প্রবাসীদের চোখে লকডাউন–পরবর্তী ‘নতুন’ নিউইয়র্ক


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক : : নির্মাণ খাতসহ জরুরি সেবা ও খুচরা পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও পার্লার চালু হয়নি বলে এখনো কাজে ফেরা হয়নি কান্তা কবিরের।নিউইয়র্ক নগরী লকডাউন করা হয়েছিল ২০ মার্চ।
দীর্ঘ ৮০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৮ জুন নতুন করে খোলা হয়েছে নিউইয়র্ক নগর। খুব দ্রুত নিউইয়র্ক আবার নির্ঘুম ও ব্যস্ত নগরী হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন নগরবাসীরা। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো মনে করছেন, খুব দ্রুত এই নগর সচল হয়ে উঠবে। কিন্তু কী মনে করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা?

ব্রুকলিনের নেভি ইয়ার্ডে দেওয়া এক বক্তব্যে সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ কাজে ফিরেছে। সবাই সুরক্ষা নীতি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজ করলে আমরা খুব দ্রুত এই নগরী পুনর্নির্মাণ করতে পারব।’

নির্মাণ খাতসহ জরুরি সেবা ও খুচরা পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও পার্লার চালু হয়নি বলে এখনো কাজে ফেরা হয়নি কান্তা কবিরের।

আশি দিনের লকডাউনের পর চালু হওয়া নগরী সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমে নিজের কর্মক্ষেত্রের কথাটিই বললেন জ্যামাইকার কুইন্স হাসপাতালের সহকারী নার্স সীমা সুস্মিতা। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা কম।

আমাদের ৯০ সিটের এই হাসপাতালে লকডাউনের আগে গড়ে ১১০ জন রোগী আসতেন। আজ (৮ জুন) মোট আসনের অর্ধেক সাধারণ রোগী এসেছেন। সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু হরেছে। করোনা সন্দেহে আজ এসেছেন চারজন রোগী।

বাইরে থেকে সহযোগিতা করতে আসা ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন সেবাকর্মীরাও ফিরে গেছেন। করোনা রোগী এলে তাদের এখন স্বতন্ত্র আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানালেন কুইন্স হাসপাতালের সহকারী নার্স সীমা সুস্মিতা।এলমহার্স্ট এলাকার অধিবাসী রত্না দাশ।

সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানালেন কুইন্স হাসপাতালের সহকারী নার্স সীমা সুস্মিতা। তিনি লকডাউনের আগে ট্যাক্স ফাইলের কাজ করতেন। রত্না বললেন, ‘অফিস থেকে এখনো কাজের জন্য ডাকেনি। আমার স্বামী সুজন দত্ত কাজ করতেন ডাউন ম্যানহাটনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে।

সারা আমেরিকায় বিক্ষোভ এবং করোনার কারণে সৃষ্ট বাস্তবতায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে আমরা আজ বের হয়েছিলাম। আমার দু বছরের ছেলের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে। জ্যাকসন হাইটসে ব্যাংকেও গিয়েছিলোম। সেখানে মানুষ আর মানুষ।’

ব্র্ঙ্কস এলাকার একটি পার্লারের কর্ণধার কান্তা কবির বলেন, ‘নিউইয়র্কে দৈনিক মৃত্যুর হার ৫০ জনের নিচে নেমে এসেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার ১০০ জনের নিচে নেমে এসেছে, যা নিউইর্য়কবাসীকে স্বস্তি দিচ্ছে। গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর ঘোষণামতে, প্রথম পর্যায়ে অতি জরুরি সেবাসমূহ চালু করেছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে স্বল্প জরুরি এবং নির্মাণ খাত খুলছে। আমি পেশায় একজন কসমিউটোলজিস্ট। যখন জানলাম নিউইর্য়ক সিটি রিওপেন হচ্ছে। খুবই আশাবাদী হলাম যে আমার বিউটি সেলুনটিও খুলতে পারব। কিন্তু কিছু দিন আগে সিটি থেকে জানানো হলো, আপাতত পুরুষের সেলুন খোলা হবে।

পর্লার কিছু দিন পর খোলো হবে। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের সার্ভিসের নতুন নীতিমালা পেয়েছি। তারপরও ভালো লাগছে যে, আমরা আগের মতো আর আবদ্ধ নই।’

অফিস থেকে এখনো কাজের জন্য ডাক পাননি রত্না দাশঅফিস থেকে এখনো কাজের জন্য ডাক পাননি রত্না দাশকুইন্সের অধিবাসী ট্যাক্সিচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এত দিন বাসার থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। জানতাম কাস্টমার পাব না, তবুও বের হয়েছিলাম।

পুরো নগরী ঘুরে ঘুরে দেখছি। এ যেন এক নতুন নিউইয়র্ক। প্রচুর মানুষ নগরীর আনাচে–কানাচে ঘুরছে; কিন্তু কোনো কাস্টমার নেই।

সন্ধ্যা হয়ে গেল ট্যাক্সির ভাড়াও তুলতে পারিনি। আরও যে কত দিন লাগবে সব স্বাভাবিক হতে কে জানে!’

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত ২০ মার্চ থেকে আরোপিত লকডাউনের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া নগরী প্রথম ধাপে খুলেছে ৮ জুন।

প্রথম ধাপে খুলেছে নির্মাণকাজ, ম্যানুফ্যাকচারিং, দোকানের বাইরে থেকে মালামাল ওঠা-নামা ও খুচরা ব্যবসা। সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলি ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে।

এদিকে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে জারি করা কারফিউ একদিন আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তোফাজ্জল লিটন, নিউইয়র্ক


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *