নবাবজাদা এবং করোনা ভাইরাস – মোঃ কবির আহমেদ


২০২০ সালের শুরু থেকেই পৃথিবী ভুগছে করোনা নামের ভাইরাসে । চীনের উহান থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসটি আজ পৃথিবীর সবকটি দেশে মহামারী আকারে রুপ নিয়েছে ।

প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল চীনেই সবচেয়ে বেশী মানুষ মারা যাবে বা গিয়েছে । কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না কোন দেশে বেশী মানুষ মারা যাবে । তবে ইটালী এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে । পুরো ইউরোপ , আমেরিকা , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড , এশিয়া কেউ বাকী নেই ।

সেই তালিকায় আছে আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ । অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ আমাদের জন্মভূমি । স্বাধীনতার ৫০ বছর ছুঁই ছুঁই কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আজো আমরা বাংগালীরা ভোগ করতে পারি নাই । দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাংগালীদের উপর নেমে আসে বাকশালীয় খড়্গ ।

তারপর থেকে একে একে সামরিক জান্তা আর মসনদের ষড়যন্ত্র । গত কবছর ধরে চলছে গনতন্ত্রের ছায়াতলে অগনতান্ত্রিক সব কার্যক্রম বা একদলীয় শাসন ব্যবস্হা । বাংলাদেশে বিরোধীদল বলতে কিছু নেই আছে শুধু দালালদের দৌরাত্ম ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই কিছু কিছু মানুষ বিদেশমুখী হয়েছেন । তবে ৭৫ সাল পরবর্তী সময় থেকে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় । বিশেষ করে সিলেট এবং চট্রগ্রামের মানুষ খুব বেশী বিদেশমুখী হয় । এখন আস্তে আস্তে বাংলাদেশের এমন কোন প্রত্যন্ত অন্চল খুঁজে পাওয়া যাবে না — যে সেখানকার মানুষ বিদেশে নেই । তার কারণ দেশে মানুষের কাজের স্বল্পতা, রাজনৈতিক অস্হিতিশীলতা ইত্যাদি ।

বাঙলার এসব রেমিটেন্সজাদারা উজাড় করে বাংলাদেশে টাকা পাঠায় ।এই প্রবাসীদের আয় এত বেশী যে , বাংলাদেশের বাজস্বের সিংহভাগই এই রেমিটেন্সজাদাদের কাছ থেকে আসে ।দেশের সরকার ও এ নিয়ে গর্ব করে । কিন্তু তাদের কপালে সর্বত্রই জুটে তিরস্কার । বিদেশে যখন কাজ করে তখন বিভিন্ন ধরণের বৈষম্যের স্বীকার । আর নিজের দেশে যখন ফেরত আসে তখন ও বৈষম্যের স্বীকার ।

সাম্প্রতিক দেশে করোনা ভাইরাস নাকি সম্পুর্ণ দায় দায়িত্ব এই নবাবজাদাদের । কারণ তারা ইটালী , যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে কাজ করে । এবং বাংলাদেশের উন্নতিতে বলিস্ট ভূমিকা রাখে । সরকার এভাবে নবাবজাদাদের উপর দায় দায়িত্ব দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাড়িয়েছে ।

কিন্তু আমি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ঠিক তার উল্টোচিত্র দেখছি । মহামারীর করোনার এই সময়ে জার্মানির চ্যান্সেলার আন্জেলা মেরকেলের সরকার ৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জার্মানদের দেশে ফেরত এনেছে ।

 

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পৃথিবীর বিভিন্নস্হানে থাকা বৃটিশদের দেশে আনার ঘোষণা দিয়েছেন । কিন্তু এখানে দুই দেশের অভ্যন্তরে কেউ টু শব্দ উচ্চারণ করেনি ।কিন্ত আমাদের সরকার এবং জনগন বলছে সব দোষ প্রবাসীদের । সরকার বা নিজের আত্নীয়স্বজন রেমিটেন্স হাতে পায় তখন খুশীতে গদগদ করে । আর নিজের সমুহ বিপদের সময় যখন নিজগৃহে ফিরেছে তখন সবদিক থেকে তিরস্কার ।

উল্লেখ করা প্রয়োজন আমার রেমিটেন্স সহকর্মীরা নিজস্ব খরচে বাড়ী ফিরেছে । এর থেকে সরকার অবশ্যই লাভবান হয়েছে এয়ারপোর্ট ট্যাক্স সহ বিভিন্নধরণের রাজস্ব সরকারের তহবিলে গেছে । শুরু থেকে সরকারের উচিত ছিল এসব রেমিটেন্সজাদাদের ভালো হোটেলে রেখে কোয়ারাইন্টিনে নেওয়া আর কেউ যদি অসুস্হ হতো সরকারী খরচে চিকিৎসা দেওয়া । কিন্তু সরকার তা করেনি , আমার দৃস্টিতে সরকার প্রবাসীদের এই সেবা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ ।তবে এইসব ব্যর্থতা আর তিরস্কারের জবাব সংশ্লিষ্টরা একদিন পেয়ে যাবেন ।

কবীর, ইংল্যান্ড
২৫/০৩/২০

, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *