বিড়ম্বনা – গোলাম কিবরিয়া


সবার সাথে তাল মিলে নিজের টাইম লাইনে রকমারি পোস্ট দেই। আপনাদের মতো আমি বিশ্ব বিদ্যালয়ের বারান্দায় যাওয়ার ভাগ্য ছিলনা। তবে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত। ইহাই আমার গর্ব। এই গর্ব করার পিছনে যাদেরকে স্মরণ করতে হয় প্রথমে পরলোকে চলে যাওয়া সেই মাতা -পিতা । তারপরে যাদেরকে স্মরণ করতে হয় সেই পাঠশালার শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে শুরু করে কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের।

সেই লেখাপড়া করার সুবাদে আমার মনের ভাব,জ্বালা’যন্ত্রনা লিখে পোস্ট করি। অনেকের আঁতে ঘা লেগে যায় সত্য কথা লেখার জন্য। মনে রাখা দরকার ছাত্র জীবনে যতটুকু তালিম পেয়েছিলাম তা দিয়ে লিখি। আজ থেকে ৩৬ বৎসর আগে কাগজ কলম ছেড়ে কাগজের তৈরী ডলার,পাউন্ড হাতাহাতি করতে নেমে যাই।

৯ বৎসর ধরে ফেসবুক চালাতে গিয়ে অনেকের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। শুধু পরিচয়ের মধ্যে থেমে যায় নাই। গড়ে উঠে শ্রদ্ধা, ভালবাসার এক রাজ্য। লেখা লেখি করতে গিয়ে অনেক সময় বানান অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভুল করে ফেলি। সেই ভালবাসার মানুষ গুলো চুপচাপ করে মেসেঞ্জারে শুদ্ধ বানান পাঠিয়ে দেন। কপি পেইস্ট করে লেখার সৌন্দর্য্য বাড়ানোর সহায়তা করে। সে জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

আমার মতো অনেকে লিখেন বাংলায়। অশুদ্ধ বানানে ভরপুর থাকে। সাহায্য করতে গেলে সুন্দর চোখে দেখেন না। অনেকের চোখে ধূসর হয়ে যাই। কথা হলো ১০ জানের সামনে লজ্জা পাওয়ার চেয়ে একজনের কাছে লজ্জা পেলে ক্ষতি নাই। হ্যাঁ আমার ফেসবুকের বন্ধু মানে হলো আমরা একে অন্যের শুভাকাঙ্ক্ষী। অনেকে আমার মতো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে না পারেন।

তবে অনেকেই সহযোগিতা পাবার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পান না। হৃদয়টা ভরে যায় যখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসেঞ্জারে বার্তা দেখে। কেউ নামাজের সময় আমার জন্য দুই হাত তুলে রাব্বুল আ’লামিনের কাছে দোয়া করেন।

আবার অনেকেই আছেন ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বানান শুদ্ধ করে কমেন্ট বক্সে তালিম দেওয়া শুরু করেন।সামাজিক শিষ্টাচারের তালিম হয় নাই ছোট বেলায় ইহাই প্রমাণ করে। তালিম পাবার একমাত্র স্থান হলো প্রাথমিক পাঠশালার শিক্ষক শিক্ষিকা, আপন মা – বাবা । আসুন আমরা একে অন্যকে শুদ্ধ করে লেখতে সাহায্য করি। কথা আসতে পারে আমি কেন অন্যের চোখে তৈল দেই? একটা কারণ লোকজনের কাছে যেন হাসির পাত্র বা পাত্রী না হোন।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *