করোনায় মৃত্যুর সঙ্গে সূর্যের আলোর যোগসূত্র রয়েছে; ব্রিটিশ গবেষণা


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক ::  করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বের অনেক দেশেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আবার লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করছে বহু দেশ। করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও থামছে না সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, যেসব অঞ্চলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায় সেসব এলাকায় মৃত্যুহার কম। আর যেখানে অতিবেগুনি রশ্মি কম পৌঁছায় সেখানে মৃত্যুহার বেশি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ এখবর জানিয়েছে।

২০২০ সালে মহামারি শুরু হওয়ার পর করোনা ঠেকানো সম্পর্কে বিভিন্ন কথা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। কয়েকটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, ভিটামিন ডি-এর অভাব করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এবার ব্রিটিশ গবেষকরা বললেন, ভিটামিন ডি নয়, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যুহার কম। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে।

করোনায় মৃত্যুর সঙ্গে সূর্যের আলোর যোগসূত্র রয়েছে; ব্রিটিশ গবেষণা

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষক দল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কাউন্টির কোথায় কতটা অতিবেগুনি রশ্মি থাকে সেটি খতিয়ে দেখেন। আর সেই সঙ্গে ওই সব কাউন্টিতে করোনার প্রকোপ কতটা, সেই পরিসংখ্যানও বিশ্লেষণ করেন তারা। আর সেই গবেষণা থেকেই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, যে সব অঞ্চলে সর্বাধিক ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি পৌঁছায়, সেখানে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

একইভাবে যে সব অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মি ততটা প্রকট নয়, সেখানেই করোনায় মৃতের সংখ্যা বেশি। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ইতালিতেও একই রকম পরীক্ষা চালিয়ে একই ধরনের ফল পেয়েছেন গবেষকরা।

গবেষকদের দাবি, ভিটামিন ডি নয়, এর পিছনে রয়েছে অতিবেগুনি রশ্মিই। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, ত্বকের সঙ্গে বেশি মাত্রায় সূর্যের আলো সংস্পর্শে এলে সেক্ষেত্রে ত্বক থেকে নাইট্রিক অক্সাইড নির্গত হয়। সম্ভবত এর ফলেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয়।

পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, রোদের সংস্পর্শে এলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যেহেতু মারণ ভাইরাসের আক্রমণে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এক্ষেত্রে তা করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, তাদের এই গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক প্রকৃতির হওয়াতে কারণ ও প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব না। কিন্তু এই গবেষণা সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করতে পারে।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *