যার আচরণ যত বেশি সুন্দর সবাই তাকে তত বেশি ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। যার আচরণ ভালো নয় সবাই তাকে ঘৃণা করে ও এড়িয়ে চলে। একজনের ব্যবহার ভালো হলে সে সহজেই সবার প্রিয়ভাজন হয়ে উঠতে পারে।মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে, তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে।
একজন মানুষ ভালো কি মন্দ, তা তার ব্যবহার দেখেই ধরে নেওয়া যায়। ভদ্রলোকের কথাবার্তা, আদব-কায়দা ও আচার-আচরণ থেকে সদ্ব্যবহার প্রকাশ পায়। মানুষের সত্যিকার পরিচয় তার ব্যবহারেই ফুটে ওঠে। একজন হাস্যোজ্জ্বল মানুষের সঙ্গে যে কেউ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করলে তার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রশংসা লাভ করা যায়। ব্যবহার ভালো হলে সবাই তাকে ভালো বলে ও পছন্দ করে। মানুষ ভালো কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার গঠনের মাধ্যমে নিজেকে শোভন, সুন্দর আর পরিশীলিত করে অন্যের প্রীতিভাজন হয়ে উঠতে পারে।
সুন্দর ব্যবহারই মানুষকে শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে হলে, জীবনে মহৎ কিছু করতে চাইলে অবশ্যই সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। সুন্দর ব্যবহারই মানুষকে সব দিক থেকে সুন্দর করে তোলে। মানবসমাজে সবাইকে ভদ্রোচিতভাবে অন্যের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে কথায় ও কাজে আত্মসংযমী হতে হয়।
মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এবং অহেতুক রাগ-অনুরাগ বা হিংসা-বিদ্বেষ করা উচিত নয়। পরিচিত লোকজনের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করা, ছোটদের স্নেহ-ভালোবাসা, গুরুজনদের মান্য করা সবার দায়িত্ব।
সর্বোত্তম ব্যবহার, বিনয়ী চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, আনুগত্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে মানবসেবা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। সুন্দর ব্যবহার ও আচার-আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা, দেখা হলে সালাম দেওয়া, কুশলাদি জিজ্ঞেস করা, কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া, ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা, পরনিন্দা না করা, অপমান-অপদস্ত না করা, উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা, গম্ভীর মুখে কথা না বলা, সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা, অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া। এছাড়া কারও বিপদে দেখা করে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করাও সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত।
