাকে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সামরিক যুদ্ধ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে এরপর আমরা চোখ বন্ধ রাখতে পারিনা। এর প্রতিবাদে ইরান কী করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে? আমরা অবশ্যই নীরব থাকতে পারি না।
এই বিষয়ে অবশ্যই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। নিশ্চিতভাবেই এই হামলার প্রতিশোধ নেয়া হবে। সেটি হবে কঠিন প্রতিশোধ। সাক্ষাৎকারে শেষে তিনি বলেন, সামরিক হামলার জবাব সামরিক হামলা। কে, কখন, কোথায়, কিভাবে হামলার শিকার হবে সেটি পরবর্তীতে ভাবা হবে।
শুক্রবার ফ্লোরিডার বিলাসবহুল মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নিহত ইরানি সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, সোলাইমানি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার চক্রান্ত করছিল। কিন্তু আমরা তাকে শেষ করে দিয়েছি। যুদ্ধ থামাতে আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সবথেকে বড় শত্রু সোলাইমানি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে মূলভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে সামরিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডাও নির্ধারণ করে দিতেন এই জেনারেল।
গত মাসের শেষে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইরানের দিকে আঙুল তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ট্রাম্প বলেছেন, কয়েক বছর ধরে কয়েকশ মার্কিন বেসামরিক লোক ও সেনা সদস্যকে হত্যা, হামলার লক্ষ্যবস্তু ও আহত করেছে সোলাইমানির অধীন বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও তাদের নিষ্ঠুর কুদস ফোর্স। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিনদের ওপর হামলাও সোলাইমানির নির্দেশনায় হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের।
তবে তার এই দাবিকে অস্বীকার করেছেন মজিদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুক্তির সমর্থনে কোনো ধরণের প্রমাণ দেখাতে পারবে না। যদি তাদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে তবে সেগুলো প্রকাশ করুক তারা।
ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী
