দৈনন্দিন জীবনে ‘নিয়ম’ নামের শব্দটি আজ বই পুস্তক, লেখালেখি বা গলাবাজি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। প্রথমেই ধরা যাক একটি স্কুলগামী শিশুর কথা। সকাল বেলা মা,বাবা অথবা আয়ার হাত ধরে ৪/৫ বৎসরের একটা শিশু সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই হাতমুখ ধুয়ে তাড়াহুড়ো করে নাস্তা করে একগাদা বই ব্যাগে ঢুকাতে হয়। অনেক শিশুর ওজন ঐ বইয়ের ব্যাগ সম প্রায়। যেখানে এটা নিয়ম বহির্ভূত। বহির্বিশ্বে অবুঝ শিশুরা এই বোঝা বহন করতে হয়না।
আসুন বিয়ে শাদির কথায়। অলিখিত যৌতুক প্রথা আজ সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যমান পরিলক্ষিত। ইসলামে বিয়ে একটি পূণ্যের কাজ। যদি তা’ শরিয়ত মোতাবেক হয়। আজকাল আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোত গিয়ে যে বেহায়া বেলেল্লাপনা দেখি তা’কি নিয়ম মাফিক না অনিয়মের খাতায় যায়?
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি থেকে শুরু করে ছাত্র ছাত্রীরা অধ্যায়নকালীন সময় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য। এরপর প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেজুড় ভিত্তিক রাজনীতির উটকো প্রভাবে কত তাজা প্রাণ ঝরে যায়। আবার অনেকে বিকলাঙ্গ জীবন যাপন মেনে নিতে হয়। তথাকথিত প্রগতিশীলতার নামে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন নেশার অন্ধকারে, ক্যাডারের খাতায় চলে যায়।
সামান্য অসুখ নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান, মনে হবে আপনি আসামি। প্রেসকিপশান নয় যেনো বিচারের রায়, জরিমানা সহ সশ্রম কারাদণ্ডের হিসাব নিকাশ। আর এই অনিয়মই এখন নিয়ম মনে করে আমরা মেনে চলেছি। রাষ্ট্রের বা জনগণের সেবক হিসাবে সরকারি কর্মকর্তারা (বেশীর ভাগ) এমন ভাব দেখান বা এমন ব্যবহার করেন সাধারণ জনগণের সাথে, মনে হয় তারা সবজান্তা।
আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয় অফিস পাড়ায় ‘ক্যাডার নন ক্যাডার’ একটি মারাত্মক দুরারোগ্য ব্যাধির মত ছড়িয়েছে। অফিস পাড়ায় কাজের চেয়ে মোসাহেবিই চলছে বেশী। সরকারি কাজের গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে পারিবারিক কাজে। বড় কর্তার সাক্ষাৎ পাওয়া আর ডুমুরফুল দেখা সমতুল্য। ঘুষ বা স্পিডি মানি এটাতো অপেন সিক্রেট ডালভাত ন্যায়। একমাসের কাজ এক বৎসরেও হয়না ।
চাকরির বাজারের অবস্থা, সকল যোগ্যতা থাকার পরও মামা, চাচা, খালু, এমপি, মন্ত্রী, স্পিডি মানি, রাজনৈতিক পরিচিতি বা প্রেসার ছাড়া চাকরি পাওয়ার আশা করাটাও যেনো অপরাধ! এই অনিমের বাজার থেকে নিয়মের বাজারে আসার কি কোন উপায় নাই?
