প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ম আ মোশতাক :: আজ ৫ই আগষ্ট। স্বাধীনতা পূর্ব সিলেটের ছাত্র রাজনীতির উজ্বল নক্ষত্র, ৬ দফা ১১দফা আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা, মহান মুক্তি সংগ্রামের বীর সেনানী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ’র সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম জননেতা আখতার আহমদের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী। আজীবন সংগ্রামী, ত্যাগী, সৎ সাহসী, নির্ভীক, নির্লোভ এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। পাশাপাশি আজকের প্রজন্মের ঞ্জাতার্থে মরহুম আখতার আহমদের বর্ণাঢ্য কর্মময় ও রাজনৈতীক জীবনের কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে সিঙ্গাপুরের এক যুদ্ধ বাঙ্কারে ১৯৪৩ সালের ২৪ জুলাই তাঁর জন্ম। তার দেশের বাড়ী বলাগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামে। ৩ভাই ৩বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার পিতা মরহুম আসলাম ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর একজন যুদ্ধা। মাতা মরহুমা হামিদা বানু ছিলেন সফল গৃহিনী। আবার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি বেড়ে ওঠেন।
৫২র ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে আখতার আহমদের রাজনৈতীক জীবনের সুচনা। তার পর ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২সালে গনবিরোধী শিক্ষা নীতির বিরোদ্বে আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ নেন। তৎকালিন সময়ে সিলেটে আয়ুব খানের বিরোদ্বে বিখ্যাত জুতা মারা আন্দোলের নেতৃত্বে ছিলেন অখতার আহমদ।
ষাটের দশকে প্রখ্যাত ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে যে নিউক্লিয়াস গঠন করা হয়েছিলো, সেই নিউক্লিয়াসের এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের একজন সংগঠক হিসাবে আখতার আহমদ ছিলেন ৬ দফা, ১১ দফা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সিলেট অঞ্চলের অন্যতম নেতা। ৭০ এর নির্বাচনে তিনি জোরাল ভুমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, সত্তরের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের প্রার্থী হিসাবে তিনিই প্রথম মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রাজী না হওয়ায় এডভোকেট লুৎফুর রহমানকে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
১৯৭১ রনাঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধ সময়ে আখতার আহমদ বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি বাংলাদেশ লিভারেশন ফ্রন্ট (বি,এল,ফ) তথা মুজিব বাহিনীর সিলেট অঞ্চল প্রধান। সেই হিসাবে মুক্তিযুদ্ধা সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন।
আখতার আহমদ ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগে প্রথম নির্বাচিত কমিটির সাধারন সম্পাদক (১৯৬৫-৬৬)এবং পরবর্তীতে সভাপতি (১৯৬৬-৬৭)। যুদ্ধ পরবর্তীকালে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর বৃহত্তর সিলেটের প্রধান ছিলেন। এরপর তিনি জাসদ‘র প্রতিষ্টাকালীন কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
অকোতোভয় বিপ্লবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার আহমদ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সর্ব মহলে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের এই দিনে লন্ডনের রয়েল ফ্রী হাসপাতালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ক্ষণ জন্মা এই নেতা ইন্তেকাল করেন।তার এই অকাল প্রয়াণে সিলেট বাসী হারিয়েছে এক কৃতি সন্তানকে।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শামীম আখতার ও এক পুত্র সন্তান নওশাদ আখতার দ্বীপকে রেখে যান।
তাঁর পরিবার সুত্রে জানা গেছে করোনাকালীন সময়ে সিলেট নগরীতে কোন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়নি । তবে তাঁর গ্রামের বাড়ি বালাগঞ্জ থানার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন রয়েছে।
