গৃহবন্দী আতঙ্কে কাটছে
এ কেমন দুঃসময়
জগতজুড়ে মানুষ আজ কত অসহায়
হে আমার যত প্রিয়জন বন্ধু-স্বজন
ক্ষমা করে দিও যদি চলে যেতে হয়!
কোথায় পালাবো বলো
যেদিকে তাকাই আঁধারের হাতছানি
মৃত্যুদূত যেনো শিয়রে দাড়িয়ে হুকুমের অপেক্ষায়!
শুনেছি কক্ষপথ ছেড়ে এসেছিল গ্রহাণু ছোঁয়া লাগেনি পৃথিবীতে
বিজ্ঞানী ছাড়া কেউ হয়নি তেমন উদ্বেল
যতটা হয়েছে করোনা সংক্রমণ ভয়ে!
আবার শুনি গ্রহাণু পতন হবে নাকি শীঘ্র
বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে পৃথিবী ধংস হবে
হোক যদি হয় তবে হবে
আগেও হয়েছে শুনি একইভাবে
একসাথে সবকিছু যায় যদি যাক শেষ হয়ে
স্রষ্টার নির্দিষ্ট ধংস ঠেকানোর সাধ্য কার আছে?
বলি ভাই হিসাব নিকাশ ছাড়ো
একটি ভাইরাস কিভাবে নাড়াচ্ছে
সারা পৃথিবী ঠেকাতে কি পারো?
ম্যালেরিয়া কি ফিরেছে ডেঙ্গু নামে
যক্ষ্মা কলেরা বসন্ত হাম এখনও ছড়ায় কি কোনখানে?
ভুলে গেলে কি চলে কত উদাহরণ যুগে যুগে
স্রষ্টার গজবে ফেরাউন মরেছিল মশার কারণে
আপনজন ত্যাগ করেছিল আবু লাহাবকে
পাথর চাপা দিয়েছিল প্লেগের কারণে!
মানব জীবন যিনি করেছেন সৃজন মৃত্যু হয়
তাঁরই হুকুমে তবে আর ভয় কেনো
জানা আছে মরতে হবে
পৃথিবীতে এত দুঃখ তবু্ও
মরতে চায় না যে মন ক্ষনিকের সুখ ছেড়ে।
প্রশ্ন শুধু আসা হলো কেনো তবে
যদি কিছু মঙ্গল কর্ম নাহি থাকে ?
আসা কি শুধুই স্রষ্টার গুনগান
নাকি সৃষ্টির অনিষ্ট সাধন স্বার্থদ্বন্দে?
ধনী নির্ধন সবল দূর্বল সুখ
দুঃখ বুঝি সৃষ্টির খেলা চলে
তাই বলি ভেবে দেখি আসলে
জন্ম আর মৃত্যুর কাছে সমান সকলে!
(সংরক্ষিত। কাব্যগ্রন্থ ‘ফেরারী মন’ থেকে)।
