হ্যালো…হ্যালো…হ্যালো..
মিষ্টার করোণা বলছেন?
হা বলছি, আপনি কে অসময় বিরক্ত করছেন?
জ্বী, আমি.. মানে আমি খুবই দুঃখিত আপনাকে অসময় বিরক্ত করার জন্য। তবে জানেনতো আপনার মহান আবির্ভাবে অভিভুত হয়ে আপনার সফর সম্পর্কে দু’একটি বিষয় মানুষকে জানানোর জন্যই অসময় দুঃসাহস করলাম ক্ষমা করবেন।
ঐ একটু বুঝে নেয়ার জন্য আর কি। জানেনইতো আমাদের মত হত দরিদ্রের দেশে আপনার আসা কি চাট্টিখানি ব্যাপার নাকি!
চারদিকে যে রকম হাড় কাপানো প্রস্তুতি দেখছি তাতে আমাদের যে আত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে জনাব।
আচ্ছা, সেই কথা!
রাগতস্বরে করোণা জিজ্ঞাসা করে, তা তুই কোন দেশ থেকে বলছিস বৎস?
জ্বী স্যার আমি বাংলাদেশ থেকে অত্যন্ত দরিদ্র নগন্য নির্যাতিত নিপীড়িত নিষ্পেষিত অবহেলিত নগন্য ছোমেদ আলী ছ্যাদা বলছিলাম হুজুর।
আবারও রাগতস্বরে, তা তোর পেশা কি? টাকা পয়সা চাইবি নাকি প্রচার করার জন্য? হুজুরের দয়ার শরীর, আমাদের একটু দেখে বুঝে নেক নজরে রাখলেই ধন্য হই জনাব। আর পেশা আমাদের সকলেরই প্রায় এক(?) পেশা। কি বললি! করোণা মহাশয় যেনো আৎকে উঠলেন!
হুজুর মা-বাপ আপনার আগমন অবস্থান এবং স্বেচ্ছা তিরধান সবকিছুই আমাদের প্রায় একই রকম সুযোগ করে দিবে আশা করছি। তাই আপনার কাছে কি সাহস করে কিছু চাইতে পারি?
তবে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা এখনই দিতে পারছি না। বোঝেনইতো আমাদেরওতো বিষয়টি বুঝে উঠতে হবে। দেখছেনতো আপনার আগমন উপলক্ষে কতদিন ধরে অফিস আদালত কাজ কারবার ভিক্ষাবৃত্তি থেকে উড়োজাহাজ সবকিছু কেমন বন্ধ হয়ে আছে, কবে যে খুলবে আর কিভাবে যে ক্ষতি পোশাবো আল্লাহই ভালো জানেন!
আচ্ছা বেশ বুঝলাম আল্লাহর নামতো ঠিকঠাক নিচ্ছিস, তা কি জানতে চাস শুনি?
কাপতে কাপত ছ্যাদু বলে, আপনি রাজি হয়েছেন আপাতত তাতেই ধন্য হয়েছি।একটি প্রশ্নপত্র তৈরী করে আপনাকে আবার মুঠোফোনে কল দেবো।
আচ্ছা, তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করিস না যেনো। তোদেরতো শুনেছি শিশু শ্রেনী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কাজের বুয়া নিয়োগ থেকে যত নিয়োগ ব্যক্তিগত আর রাষ্ট্রিয় কাজ হোক সবখানেই ফাসাফাসি ব্যবসা রমরমা তাই বললাম আর কি! কি যে বলেন হুজুর আপনাকে না বুঝে ঐ ভেঁজালে কি করে যাই! এ বলে প্রথম পর্ব শেষ হলো।
হ্যালো… হ্যালো… হ্যালো..
হ্যালো, কে…জ্বী মান্যবর করোণা, আমি ছ্যাদা..ছোমেদ আলী ছ্যাদা, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে। আচ্ছা আচ্ছা মনে পরেছে। তা প্রশ্নপত্র ঠিকঠাক তৈরী করেছ বৎস। হুজুর মা-বাপ, মোটামুটি আপাতত সাদামাটা একটি করেছি। বেশ, তবে বল কি জানতে চাস?
জনাব আপনি কবে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
জন্মেরতো বিরাট ইতিহাস তবে আবির্ভাব হয়েছে চীনের উহানে।
তবে কি আপনি চীনের নাগরিক?
ওরে ও ছ্যাদা তোর দেখি জ্ঞানবুদ্ধি খুবই সীমিত।তোদের এখানে বুঝি জ্ঞানের চর্চা হয়না। তবে মাঝে মধ্যে যে শুনি ক্ষনজন্মা সুশীল কেউ কেউ নাকি কত তত্বকপচানো জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলে আখের গুছিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরে বেরাচ্ছে?
কেউ কেউ শুনি চুরি ডাকাতি খুন লুটপাট করে সম্পদ পাচার করে বিদেশে নাকি আরাম আয়েসি জীবন যাপন করছে আর দেশেও বেশ মহাজ্ঞানী মহাজন হয়ে সাশিয়ে যাচ্ছে? শুনেছি ওদের পিত্রিপুরুষ অধিকাংশ নাকি দিনমজুর ছিল, না খেয়ে থাকতো!
আজ্ঞে আপনিতো দেখছি আমাদের গোড়ার খবর সবই জানেন। কোন অপরাধ নিবেন না যেনো, ইচ্ছা না হলে কষ্ট করে উত্তর দেয়ার দরকার নেই হুজুর।
আরে না-রে তোকে একটু বাজিয়ে দেখলাম ইতিহাস ঐতিহ্য কতটুকু জানিস।
শোন লক্ষ্য করেছিস নিশ্চয়ই চীন থেকে ২০১৯ ডিসেম্বরে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি ২১০ টি দেশে আমার অস্তিত্ব ঘোষণা করেছি। আকাশ মাটি পানি যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে সেখানেই আমি অবাধে গেছি। কেউ বাঁধা দিতে পারেনি এমন কি দেয়ার সাহসও দেখায়নি। এ মহাবিশ্ব আমার। আমার নির্দিষ্ট কোন দেশ নেই কোনো জাতীয়তা নেই। আমার কোন পাসপোর্ট ভিসার প্রয়োজন হয় না।
জনাব আপনি আপনি নিশ্চয়ই অনেক উচ্চ বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন, এই মানে খান, সৈয়দ, চৌধুরী, বন্দপাধ্যায় ইত্যাদি?
ওরে ছ্যাদা বংশে কি আসে যায় কর্মই বড়। তবুও এটুকু জেনে রাখ আমি ভাইরাস বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান করোণা। তবে আমি কিন্তু শেষ নই। যত দিন যাবে মানব জাত যদি ঠিক না হয় তবে ক্রমান্বয়ে আমার চেয়ে শক্তিশালী ভাইরাসের আবির্ভাব হবে।
তা বটে, তা বটে। তবে হুজুর কেন এমন আগ্রাসী বিধ্বংসী ভাব নিয়া আপনার আগমন?
ওরে ছ্যাদা মানুষের কর্মফল বুঝলি মানুষের কর্মফল। দেখিস না ১৯২০ সালের পর থেকে কত অপকর্ম করে করে আমার সহ্যের সীমা শেষ করেছে, তাই একটু দেখে গেলাম কেমন বাপের বেটা হয়েছে জগতের যত মানুষ!
বলতে পারিস আমি এবার প্রাক মূল্যায়ন করে দেখছি যে ভবিষ্যতে আর কত শক্তিশালী বংশধর পাঠাতে হবে নাকি আমি নিজেই পাইনেট করে সাইজ করতে পারবো।
জ্বী তা আর বলতে হবে না গুরুদেব। নিজ চোখেই সব দেখছি। ছ্যাদার হাটু কাপছে, দাঁত লেগে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে যেনো। সাক্ষাৎকার নিতে না এলেই ভালো ছিল যেনো। তবু ঈষ্ট নাম জপতে জপতে প্রশ্ন করে, ভাবে যদি এক চিন্তা চেতনার হয় তবে হয়তো একটু সুবিধা করা যাবে।
গুরুদেব আপনি কোন ধর্মের? বাহ্ চমৎকার প্রশ্ন করেছিস, তুইতো বাংলাদেশী তাই না? জ্বী মান্যবর।
হা, তা প্রশ্নের ধরন দেখেই বুঝতে পারছি। তবে শোন আমাকে বল দেখি, আকাশ, মাটি, আলো, হাওয়া, পানি, ফুল, ফল, গাছপালা, তরুলতা অর্থাৎ মানুষ ছাড়া অন্য সব প্রাণী কোন্ ধর্মের?
মাননীয় রাগ করবেন না, এমন ভাবিনি কখনো। আরে না, রাগ করিনি তবে তোর প্রশ্নের কারণে কিছুটা ভাবনার খোরাক দিলাম আর কি!আমিও সব ধর্মের আবার কোনো বিশেষ ধর্মেরও না।
দেখিস না সব ধর্মের লোকজনেরই জান কবজ করছি কেমন! দেখছো না, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ভুলে সবাই একসাথে দরজা জানালা বন্ধ করে কেমন এক হয়ে ফতুয়া দিচ্ছে! বলি কেতাবে এ কথাগুলো আগেইতো ছিলো তখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়নি কেন? সমাজে একটির পর একটি বিপর্যয় সৃষ্টি না করার সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ মানা হয়নি কেন? তোর প্রশ্নের উত্তরে সার্বিক বিচারে
বলতে পারিস আমি
ধর্মনিরপেক্ষ।
বেয়াদবি মাপ করবেন তবে আপনি গজব নাকি মনুষ্য সৃষ্ট সেটা যদি একটু পরিষ্কার করে বলতেন।
তুইতো দেখছি বেশ ফাজিল রে ছোকরা। এমন দার্শনিক আর রহস্যময় প্রশ্ন করার সাহস কেউ দেখায়নি। তবে এর উপযুক্ত জবাব দিতে একটু ভাবতে হবে আমাকে; আজ আর সে সময় হবে না। জরুরী অন্যদিকে যেতে হবে বলে কথা শেষ করতে যাচ্ছে অমনি ছ্যাদা পড়ি কি মরি হয়ে মাপ চেয়ে বলে মহাত্মন তবে পরে আমি কল দেব? আচ্ছা তাই ভালো বলে ফোন রেখে দেয় করোণা। (চলবে)।
(সংরক্ষিত)।
