মোদী নিয়ে বিতর্ক, শ্রেষ্ঠ বাঙালি নিয়ে অভিযোগ


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ যখন শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী পালনের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তখন দুটি জিনিস তার ওপর কালো মেঘ হয়ে এসেছে। প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশেষ অতিথি করা নিয়ে বিতর্ক। তারপর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

প্রথমে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্ক। যে কথা বলছিলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ সাহিব আলম:

মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে মোদীর আসাকে নিয়ে হচ্ছে অনেক আলোচনা, সমালোচনা। এমনকি রাস্তায় নেমে মানুষকে আন্দোলনও করতে দেখা যায় । কিন্তু ব্যাপারটা কি এত ছোট ? আসলে আন্দোলনের মূল বিষয়টা হলো ‘এনআরসি’ । এনআরসি বাস্তবায়নের ফলে নাগরিকত্ব হারাবে পাঁচ লক্ষ ভারতীয় মুসলমান । এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পরবর্তী ভবিষ্যৎ কী?

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পরবর্তীতে যে ধাক্কাটা আমাদের ওপরই আসবে, সেই দিকগুলো মাথায় রেখেই মানুষ আন্দোলন করছে । আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ ক্ষমতাসীন দলকে যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটা কী তারা বুঝতে পারছে না ? নাকি শুধুমাত্র সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য বুঝেও না বোঝার ভান করছে ? যদি এমনটা হয়, তাহলে একটা রাজনৈতিক দলের জন্য তা হবে ভয়াবহ ক্ষতিকর।

আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় নির্মাণাধীন একটি ডিটেনশান সেন্টার, ২৯-০৮-২০১৯।
আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় এনআরসিতে বাদ পরা ‘বিদেশী’দের জন্য নির্মাণাধীন একটি ডিটেনশান সেন্টার।

ভারতের নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি যে বাংলাদেশকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিতে পারে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. আলম। তবে সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর বিষয়টা মুসলিমদের নিয়ে না। আসামে যে এনআরসি হয়েছে সেখান থেকে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে এবং তাদের মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু। অন্তত আসামের এনআরসিতে মুসলিমরা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।

যাই হোক, নরেন্দ্র মোদীর সফর এ’যাত্রায় হচ্ছে না যেহেতু ১৭ই মার্চের অনুষ্ঠানই স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফর করবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং এনআরসির মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে কোন না কোন সময় আলোচনায় বসতে হবে।

অন্যদিকে, আমাদের অনুষ্ঠান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং প্রশংসা আছে।

১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ যাবার পথে ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

এই জরিপের ফলাফলকে সাম্প্রদায়িক বলে বর্ণনা করে লিখেছেন কলকাতা থেকে স্বামী বিমলানন্দ:

বিবিসির জরিপে শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির যে লিস্ট তৈরি হয়েছে তা সাম্প্রদায়িক এবং কিছুটা রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে হয়েছে, মানবিক গুণাবলীর প্রতিফলন ভিত্তিক হয়নি। অংশগ্ৰহনকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ বাংলাদেশি এবং তার মধ্যে ৯০ শতাংশ মুসলমান। এই সিলেকশনে নিরপেক্ষতা নেই, যার ফলে অপেক্ষাকৃত উন্নত মনীষীদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে।

আপনার অভিযোগ আমার পক্ষে মানা সম্ভব না মি. বিমলানন্দ। এ’ধরণের জরিপে মানুষের পছন্দের প্রতিফলন ঘটে, তারা নিরপেক্ষ থেকে সে কাজটা করতে পারেন না। যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশি, সে কথা ঠিক, কারণ আমাদের অধিকাংশ শ্রোতা বাংলাদেশি। তবে ৯৫ শতাংশ একবারেই না। আর ফলাফলের দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখবেন ২০ জনের তালিকায় ১০জন মুসলিম, ৬জন হিন্দু, ২জন ব্রাহ্ম সমাজ, একজন বৌদ্ধ আর একজন কোন নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী নন।

তাহলে কী করে বলবেন এখানে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে? একই সাথে, ২০জনের মধ্য আটজনকে বাংলাদেশি বলা যেতে পারে। অন্যদিকে ১০জন ভারতীয়। আর অতীশ দীপঙ্কর আর লালন ফকিরকে আপনি কোন দেশের মানুষ বলবেন? কাজেই আপনার কথায় কোন যুক্তি খুঁজে পেলাম না।

পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন: শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সূচনা করেন।

ভিন্ন মত পোষণ করে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিলো এবং প্রচার হয়েছিলো সেই ২০০৪সালে। যখন আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের আশায় অবসর জীবন পার করছি। সেই সময়ই শর্টওয়েভে অনুষ্ঠানটির ঘোষণা আমি শুনেছি এবং সর্বশেষে অনুষ্ঠানটির প্রচার উপভোগ করেছি। আবছা আবছা মনে পড়ছে সেই অনুভূতিপূর্ণ অনুষ্ঠান শুনার দিনগুলোর কথা। হয়তো এই স্মৃতিচারণ করতাম না যদি না বিবিসি বাংলা পুনরায় ধারাবাহিকভাবে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ অনুষ্ঠানটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতো। সে জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে।

আপনাকেও ধন্যবাদ শামীম উদ্দিন শ্যামল, রেডিও অনুষ্ঠানের মত অনলাইনে টেক্সট পরিবেশনাও আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো।

মীর নিসার আলী তিতুমীর (শিল্পীর চোখে)
মীর নিসার আলী তিতুমীর

বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন:

বিবিসি বাংলার একটি বিষয় আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আর তা হল আপনারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম হয়েও, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী তিতুমীর সহ আরো অনেককে শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে অভিহিত করেছেন।নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে বলছেন। নাকি এই ব্রিটিশ এবং তখনকার সেই ব্রিটিশ আলাদা? যদি আলাদা না হয়ে একই হয় তাহলে বিষয়টা একটু অন্যরকম দেখাচ্ছে না? নিজেরাই নিজেদের বদনাম করছেন।

আপনি এখানে একটি বড় ভুল করছেন মি. হোসাইন। শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা আমরা তৈরি করি নি। ২০০৪ সালে রেডিও শ্রোতাদের মনোনয়নের ভিত্তিতে এই তালিকা , অর্থাৎ কারা এই তালিকায় থাকবেন, কে কোন স্থানে আসবেন, সবই ঠিক করেছে শ্রোতাদের ভোট, বিবিসি না। আর শ্রোতাদের পছন্দ যদি ব্রিটিশদের বিপক্ষে যায় তাতে কিছু আসে যায় না।

বিশ্বব্যাপী চলতি সপ্তাহেও সব চেয়ে বড় খবর ছিল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশেও একই অবস্থা। সবার মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভাইরাস সম্পর্কে জানার এবং পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার প্রবল আগ্রহ।

বাংলাদেশে শনাক্ত করোনাভাইরাস: প্রতিরোধে যা করবেন

করোনাভাইসের বিস্তার এবং বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হবার বিষয়ে লিখেছেন পঞ্চগড়ের বড়শশী থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

আমার মনে হয় করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিবিসি বাংলাই বাংলাদেশে বিদেশী গণমাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি জনসচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় যে সমস্ত তথ্যবহুল ভিডিও কনটেন্ট এবং প্রতিবেদন আপলোড করছেন আমি তা গুরুত্বের সহিত নিয়মিত দেখছি। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে রেডিও এবংওয়েবসাইটে আপনাদের পরিবেশনা আরো জোরদার করা উচিৎ।

আমি আপনার সাথে একমত মি. ইসলাম, করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ রয়েছে বিবিসির শ্রোতা-পাঠক এবং দর্শকদের মাঝে। ফেসবুকে আমাদের ভিডিওগুলো আপনার উপকারে আসছে জেনে ভাল লাগলো, এবং আশা করছি আগামী দিনগুলোতে করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের রিপোর্টিং আরো জোরদার করবো।

করোনাভাইরাস: মহামারি আসলে কী?

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে, এ খবরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কিত এ সব মানুষের অধিকাংশই জানেন না, কীভাবে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে, এবং কীভাবে এই ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। প্রীতিভাজনেষুর গত আসরে আমার মেইলএর উত্তর দিতে গিয়ে বিবিসি বাংলার সম্পাদক প্রসঙ্গ ক্রমেই জানতে চেয়েছিলেন, আমার এলাকায় করোনাভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তুলতে কোন কর্মসূচি দেখছি কি না? না, আমার এলাকায় সেরকম কোন উদ্যোগ আমার চোখে এখনো পড়েনি।

আমার মনে হয়, মানুষ তখনই সব চেয়ে আতঙ্কিত হয়, যখন তারা অসহায় বোধ করেন। অর্থাৎ ঘটনাক্রমে যখন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, যখন নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব থাকে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর যখন তাদের কোন ভরসা থাকেনা।

ঢাকা বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মনিটর করা হচ্ছে ।
ঢাকা বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মনিটর করা হচ্ছে ।

বাংলাদেশ সরকার যেভাবে এই ভাইরাস মোকাবেলা করছে, তাতে ভরসা রাখতে পারছেন না আহসান হাবিব রাজু, যিনি লালমনিরহাটের সুকানদিঘির বাসিন্দা:

কিছু দিন আগে ইতালি থেকে করোনা নিয়ে একজন প্লেনে করে বাংলাদেশে আসলো।তারপরে সেই লোকটি গ্রামের বাড়িতে গেলো এবং পরিবারের অন্য একজনকে আক্রান্তকরলো। বাংলাদেশে যে ৩জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে তাদের কাউকেই কিবিমানবন্দরে শনাক্ত করা হয়নি ? তারা নিজেরাই অসুস্থ হওয়ার পর হটলাইনে কলকরে জানায় তারা রোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে এয়ারপোর্টে থাকা ডাক্তাররা বসে বসে কী করছিলো সেদিন? তাহলে বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাস নিয়ে কি সর্তক নয়?

বিমান বন্দরে যে ব্যবস্থা আছে, সেটা করোনাভাইরাস শনাক্ত করে বলে আমার মনে হয় না মি. হাবিব। সেখানে যাত্রীদের শরীরের তাপ মাপা হয়, এবং কারো তাপ মাত্রাতিরিক্ত হলে তাকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়, প্রয়োজনে হাসপাতালে পাঠিয়ে করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করা হয়। যে দু’জন অসুস্থ হয়েছেন, হয়তো ইতালি থেকে আসার দিন তাদের কোন জ্বর ছিল না, যেজন্য এয়ারপোর্টে কিছু ধরা পড়েনি। হয়তো ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ বাসায় যাবার পরে দেখা দিয়েছে।

ঢাকার সপ্রিম কোর্ট ভবন, ০৪-০৫-২০১৮।
উচ্চ আদালত: জাতীয় স্লোগান নির্ধারণ করার এটাই কি উপযুক্ত ফোরাম?

এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে।

জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান বলে হাই কোর্টের আদেশ নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

জয় বাংলা কোন দলীয় স্লোগান নয়, এটা ১৯৭১-এর রণাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান ছিল। হয়তোবা এতদিন আওয়ামী লীগ এটাকে তাদের দলীয় স্লোগানবানিয়ে ফেলেছিল, যা তাদের উচিৎ হয়নি! বিএনপিও হয়তো এটাকে আওয়ামী লীগের স্লোগান হিসেবেই এখনও মনে করে। আমার কথা হলো, এটা আমাদের মুক্তির স্লোগান। তাই এটা নিয়ে কারো কোন দ্বিমত পোষণ না করাই ভালো। তবুও জাতীয় বিষয়গুলো জাতীয়ভাবেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এই সিদ্ধান্তটি সকলের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল।

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম। কোন্ শ্লোগান জাতীয় স্লোগান হবে, সেটা নিশ্চয়ই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এবং সেটা হাই কোর্টে কেন গেল সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। হয়তো এই বিষয়ে সবার একমত হবার সম্ভাবনা নেই, তাই আদালতের নির্দেশে চাপিয়ে দেয়া হবে।

দিল্লি দাঙ্গা: মসজিদ থেকে ফেরার পথে যেভাবে হামলার শিকার হন জুবায়ের

দিল্লির দাঙ্গার সময় একজন পিস্তলধারীকে নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়ে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে তৌসিফ আহমেদ ফায়সাল :

গত ৩রা মার্চ অনুষ্ঠানে দিল্লির রাস্তায় প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো শাহরুখকে গ্রেফতার করা হয়েছে শিরোনামে খবর পরিবেশন করে। সেখানে তার নাম বলা হয় মুহাম্মদ শাহরুখ। অথচ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে তার নাম পাওয়া যায় শাহরুখ চন্দ্রাল শুক্লা। কোন্ নামটা সঠিক?

আমরা যত দূর জানি মি. আহমেদ, দিল্লির সেই পিস্তলধারীর নাম মোহাম্মদ শাহরুখ। ভারতের কিছু কিছু পত্রিকায় খবর হয়েছিল যে লোকটি সম্ভবত চন্দ্রাল শুক্লা যার ডাক নাম শাহরুখ। কিন্তু কেউ সেটা নিশ্চিত করতে পারে নি এবং এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাকে মোহাম্মদ শাহরুখ হিসেবেই জানে।

আমাদের ফোন-ইন এবং অনুষ্ঠানের অন্যান্য পর্বে নারীদের প্রাধান্য অনেকের জন্য, বিশেষ করে বেশ কয়েকজন পুরুষ শ্রোতার বিরক্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

আমি ইদানীং লক্ষ্য করেছি আপনাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান ও প্রতিবেদনে নারী ভাষ্যকার, বিশ্লেষক ও সমালোচকদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। এটা এক ধরণের ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এটাও সত্য, নারীর সমঅধিকার বলতে আমরা বুঝি নারীর প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর প্রতি যেন কোন সহিংসতা না হয়, তাদের প্রতি যেন কোন সামাজিক অনাচার অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়া না হয় এবং পুরুষের মতো নারীরাও যেন প্রতিটি অধিকার সমানভাবে ভোগ করে ইত্যাদি।

কিন্তু ইদানীং ফোন-ইন সহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে নারীদের যে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তার মাধ্যমে কি নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? আপনাদের সর্বশেষ শ্রোতা জরিপ অনুযায়ী শ্রোতাদের কত শতাংশ নারী? আমার মনে হয়, শ্রোতা জরিপের তথ্য অনুযায়ী তাদের প্রাধান্য দিলে খুবই যুক্তিসঙ্গত হয়।

আমাদের অনুষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণের সাথে শ্রোতা জরিপ বা সংখ্যার কোন সম্পর্ক নেই মি. রহমান। এখানে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠারও কোন বিষয় নেই। বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এবং সেজন্য বিবিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সব কাজে নারী-পুরুষের মধ্যে ভারসাম্য অর্জন করতে হবে। ফোন-ইন আমাদের অনুষ্ঠানমালার একটি অংশ মাত্র, এবং আমরা গোটা অনুষ্ঠানে নারী এবং পুরুষ কণ্ঠের মধ্যে সমতা আনতে চাই। বহু বছর ধরে শ্রোতারা অনুষ্ঠান জুড়ে শুধু পুরুষ কণ্ঠ শুনে অভ্যস্ত, তাই হয়তো নারী কণ্ঠ অনেককে বিচলিত করে তুলছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতি মাসে আমাদের অনুষ্ঠানে যারা অংশ গ্রহণ করেন তাদের অর্ধেক যাতে নারী হন। বিবিসি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সমাজের অর্ধেক মানুষ যে নারী, আমাদের অনুষ্ঠানে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।

বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন বাগেরহাটের তৈমুর হোসেন:

গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেষুতে একজন শ্রোতা তার চিঠিতে ফোন-ইন অনুষ্ঠানে মহিলাদের বেশি অংশগ্রহণ নিয়ে লিখেছিলেন। আমি বিষয়টিতে বিবিসির সাথে একমত। কেননা গত সপ্তাহের ফোন-ইন অনুষ্ঠানের বিষয়টিতো বাচ্চাদের লেখাপড়ার বিষয়ে ছিল, সেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণ করাটা বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু আমি বেশ কয়েকটা চিঠিপত্রের অনুষ্ঠান পর্যালোচনা করে বলছি,মহিলাদের খুব বেশি চিঠি কিন্তু প্রীতিভাজনেষুতে পড়তে শোনা যায়না। আসল অবস্থা কি? মহিলারা কি চিঠি লিখছেন না, নাকি তাদের চিঠি অনুষ্ঠানের উপযুক্ত না হওয়ায় নেওয়া হয় না। বিষয়টা একটু বলবেন।

আপনার সাথে আমি একটু দ্বিমত পোষণ করবো মি. হোসেন। শুধুমাত্র বাচ্চাদের লেখাপড়ার বিষয় ছিল বলেই মহিলাদের অংশগ্রহণ করাটা বাঞ্ছনীয় ছিল না। যে কোনো বিষয়ে, সে হোক রাজনীতি বা অর্থনীতি, সব বিষয়ে নারীদের সমান অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয়। চিঠি-পত্রের আসরে আমরা হাতে গোনা দু’একজন নারীর অংশগ্রহণ দেখি, হাতে গোনা দু’একজন নারী চিঠি লেখেন। কিন্তু প্রীতিভাজনেষুর এই পুরুষ প্রাধান্য নিয়ে কিন্তু আমি কাউকে আপত্তি করতে দেখি না। সূত্রঃ বিবিসি

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *