প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: মালয়েশিয়ায় বিদেশীদের দ্বারা পরিচালিত তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিলগালায় বিপদে পড়েছে বাংলাদেশিরা । সেই সাথে রাজধানী কুয়ালালামপুর ও বিদেশী অধ্যুষিত জহর । বারুরতে দেওয়া হয়েছে নােটিশ ।
ইতিমধ্যেই সেদেশের সব থেকে বড় পাইকারি কাঁচাবাজারে বিদেশি অভিবাসীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং সেখানে স্থানীয় নাগরিকদের কাজ করার জন্য লােভনীয় XPA বেতনের ঘােষণা দেয় সেদেশের সরকার ।
মালয়েশিয়ায় করােনা সংক্রমণরােধে ১৮ মার্চ থেকে বিধিনিষেধ আরােপ করে সরকার । চলমান লকডাউনের মধ্যেই গত ৪ মে থেকে শর্তসাপেক্ষে নিত্যপ্রয়ােজনীয় পণ্যের দোকান ও শপিংমল খােলার অনুমতি দেয়া হয় । তবে একই সময় অভিযান শুরু করে বিদেশিদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলােতে , যা করােনার এ দুর্যোগকালে কোনােভাবেই কাম্য ছিল না ।
আকস্মিক এ অভিযানে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন । মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া । বৈধ – অবৈধ মিলিয়ে সেখানে প্রায় ৮ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন । যাদের বড় অংশই শ্রমিক । অনেকেই ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত । অরেকটি অংশ , যারা সেকেন্ডহােম ও বিজনেস ভিসা নিয়ে ব্যবসা করছেন ।
সরকারের কঠোর সিদ্ধান্তে এরই মধ্যে শিলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৩ শতাধিক বাংলাদেশির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । এ ছাড়া রাজধানী কুয়ালালামপুর ও জহুর বারু সিটি কর্পোরেশন বিদেশিরা ব্যবসা পরিচালনায় জারি করেছে নিষেধাজ্ঞা । আর এ সময় গ্রেফতার হয়ে যারা কারাগারে আছেন , তাদের কালাে তালিকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে । রাজধানী কুয়ালালামপুরের প্রাণকেন্দ্রে লইয়াট প্লাজা ।
কুয়ালালামপুরের প্রাণকেন্দ্রে লইয়াট প্লাজা । ইলেকট্রনিক্স ও আইটিসামগ্রীর এ মার্কেট সারা মালয়েশিয়াতে সুপরিচিত । এ মার্কেটে প্রায় সাড়ে ৫ শ ’ ইলেকট্রনিক্স দোকান ও আইটি সামগ্রীর শাে – রুমের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকান রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি । দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন বাংলাদেশিরা ।
তবে মার্কেটটিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভালাে চোখে দেখছে না অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরা । মার্কেটের ম্যানেজমেন্ট চলমান করােনা প্রতিরােধে বাংলাদেশি শ্রমিক ও মালিকদের রীতিমতাে বিভিন্ন শর্তের জালে আটকে রেখেছে ।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের প্রধান দাতুক খায়রুল দাজায়মি দাউদ স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন , কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় বিদেশি অভিবাসীরা ব্যবসা – বাণিজ্য খুলে পরিচালনা করছে , যা অভিবাসন আইনে অবৈধ । তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে ।
১০ জুন থেকে সেদেশে সব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খােলার ঘােষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মহিউদ্দিন ইয়াসিন । কিন্তু বাংলাদেশিদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ( বিশেষ করে । দোকান ) বহু দোকান খােলার অনুমতি পাচ্ছে না তারা । তবে যারা সেদেশের নাগরিকদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাদের স্ত্রী’রা যদি সবসময়ই দোকানে উপস্থিত থাকে তাহলে সমস্যা থাকছে না । কিন্তু যেসব বাংলাদেশি স্থানীয় নাগরিকদের নামে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করছে তারা রয়েছে । বেকায়দায় । |
