ভাইরাস বহন করা আর আক্রান্ত হওয়া এক কথা নয় – নজরুল কবির


করোনা ভাইরাস তিন (৩)ভাবে আপনার সাথে অবস্থান করতে পারে –

১) আপনি ভাইরাসটি বহন করছেন কিন্তু আক্রান্ত হননি : কোন বস্তুতে, কারো হাতে শরীরে বা পোষাকে লেগে থাকা ভাইরাস যদি আপনার কিছুতে স্পর্শ লাগে তাহলে সেখানেই ভাইরাসটি লেগে থাকবে।এ অবস্থায় আপনি যেখানেই যান না কেন আপনার অজান্তেই ভাইরাসটি আপনি বহণ করবেন। ভাইরাস লেগে থাকা ঐ অংশটি যেখানেই স্পর্শ লাগবে সেখানেও আবার লেগে যাবে।

সেটা আপনার বাজার ব্যাগ,গাড়ীর চাবি,গাড়ীর দরজা,চশমা,মোবাইল ফোন,ক্রেডিট কার্ড, টাকা পয়সা, ওয়ালেট,বাসার দরজা, বাথরুমের দরজার হ্যান্ডেল,কমোডের ফ্লাস,বেসিনের ট্যাপ,লাইটের সুইচ,পানির গ্লাস,প্লেট,কাপ কত কি হতে পারে।

আপনি বাসায় গিয়ে সামাজিক পরামর্শ অনুযায়ি সাবান দিয়ে হাত হয়ত ধুয়ে ফেললেন। আপনার অজান্তে হাতে বহন করা অদৃশ্য ভাইরাসটি মারা গেল।কিন্তু আপনার অজান্তে অন্যান্য জিনিসে লেগে থাকা ভাইরাসটির কথা আপনি জানলেন না কিন্তু আপনি ভাইরাসটি বহন করে এনেছেন ঠিকই।

সেটা পরিস্কার না করলে সেগুলো থেকে ভাইরাস আবার আপনার বা বাড়ীর সকলের মাঝে নানা স্পর্শের মাধ্যমে চলে যেতে বাধ্য।

২) আপনি ভাইরাসে আক্রান্ত কিন্তু তেমন অসুস্থ নন : যদি ভাইরাস লেগে থাকা জায়গা থেকে আপনার নাকে, মুখে বা চোখে চলে যায় তাহলে আপনার দেহের ভিতর তা সংক্রমিত হবে।
সংক্রমিত হলেই যে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন তা কিন্তু নয়।শরীরে সংক্রমিত হবার পর আপনার দেহ সৈনিকেরা বাধা দেবে।
আপনার দেহ সৈনিকেরা যদি বেশী শক্তিশালী হয় তাহলে ভাইরাসটিকে রুখে দেবে।আপনি হয়ত কিছুই টের পাবেন না।

নতুবা আপনার শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আপনি একটু অসুস্থ বোধ করতেও পারেন।কারন দুই পক্ষের যুদ্ধে শরীরের তাপ বৃদ্ধি পেয়ে হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে,সর্দি কাশি হতে পারে।
কতটুকু টের পাবেন বা অসুস্থ হবেন তা নির্ভর করবে আপনার শরীরের গার্ডদের শক্তি বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর।
এ পর্যায়ে আপনার উপসর্গগুলি কমে আসতে থাকবে।ডাক্তরের পরামর্শ অনুযায়ী বা ঔষধে আপনি হয়ত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

৩) আপনি যখন ভাইরাসে আক্রান্ত এবং অসুস্থ রোগী : আপনার শরীরের সৈনিকেরা যদি দুর্বল হয় তাহলে তারা সহজেই হেরে যাবে।ভাইরাস নিজের চতুর্দিকে ব্যুহ তৈরী করবে যাতে কেঊ তাকে পরাস্ত করতে না পারে! ভাইরাস শরীরকে কব্জা করেতে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটাতে থাকবে। শরীরে আক্রমন জোরদার করবে।

কোভিড-১৯ বা করোনা প্রধাণত: ফুসফূসকে অকার্যকর করে দিতে চায়। নি:শ্বাস নিতে বাধা সৃস্টি করে।ফলে অত্যধিক জ্বর,গলা ব্যথা,শ্বাস কস্ট, ডায়রিয়া এমন লক্ষনগুলো দেখা যায়। এছাড়া দুর্বল হার্ট ও কিডনী রোগাক্রান্তদের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।

এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হতে হয়। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। ভাইরাসকে পরাস্ত করার কোন ঔষধ নেই। নিউমনিয়া দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রয়োগের পাশাপাশি শ্বাস ক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য supportive treatment বা কৃত্রিম শ্বাস যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। বয়স ,শরীরের অবশিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার উপর নির্ভর করবে রোগীর আরোগ্যের মাত্রা কেমন হবে।

* সার কথা হল ভাইরাসকে আপনার অলক্ষে আপনি বহন করে আনার সুযোগ তৈরী করবেন না।

* আর যদি সংক্রমিত হয়েই যান তাহলে আপনার ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ব উপর নির্ভর করবে আপনার সুস্থতা

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *