ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা লকডাউন ঘোষণা জানাযায় শরিকদের হোমকোয়ারেন্টাইন সরাইলে ছয় গ্রাম নিচ্ছিদ্র লকডাউন


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজার ঘটনায় পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। পুরো জেলা লকডাউন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইল থেকেই বেশিরভাগ মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন ধারণা করে এই দুই উপজেলায় পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারি সবাইকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এরই মধ্যে সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানান। এরই মধ্যে সরাইলে ছয়টি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। গ্রামের কেউ যাতে বের হতে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন বেশি অংশ নিয়েছে ওই জানাজায়। ওইসব গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

যেন ওই গ্রামগুলোর লোকজন ঘর থেকে না বের হতে পারেন সেজন্য তাদের হোমকোয়ারেন্টিন করা হবে।’ তিনি জানান, ‘নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ছোট পরিসরে জানাজা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আমাদের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি।’

সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিন ইসলাম জানান, ‘মাওলানা জোবায়ের আনসারীর মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কোনও মাইকিং হয়নি। আমরা শুনিনি। মানুষ কীভাবে দলে দলে অংশ নিতে গেলো সেটা বলতে পারবো না।

ফেসবুক থেকে জেনে হতে পারে। তবে আজ শনিবার বিকাল ৫টার পর এই উপজেলার ছয়টি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। বেড়তলা, বলিবাড়ী, সীতাহরণ, শান্তিনগর, মইশার, টিঘর এই গ্রামগুলো লকডাউন হয়েছে।’

সরাইল থানার রিলিজ হওয়া ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, ‘জেলা লোকডাউনের পরও আলাদা করে এই ছয়টি গ্রাম লকডাউন করা হলো। এখান থেকেই বেশি লোক জানাজায় অংশ নিয়েছে। যেহেতু লোকজন লকডাউন উপেক্ষা করে বের হয়েছে এবং হচ্ছে, তাই এলাকা বিশেষভাবে লকডাউন করা হলো।

এখানে কারও কিছু প্রয়োজন হলে বা জিনিসপত্র কিনতে হলে তারা পুলিশকে জানাবে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কেউ ঘর থেকে এক মিনিটের জন্যও বের হতে পারবেনা।’

জানাজায় অংশ নেওয়া জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মো. মোবরক উল্লাহ বলেন, ‘রাসুল (সা.) প্রায় ১৪ শ’ বছর আগেই বলে গেছেন, যেখানে মহামারি সেখানে না যেতে, ঘর থেকে বের না হতে। যে কারণে ওই জানাজার জন্য আমরা মাইকিং করিনি লোকজন বেশি হবে বলে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনে অনেক লোক চলে আসে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়াঃ

মাওলানা জোবায়ের আনসারীর জানাজায় লকডাউন ভেঙে লাখো মানুষের সমাগমে জেলায় বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিবেককে কবর দিয়ে আবগকে প্রাধান্য দিয়ে যে কাজ করি, এটাই তার প্রমাণ। কারণ ধর্মীয় আদেশ ও সরকারি আদেশে লোক সমাগম নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও এতো লোক সমাগম কেন?’

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এতো লোক কি আকাশ দিয়ে এসে জমায়েত হয়েছে। ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন আর কিছু করার আছে বলে মনে হয় না। তারা (আইন শৃঙ্খলা বাহিনী) কোথায় ছিলেন। এটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পুরো ব্যর্থতা ও এ দায় তাদের।’

জেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘বর্তমান করোনাভাইরাসের কারণে দুইজনের বেশি লোকসমাগম নিষিদ্ধ। সেখানে হাজারও বা লাখো লোকসমাগম হওয়াটা জনস্বার্থের পরিপন্থী। ঘটনাটি বিব্রতকর ও বেদনাদায়ক।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, ‘উনারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) আমাদের বলেছিলেন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেটা তারা কেন করেননি তা খতিয়ে দেখা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *