“ভালোবাসা বেঁচে আছে” – ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি 


হায়, কী দেখার, কী দেখছি, কী শোনার, কী শুনছি! একটি মেয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সে এখন একা। তার আপন বলতে ওই বাঁশে ঝোলানো দেহটা।
দেহটা পড়ে ছিল বহু ঘণ্টা, কেউ তাকে ধরেনি, দেখতে আসেনি, কেউ মেয়েটির জন্য দুফুটো চোখের জলও ফেলেনি।
তার জন্য জোটেনি মসজিদের খাঁটিয়া। সে অবহেলিত, ঘৃণার পাত্রী। সে এখন অনেক দূরের যাত্রী। যাওয়ার আগে, শুধু, সবার মুখে থুতু ছিটিয়ে গেল। হাসপাতালে স্ত্রী স্বামীকে ফেলে পালিয়েছে।
কখনো দেখা গেছে হাসপাতালের গেটের সামনে এক অসহায় স্ত্রীর আকুতি। ছেলেমেয়েরা মাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে এসেছে। জানাজায় কেউ আসছে না। মসজিদ কমিটি খাটিয়া দেন না! স্ত্রী কাউকে পান না।
স্বামীর মুখাগ্নি করতে হয় অসহায় জজ স্ত্রীকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে তালা মেরে আটকে রাখলেন স্ত্রী ও সন্তানেরা। পানি চেয়ে চিৎকার করে রাতে মারা গেলেন, আহ কি কষ্ট! আরও কত কত হৃদয় বিদারক খবর!
ছবি কথা বলে। ভালোবাসা মরে নাই। কোভিড–১৯! করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। খারাপ খবর শুনতে শুনতে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়।
কিন্তু অনেক সময় কিছু কিছু ছবি দেখলে মনে হয়, ভালোবাসা এখনো মরেনি। একজন করোনা আক্রান্ত বাবার শ্বাস নিতে সারা রাত বুকের ওপর বাবাকে রেখে সন্তান ঘুমিয়ে পড়েছেন। আরেকজনকে দেখা গেল, শ্বাস নিতে সহায়তা করতে বাবা সন্তানকে বুকের ওপর উঠিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। করোনা চলে যাবে একদিন। তখন ওই ছবিগুলোই কথা বলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *