এমসিয়ান মোহাম্মেদ সামাউন – ম আ মোশতাক


শিক্ষাজীবনঃ মোহাম্মদ সামাঊন ১৯৬৫ সালে সিলেট শহরের রায়নগর এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম  সৈয়দ আলী ও মাতা শাজাদী খাতুন। তিনি হাজী কুদরতুল্লাহ প্রাইমারি স্কুল নাইওরপুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন এবং রাজা জিসি হাই স্কুল থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি সমাপন করেন।

১৯৮৩ সালে তিনি সিলেট মুরারিচাঁদ ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮৫ সালে তিনি এইচ এস সি পরীক্ষা সমাপনী পর একই সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স কোর্সের জন্য ভর্তি হন। কিন্তু বিদেশ চলে যাওয়ার কারণে তিনি অনার্স কোর্স সমাপন করতে পারেননি। ১৯৮৬ সালে আগস্ট মাসে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে আসেন।

এখানে আসার পর তিনি ভাষা শিক্ষা নেন। ১৯৮৭ সালে কেনটে অবস্থিত ব্রমলি কলেজ অফ টেকনোলজি থেকে তিনি হাইয়ার ন্যাশনাল ডিপ্লমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনা করেন ।

কেন্ট শহরে তার খালা ও খালু থাকার সুবাদে তাদের নিকট থেকে অনেক সাহায্য ও সহযোগিতা পান। তিনি এদেশে আসার পর সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পেয়েও অর্থনৈতিক কারণে  মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিগ্রী কোর্সে ভর্তি হতে পারেননি।

২০১৪ সালে লন্ডনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস স্টাডিজ এর উপর দিয়ে ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবন: ১৯৯০ সালে তিনি বেকেনহাম এ অবস্থিত বেঙ্গল কুইজিন রেস্টুরেন্টে ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর সেখানে কাজ করেন এটাই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম চাকুরী। চাকরিতে থাকাকালীন সময়ে তিনি ন্যাশনাল হেল্প সার্ভিস ও সিটিজেন এডভাইস বুরুতে স্বেচ্ছাসেবী দুভাষি হিসেবে অনেকদিন কাজ করেন। এর পাশাপাশি তিনি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষক হিসেব কাজ করেন।

১৯৯৫ সালে নিজ উদ্যোগে একটি টেইকওয়ে ব্যবসার সাথে জড়িত হন। ২০১০ সালে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্যবসা বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তিনি কাউন্সিলে অটিজম স্টুডেন্ট এসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন।

২০১৮ সালে তিনি কেন্ট টেকনোলজি স্কুলের গভর্নর নির্বাচিত হন।

পারিবারিক জীবন: ১৯৯০ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তার সহধর্মিণী নাম মিসেস শাহনাজ বেগম। তিনিও অটিজম স্টুডেন্ট এসিস্টেন্ট হিসেবে চাকুরীরত আছেন। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর বর্তমানে চাকুরীরত আছে। দ্বিতীয় মেয়ে বায়ো সাইন্স এই বিষয়ে এই বছর গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করবে। তৃতীয় ছেলে জিসিএসইতে পরীক্ষা দেবে চতুর্থ জন বর্তমানে প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করছে।

শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা: এমসি কলেজের দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের সংগ্রামে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক ছিলেন বলে দাবি করেন এবং তিনি দুঃখের সাথে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বন্দ্ব থাকার কারণে অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিরাজমান সংকট নিরসন করা যায় না এর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী আদায় করতে হয়।

সামাজিক কর্মকাণ্ড: দেশে থাকাকালীন তিনি সেবক সংঘের সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি । তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা বিমান ব্যবহার করে তাদের অনেক অভিযোগ রয়েছে বিশেষ করে যাত্রী সেবার মান, টিকিটের মূল্য এবং পাশাপাশি সরাসরি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে যাহাতে প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন করে সে ব্যাপারে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি দুঃখের সাথে অনুধাবন করেন যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধুমাত্র নামে সিলেটবাসীকে বোকা বানানো ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মানে বিদেশি বিমানগুলো অবতরণ এবং উড্ডয়নের ব্যবস্থা করে দেওয়া না হলে এটা শুধুমাত্র একটি স্থানীয় বিমানবন্দর বলা চলে।

তাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই দাবি কে সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সাথে জোরালোভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি মনে করেন মানবতার সেবা মানুষের সাহায্য করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে একটি শ্রেষ্ঠ কাজ। মানব সেবার মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়া যায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি হাদিসের আলোকে বলেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বাধিক উৎকৃষ্ট যে মানুষের উপকারে আসে। মোহাম্মদ সামাঊন আরো বলেন, “আমি শুধু নিজেকে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইনা কারণ এর মধ্য দিয়ে সমাজ এবং জাতির কল্যাণ সাধিত হবে না”।

তিনি মনে করেন একটা সমাজের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশ এবং জাতি এগিয়ে যেতে পারে । এ ব্যাপারে তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি মনে করেন এর মধ্য দিয়েই ইহকাল এবং পরকালের মঙ্গল সাধিত হবে। তিনি বলেন মানব জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি এবং মানব জাতি হিসাবে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রত্যেকটি নর-নারীর একান্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলে তিনি মনে করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *