আমাদের ‘মিনিস্টার সাব’


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: পূর্ববাংলার জনপদে এক বিস্মৃত মানুষ মৌলভি আবদুর রশিদ চৌধুরী। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক অনন্যসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি। স্থানীয়ভাবে ‘মিনিস্টার সাব’ খ্যাত ছিলেন মৌলভি আবদুর রশিদ চৌধুরী।

১৮৯৬ সালে গোলাপগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে জন্ম নেওয়া আবদুর রশিদ চৌধুরীর অবদান অনেক। ঢাকা দক্ষিণ-মোগলাবাজার সড়ক, লক্ষ্মীপাশা হাইস্কুলসহ অনেক স্কুল-মসজিদ প্রতিষ্ঠা তাঁর হাত ধরে। জীবনের সবটুকু তিনি দেশ ও দশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। মহান এই ব্যক্তির শিক্ষাজীবন শুরু হয় গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি মাদ্রাসায়। ছাত্রাবস্থায়ই দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

কলকাতা মাদ্রাসার ছাত্র থাকাকালে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯২২ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৫ সালে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস তাঁকে আসাম প্রদেশে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি আবদুল মতিন কলা মিয়ার কাছে হেরে যান। ১৯৪৫ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সখাতুল আম্বিয়া।

১৯৪৭ সালে প্রথমে আসাম প্রদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আবদুর রশিদ চৌধুরী। তিনি ১৯৩৫ সালে আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানির (র.) নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দে যোগ দেন। দেশভাগ হলে ১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ-মোগলাবাজার সড়ক প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া সিলেট টেকনিক্যাল কলেজ, কাজীটুলা গার্লস স্কুল, লক্ষ্মীপাশা মুরাদিয়া এমই মাদ্রাসা, জুনিয়র স্কুল, হাইস্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। নিবেদিতপ্রাণ এই রাজনীতিক ১৯৬২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মারা যান।

আবদুর রশিদের মতো নেতারা নিজেদের নিঃশেষ করে যাদের কল্যাণ চেয়েছিলেন, তাদের জীবন থেকে গেছে তিমিরেই। রাজনীতিতে এখন ক্ষমতা, দাপট ও জৌলুসই সব। এই সময়েও এলাকার মানুষ অহংকার করে বলে—আমাদের ‘মিনিস্টার সাব’ জনতার খাঁটি নেতা ছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদিবস।

, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *