নৃশংস বোমায় রক্তাক্ত শ্রীভূমি-ক্ষোভ ও দ্রোহে ফুঁসে ওঠ তুমি


আব্দুল করিম কিম ::  ২০০৪ সালের ১৪ই আগস্ট ভাদ্রের দুপুরে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান ও বক্তব্য নিয়ে একদল তরুণ শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে কালো একটি কাপড়ের ব্যানারে সাদা করে আঁকা সিলেট বিভাগের ম্যাপ। সেই সাদা রঙের ম্যাপের ভেতর লাল রঙ রক্তের ফোঁটা হয়ে ঝড়ছে। ব্যানারের উপরের অংশে লাল-সাদা রঙ্গে লেখা আছে-

“নৃশংস বোমায় রক্তাক্ত শ্রীভূমি
ক্ষোভ আর দ্রোহে ফুঁসে ওঠো তুমি”

নিচে লেখা ‘মানববর্ম’ বিবেকতাড়িত নাগরিক সমাজ, সিলেট।

তরুণদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে দেশে সংঘঠিত বিভিন্ন বোমা হামলার ঘটনার উল্ল্যেখ করে লেখা আছে ‘তদন্ত শূন্য’। এছাড়াও লেখা আছে আরো কিছু স্লোগান-

বোমাবাজির মতবাদে
ঘৃণা জানাই প্রতিবাদে
———————–
নৃশংস বোমাবাজ
তোর প্রতি ঘৃণা আজ…
————————-

বোমাবাজ আততায়ী
যেই হোক রাস্ট্র দায়ী
———————-

বোমার আঘাতে মানুষ খুন
রাস্ট্র থাকে নির্বিকার
এসো বন্ধু জানাই ঘৃণা
হয়ে সবাই এককাতার
———————–

আহতের আর্তনাদ
নিহতের রক্ত
বোমাবাজ সাবধান
শেষ তোর অক্ত
——————

২০০৪ সাল । দেশজুড়ে এক গুমোট পরিস্থিতি । দুই কুখ্যাত রাজাকার বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম মন্ত্রী । দেশে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে চলছে । কোন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। বরং তদন্তকে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে সংগঠিত বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয় ।

সেই হামলার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে দেশের দুজন সম্মানিত নাগরিক মুনতাসির মামুন ও শাহরিয়ার কবির’কে গ্রেফতার করা হয় । রিমান্ডে নিয়ে তাঁদের অকথ্য নির্যাতন করা হয়। রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উগ্রবাদীদের সরকারীভাবে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠতে থাকে। একদিকে মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেস্টা চলে, অন্যদিকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল মানুষদের নানাভাবে স্তব্ধ করার নীল নকশা প্রস্তুত হতে থাকে।

বোমা হামলার সাথে কখন কাকে যে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে তা তখন অজানা। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের গাড়ির চালকের আসনে বিএনপি থাকলেও কখন কোথায় থামতে হবে, কখন কাকে গাড়ি চাপা দিতে হবে, কখন গতি কমাতে হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে- এসব কিছুর নির্দেশদাতা তখন জামাত-ই-ইসলামী।

ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা হামলার ঘটনার পর ধারাবাহিক ভাবে বোমা হামলার আরো ঘটনা ঘটতে থাকে। বোমা হামলার মাধ্যমে জামাত তাদের ধর্মীয় আদর্শের শত্রু দেশের বিভিন্ন স্থানে সুফি দরবেশদের মাজার ও খানকা ধ্বংসের পরিকল্পনা করতে থাকে। এইকাজে তাদের জনপ্রিয় বক্তা দেলোয়ার হোসেন সাইদী’কে ব্যাবহার করে।

সাঈদী সিলেট-চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাফসীর মাহফিল নাম দিয়ে আয়োজিত নিজেদের রাজনৈতিক মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার সমাবেশে বিভিন্ন দরগা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়ার প্ররোচনা দিতে থাকেন। সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত একটি তাফসির মাহফিলে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর দরগা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর দরগায় হামলার পরিকল্পনা করা হয় ।
বাংলাদেশে আধ্যাত্মিকতার সর্ববৃহৎকেন্দ্র হিসাবে হজরত শাহ জালাল (রহঃ)-এর দরগা এক অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
বাংলাদেশের প্রতিটি আমলে সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহঃ)-এর দরগা জিয়ারত একটি প্রচলিত প্রথা।

দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এই দরগা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই দরগায় আঘাতের পূর্বে বাংলাদেশের দরগা বা মাজারে হামলা করলে প্রতিক্রিয়া কি হয় তা উপলব্ধির জন্য ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের অখ্যাত সখীপুরের ফাইল্যা পাগলার মেলায় বোমা হামলা করা হয় । এই হামলায় ৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়।

এই হামলার ঘটনার পরও কেউ চিন্তা করতে পারেনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহ জালালের দরগায় কোন আঘাত আসতে পারে ।

ত্রয়োদশশতাব্ধি থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের মানুষের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণানিবারণ করে আসছে এই দরগা । তাই এই দরগায় সরাসরি হামলা করার পূর্বে উগ্রপন্থীরা মাজার সংলগ্ন পুকুরে সংরক্ষিত সহস্রাধিক গজার মাছ প্রথমে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে ।

প্রায় সাতশত বছর ধরে মাজারে আগত ভক্তরা মহান সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এই গজার মাছকে সম্মান দেখাতো । যা সালাফি বা ওহাবীদের কাছে ছিল ‘বেদাত । ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গোপনে এই বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে মাছগুলো হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে । ঘটনার প্রায় এক মাস পরেই ১৩ জানুয়ারি ২০০৪ সালে হজরত শাহজালাল (রহঃ)-এর ঐতিহ্যবাহী উরস অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত-আশেকানদের ভক্তি সংগীতের কাফেলায় বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে একাধিক ভক্তকে হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১শে মে মাযার সংলগ্ন মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে গ্রেনেড হামলার স্বীকার হতে হয় ব্রিটিশ কূটনীতিক আনোয়ার চৌধরীকে। এই ঘটনায় নামাযে আগত অনেকমুসল্লি মারাত্মকভাবে আহত হয়।

সিলেটে শাহ জালালের দরগায় এ ন্যাকারজনক হামলায় দেশবাসী অত্যন্ত আহত হয়। সর্বস্তরে ঘৃণা প্রকাশ করে মানুষ। এসব ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে ষড়যন্ত্রের ছক প্রস্তুত হতে থাকে । দেশের সর্বত্র নিরাপত্তার অভাব প্রকট হতে থাকে । ঢাকায় বিশিষ্ট নাগরিকরা এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও স্থানিয় পর্যায়ে সবাই ভীতসন্ত্রস্ত ।

এমন এক বৈরী সময়ে সিলেটে একের পর এক সংগঠিত বোমা হামলার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নামি। ১৯৯৬ সালের ‘বিক্ষুব্ধ তারুণ্য’ নামে নয়। নাম বদলে হয় “বিবেকতাড়িত নাগরিক সমাজ”। বর্তমানে যা সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন, সিলেট। বোমা বা গ্রেনেড হামলার এসব ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নামার এ সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে কারন আছে।

কারন হলো-সিলেটে সংগঠিত তিনটি বোমা হামলার ঘটনায়ই আমার নিজের আহত বা নিহতের তালিকায় নাম থাকার সমুহ সম্ভাবনা ছিল । প্রথম দুটি ঘটনায় চুপ থাকলেও তৃতীয় ঘটনার পর চুপ থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনের শান্তির জন্য রাজপথে নামতে হয় । একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে ক্ষোভ ও দ্রোহে ফুঁসে ওঠার চেষ্টা করি।আয়োজন করি “নৃশংস বোমায় রক্তাক্ত শ্রীভূমি-ক্ষোভ ও দ্রোহে ফুঁসে ওঠ তুমি” শিরোনামে আলোচিত সেই প্রতিবাদ কর্মসূচির ।

১ম ঘটনাঃ
২০০৪ সালের ১৩ জানুয়ারী ।
হজরত শাহজালাল (রহঃ)-এর ঐতিহ্যবাহী উরস অনুষ্ঠান ছিল । বরাবরের মত একজন সেচ্ছাসেবী হিসাবে পারিবারিক ভাবেই উরসের বিশাল কর্মযজ্ঞে আমি ও আব্বা অংশ নেই। সকালে গিলাফ ছড়ানো শেষ হয় । আমি সন্ধায় বাসায় ফিরে আসি । আব্বাকে দরগাতেই রেখে আসি। তিনি ভূতপুর্ব মোতোয়াল্লী সরেকওম ইউসুফ আমানুল্লাহ সাহেবের সাথেই ছিলেন ।

রাত সাতটা বা আটটা হবে (সময়টা ঠিক মনে নেই) হটাৎ খবর আসে দরগায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে । পাগলের মত দৌড়ে যাই । আব্বার জন্য, পরিচিত খাদেম ও ভক্তদের জন্য দুশ্চিন্তা হতে থাকে । দরগায় পৌঁছে জানতে পারি আব্বাসহ পরিচিত সবাই ভালো আছেন । বোমা বিস্ফোরন হয়েছে ভক্ত-আশেকানদের ভক্তি সংগীতের কাফেলায়। এতে একাধিক ভক্ত হতাহত হয়েছেন।

ভক্তিসংগীতের কাফেলায় আমাদের কেউ অংশ নেয় না । তাই আহত বা নিহতের তালিকায় পরিচিত কেউ না থাকলেও হামলাটা দরগা অফিস বা মাজারের ভেতরে চালানো হলে পরিচিত কেউ না কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হত।

২য় ঘটনাঃ
২০০৪ সালের ২১শে মে । সেদিন শুক্রবার ছিল ।
জুম্মার নামাজ পড়তে দরগা-ই-হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাযার সংলগ্ন মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল । কিন্তু গোসলে বেশি সময় লেগে যায় । তাই দরগায় জুম্মার নামাজ আদায় করা সম্ভবপর নয় দেখে বাসার পাশের পীরমহল্লা মসজিদে যাই ।

নামাজ শেষে বাসায় ফিরে খেতে বসি । এসময় টিভি’তে একুশে টিভির দুপুরের খবরের মাঝখানে হটাৎ করে জানায় সিলেটে ব্রিটিশ কূটনীতিক আনোয়ার চৌধরী’র উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে ।

সিলেটে দরগা-ই-হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজার সংলগ্ন মসজিদে তিনি জুম্মার নামাজ আদায় করেছেন । নামাজ শেষে তিনি মাজার জেয়ারত করেন । ফেরার সময় দরগার প্রধান ফটকের কাছে তিনি অতর্কিত গ্রেনেড হামলার শিকার হোন । আনোয়ার চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সদ্যনিযুক্ত হাইকমিশনার । তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত । এই হামলার ঘটনায় আনোয়ার চৌধুরী সামান্য আহত হলেও জুম্মার নামাযে আগত অনেক মুসল্লি মারাত্মকভাবে আহত হয় ।

৩য় ঘটনাঃ
২০০৪ সালের ৭ আগস্ট । ঐদিন সিলেট নগরীর তালতলা এলাকার গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গুলশান সেন্টারে সেদিন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরি কমিটির সভা । সভা শেষে নেতারা যখন গুলশান সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসছেন তখনই সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সহ অন্যান্য নেতাদের উদ্দেশ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে নগর আ.লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী নিহত হন । আহত হন নগর কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা ২১ নেতা। তাঁদের সবার শরীরে এখনো স্প্লিন্টারের ক্ষতচিহ্ন আছে।

এ ঘটনা যখন সংগঠিত হয় তখন আমি ও আমার বন্ধু Joydeep Das Sujak একসাথে জিন্দাবাজার পয়েন্টে পানের খিলি কিনছিলাম। বিকট শব্দে লোকজনকে আতংকিত হতে দেখে ঘটনা কি, তা জানতে না চেয়ে মটর সাইকেল স্টার্ট দেই । দাড়িয়াপাড়ার মুখে আসতেই শুনতে পাই গুলশানে হামলা হয়েছে।
আমরা এ কথা শুনে খুব ভয় পাই ।

মাত্র পনেরো/বিশ মিনিট পূর্বে শেখঘাট থেকে তালতলা হয়ে জামতলার ভেতর দিয়ে এই হোটেলের সামনে দিয়েই মির্জাজাঙ্গাল হয়ে জিন্দাবাজার এসেছিলাম । সময়ের সামান্য হেরফের হলে এ হামলায় আমাদেরও ক্ষতি হতে পারতো পথচারী হয়েও। তাই আর চুপ করে থাকা যায় না।

একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে নিজের প্রতিবাদ প্রকাশ করা জরুরী মনে করি। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিতে থাকি। কেন প্রতিবাদ করবো, সেই বক্তব্য লিখতে শুরু করি। ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য স্লোগান লিখি। সে সব স্লোগান প্লে কার্ডে আঁকিয়ে আনি।

প্রতিবাদ কর্মসুচি কিভাবে ব্যাতিক্রমধর্মী করা যায় তা নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করি। বিক্ষুব্ধ তারুণ্যের পক্ষ থেকে ১৯৯৬ সালের ২৪শে মার্চ সিলেটের ইতিহাসের প্রথম মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করলেও ২০০৪ সালে মানববন্ধন কর্মসুচী একটি ডাল্ভাত কর্মসুচী হয়ে গেছে। তাই কর্মসুচীর নাম দেই ‘মানববর্ম’। মানববর্ম কি, কেন এই কর্মসুচি তা একটি লিফলেটে তুলে ধরি।

এই আয়োজনকে সফল ও সার্থক করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করি। অনেকেই নিরুৎসাহ দেন। যোগাযোগ করি সিপিবি নেতা Bedananda Bhattacharjee সাথে। তিনি পাশে থাকবেন জানিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। তাঁর পরামর্শে শাবিপ্রবির প্রাক্তন উপাচার্য্য প্রফেসর হাবিবুর রহমান ও বিএনপি ঘরানার রাজনীতিবিদ সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল’কে আমন্ত্রণ জানাই।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর বারোটা থেকে আমাদের মানববর্ম গড়ার জমায়েত শুরু হয়। ‘নৃশংস বোমাবাজ তোর প্রতি ঘৃণা আজ’-এই শিরোনামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নাগরিকদের ঘৃণা প্রকাশের সুযোগও রাখা হয় ।

বিভিন্ন প্লেকার্ডে পূর্ববর্তী প্রতিটি বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে সরকারের ব্যার্থতার সমালোচনা করা হয় । এ আয়োজনে সিলেটের অনেক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন ।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক প্রফেসর হাবিবুর রহমান স্যারকে মূলবক্তা করা হয় ।

এ কর্মসূচি পালন করা নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আমি কেন এই আয়োজন করলাম? আমার পেছনে কে আছে? এই প্রশ্নের জবাব এখনো অনেকে খুঁজে। আমি কেন এসব করি? আমার লাভটা কি? না, খুব দূরের কেউ না। আশপাশে থাকা লোকজন। যাদের সাথে চায়ের পেয়ালা থেকে চা হয়তো ভাগাভাগি করেই খাই।

(সংযুক্ত ভিডিও আমার এক বন্ধুর ব্যাক্তিগত হ্যান্ডক্যামে তোলা। সেই সময়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ছিলেন হাতেগোণা। এই মানববর্মের সংবাদ স্থানীয় পত্রপত্রিকাতে ছাপাই হয়নি। তবে ছবি সহ সংবাদ প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ছাপা হয়। সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে এসে যোগ দেয়া তরুণ সাংবাদিক Ujjal Mehedi আয়োজনটি নিজে প্রত্যক্ষ করেন। যদিও তাঁর সাথে আমার পরিচয় এর অনেক পরে।)

২০০৪ সাল । দেশজুড়ে এক গুমোট পরিস্থিতি । দুই কুখ্যাত রাজাকার সরকারের অন্যতম মন্ত্রী । দেশে একের পর এক বোমা হামলার …
, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *