|
করোনার যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ কতটা হিসেবের
আমি আমার হিসেব করেই বলছি
ভাইরাসে ছেয়ে গেছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
মরন-ছোবল গ্রাস করে গুণ থেকে গুনীতকে,
ধেয়ে আসছে রাক্ষস করোনা
মানুষের মানবতাকে ধ্বংস করতে
সমাজ প্রকৃতিকে পচিয়ে গলিয়ে চেপে ধরতে।
প্রথমের দিনটির কথা বেশ মনে পড়ছে
চিনে মহামারী সংবাদ দৃষ্টি সকলের সংবাদপত্র ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদে
চারপাশে আলোচনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাশের মিছিল বিদেশের মাটিতে।
দেশ দেশান্তরের আশ্রয়ে প্রবাসী মানুষ গুলোকে দেশে এনে পরিক্ষাগার
শুরু হোম কোয়ারাইন্টাইনে,
টেষ্ট হলো করোনা পজিটিভ নেগেটিভ
জানা গেলো মারাত্মক ছোয়াছে বিপদজনক ভাইরাস এটি
সংক্রামিত যে হয় তার আশপাশ সংক্রান্তামিত হয় ছড়িয়ে যায়, নাকে মাক্স ব্যাবহারের কতরকম হিড়িক।
শুরুতে জ্বর সর্দি কাশি গলাব্যাথা শ্বাসকষ্ট এভাবে চৌদ্দ দিন এরপর শারীরিক অবনতি শেষ পরিনতী মৃত্যু।
আমার প্রিয় দেশে পজিটিভ রোগী পাওয়া গেলো,
বন্ধ করে দেয়া হলো আস্তে আস্তে বাহিরের দেশের বিমান প্রবেশ,
বন্ধ হলো, বন্ধ হলো মাতৃভূমির বিমান, সড়ক, নৌ যান
বন্ধ হলো রেলপথ বন্ধ হলো সড়ক মহাসড়কে যান চলাচল।
শুরু হলো আতংক করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে লাগলো
করোনা খুঁজতে চিরুনি অভিযান সকল সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ, আমার প্রিয় শহর রংপুরে এর নামটাও নেই,শুধুই আছে আতংক,
গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুরে এক বিয়ে বাড়িতে
আমেরিকা প্রবাসীর দাওয়াত খাওয়া এরপর হৈচৈ পরিক্ষায় পজিটিভ।
লক করা হলো বাড়ি হোম কোয়ারাইটাইন চালু অফিস আদালত
টাইম বেধে দেয়া হলো নিদিষ্ট সময়ের
সময়টা বাড়তেই আছে, বাড়তেই থাকবে অদৃশ্য করোনা নির্মুলে
দোকানপাট বন্ধ, ঘর থেকে লোকজন প্রয়োজন ছাড়া বেরোবে না
রাস্তাঘাট শুন্য ঘরে ঘরে সকলে লক ডাউনে আছে।
বাজার থেকে হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড সেনিটাইজার,
সর্দি কাশি জ্বরে ঔষধ প্রায় শুন্যের কোঠায়।
এখন বাসায় বাসায় সকলে টেলিভিশনে
সারাদিন খবর, নাটক,সিনেমা, গান দেখতে ব্যস্ত
জীবন এখন শুধুই নেট নির্ভর।
বাড়িতে বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার ধুমপড়েছে কোথাও কোথাও
বাজার ভর্তি মানুষ আর মানুষ
অনিয়মটাই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে।
আমার সামান্য সামর্থ নিয়ে থাকতে পারিনি ঘরে
মানবতার সেবক সেজে বাসায়
এভাবে পড়ে থাকতে মন সায় দেয়নি কখনো
আমার যা আছে তাই নিয়ে নেমে পড়লাম মাঠে
জীবাণু নাশক স্প্রে, করোনা সংক্রান্ত সচেতনতা
প্রচার অভিযান শুরু হলো চলতে থাকে এপাড়া ওপাড়া
নিজের সহ কয়েকজন মানবতার সৈনিক
নিবেদিত মানুষের সহযোগিতায় কর্মহীন
খেটে খাওয়া দিনাতিপাত করা মানুষের
পাশে খাবার দিয়ে সহযোগিতার জন্য
এলাকার যুবকদের নিয়ে আমার এগিয়ে যাওয়া
দুইশত বিশ জনের ঘরেঘরে পৌছে দেয়া হয়েছে
চাল,ডাল,আটা, আলু, তেল,আরো কত কি।
যতোই দিন গড়াচ্ছে ততই মহামারি করোনার দাপট বাড়ছে।
মাননীয় নেত্রী ও বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত
অসহায় সকল শ্রেণির মানুষের মাঝে পৌছে দিতে ত্রাণ।
কেউ পায় কেউ পায়না লুটে খায় সব বাটপার।
আমি বলবো আমরা সকলে নিজেরা সচেতন হই
অন্যকে সচেতন করি।
জরুরি কাজ ছাড়া বাড়ির বাহিরে যাব না
আসুন সকলে প্রাণভরে আল্লাহকে ডাকি।
আমরা নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে, দেশকে ভালোবাসি।
তবেই একদিন আমরা করোনামুক্ত সুন্দর হাসি মাখা স্বাধীন পৃথিবী পাবো।
|
|
|
করোনামুক্ত স্বাধীন পৃথিবী চাই – নাসরিন নাজ
