পঙ্গু স্বামীর পাশে বসে,জরিনা গরম খিচুড়ি খাওয়াচ্ছে।এমন সময় ১০/১২ বছরের ছেলে দুটো বাহিরে থেকে এসে বললো, মা ওমা আগামী কাল ঈদ। আমরা কি গোস্ত-পোলাও খাবোনা? সেমাই,পিঠা এগুলো কি কিচ্ছু খাবোনা? ঈদে নতুন জামা পড়বো না? রুনুর বাবা কত বড় একটা খাসি কিনেছে। ঈদের দিন জবাই করবে।
রুনু বললো ওর মা কতরকম পিঠা বানাচ্ছে। তুমি তো কিচ্ছু বানাচ্ছো না। ছেলেদের কথায় জরিনা রেগে জোরে ধমক দিলো। চুপ কর। সারাদিন শুধু খাই,খাই। খাওয়া ছাড়া তোরা আর কিছু চিন্তা করতে পারিছ না? মায়ের বকুনি শুনে, বাচ্ছারা ফুপিয়ে, ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
বড় বোন সুমা রান্নাঘর থেকে ভাই দু’জনের গলা জরিয়ে আদর করে বললো, আয় ভাই আমি তোমাদের রাজা-রানীর গল্প বলবো। অনেক মজার গল্প। তোরা না হেসে পারবেই না। দু’ভাই, বোনের আদরে কান্না থামিয়ে বললো, বুবু তুমি অনেক ভালো, মা শুধু বকা দেয়। এদিকে জরিনা বাচ্চাদেরকে বকা দিলেও, মনের কষ্টে দুচোখ বেয়ে পানি ঝরছিল।
দৌড়ে এসে আবার বাচ্চাদের বুকে জড়িয়ে নিলো। চুমায়,চুমায় আদর করে বললো,বাবারে আমি তোমাদের অধম মা।আমি শুধু তোদের জন্ম দিয়েছি। তোমাদের কোন আবদার মেটাতে পারিনি। তোদের বাবা যখন সুস্হ ছিল, তখন তো আমাদের এত অভাব ছিলোনা। ঈদের দিনে নতুন জামা পড়েছিস, ভালো খাবার খেয়েছিস।
আজ দুইবছর ধরে তোদের বাবা পঙ্গু হয়ে বিছানা নিয়েছে।চৌধুরী বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে যা পাই, তাদিয়ে শুধু ডাল-ভাত হয়। এরচেয়ে বেশি কিছু হয়না রে বাবা। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ঈদের একটা দিনে তোমাদের অসুস্হ বাবা আর তোমাদেরকে ভালো কিছু খাওয়াতে পারতেছি না।জরিনা কেঁদে, কেঁদে বলে, আমি তোমাদের মা হওয়ার অযোগ্য। এ দুনিয়ায় আমার বেঁচে থাকার দরকার নাই।
অমনি বাচ্চারা মায়ের মুখে হাত রেখে বলে, না মা এমন কথা বলোনা। তুমি আমাদের ছেড়ে যেওনা। আমরা কোনদিন খাওয়ার কথা বলবো না। শুধু তোমার আচঁলের নিচে সবসময় আমাদের ঠাঁই দিও। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। জরিনা তসবিহ হাতে জায়নামাজে বসে আছে। দুচোখ অশ্রু টলমল। এমন সময় বাহিরে পুরুষ লোকের আওয়াজ শোনা গেলো।
জরিনা মাথার ঘোমটা টেনে দরজার বাহিরে গেলো। দেখে দুইজন লোক সঙ্গে নিয়ে পাশের বাড়ির লন্ডনীর ছেলে দাড়িয়ে আছে। তাকে সালাম দিয়ে কয়েকটা পেকেট সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো, চাচী এখানে কয়েক কেজি মাংস, ঈদের জন্য কিছু খাবার, সাথে আপনাদের সবার জন্য জামা কাপড়। দিয়েই ছেলেটি চলে যেতে চাইলো।
জরিনা বারবার ছেলের কাছে কৃতজ্ঞতা জানালো। আল্লাহ তোমার ভালো করুন বাবা বলে দোয়া করলো। তোমরা মানুষ নও বাবা, তোমরা ফেরেশতা। সবসময়ই তোমরা গরীবদের সাহায্য করো। ছেলেটি বললো, চাচী কি যে বলেন, প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেয়া এটা তো আমাদের দায়িত্ব। দোয়া করবেন চাচী, আমরা যেন সেই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারি।
এতদিন পর মনের মতো রান্না করলো জরিনা।মাদুর বিছিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে খেতে বসলো।সবার পরনে নতুন জামা।সবার মুখে হাসি।গরীবের ঘর আজ ঈদের আনন্দে আলোকিত হয়ে উঠলো।আল্লাহর কাছে জরিনা বারবার শুকরিয়া জানালো ।

One response to “গরীবের ঈদ – শাহারা খান”
Fantastic goods from you, man. I’ve consider your stuff prior to and you are simply too magnificent.
I actually like what you have bought right here,
certainly like what you are saying and the way by which you say it.
You are making it entertaining and you still take care of to stay
it smart. I can not wait to learn much more from you.
That is really a wonderful website.