প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: বিদ্যালয়ের অফিস সহকারির কছে বারবার বিদ্যালয়ের কমিটির নেতৃবৃন্দ হিসেব চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনীভাবে অফিস সহকারির কাছে বিদ্যালয়ের হিসেব চাওয়া যুক্তিসঙ্গত না হলেও বারবার বিদ্যালয়ের হিসেব চান এবং চাপ প্রয়োগ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এমন চাপের কারণে ও অপমানের বার সহ্য করতে না পারায় বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী ও সহকারি শিক্ষিকা আসমা শিকদার সিমলা অপমানের বার সহ্য করতে না পারায় আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। আসমা শিকদার আটপাড়া গ্রামের ফিরোজ মিয়া শিকদারের মেয়ে।
নিহতের স্বামী ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির দুই/তিন জন সদস্যে চাপে আমার স্ত্রী আসমা শিকদার সিমলা মারা গেছেন। তিনি এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও এ প্রতিবেদককে জানান।
নিহতের ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্বপন শিকদার বলেন, কমিটির নেতৃবৃন্দ বারবার আমার বোনকে বিদ্যালয়ের হিসেব দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তাকে অপমান করেন। যার কারণে আমার বোন অপমানের চাপ সহ্য করতে না পারায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
আসমার মৃত্যু নিয়ে তার স্বামী ও গভর্নিং বডির সভাপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

আসমার স্বামী ফজলু মিয়ার অভিযোগ, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুর রউফ, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাসিম উদ্দিন ও কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ওই বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে চাপ সৃষ্টি করায় অপমানে আসমা হারপিক পান করেন।
অপরদিকে গভর্নিং বডির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন, বিদ্যালয়ের হিসেব দিতে কোন সময়ই আমরা আসমা বেগম সিমলাকে চাপ দেইনি। তার কাছে হিসেব চাওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ তিনি বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি। হিসেব চাইলে আমরা সাবেক সভাপতি অথবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে চাইতে পারি। আমাদের উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবী করেন।
পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আসমা হারপিক পান করে আত্মহত্যা করেছেন। কারণ তার দেবর দৌলতপুর ইউনিয়নের মেম্বার শাহীন আহমদ বছর খানেক আগে আসমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে তিনি স্কুলের সামনের একটি বাসায় ভাড়ায় ওঠেন।
তবে শাহীন আহমদ মেম্বারের দাবি ভাই কিংবা ভাবির সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই, এমনিক বাড়ি থেকেও বের করে দেননি।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, স্কুলশিক্ষিকা আসমার মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির একজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাসিমের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সমীর কান্তি দেব বলেন, এ ধরনের কোন ম্যাসেজ আমার কাছে আসেনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখব। বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ শামীম মুসা বলেন, বিদ্যালয় কমিটির চাপে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মারা যাওয়ার একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজামান বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।

মামলাঃ আত্মহত্যার প্ররোচনা আইনে বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) আসমার স্বামী ফজলু মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন, মামলা নং ৬(৯)২০২০ইং।
মামলায় বিদ্যালয়ের নবগঠিত গভর্নিংবডির সভাপতি দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফকে (৬৫) প্রধান আসামিসহ আরও ২জনকে এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে। বাকি দু’জনের একজন হলেন গভনিংবডির সদস্য দৌলতপুর গ্রামের আনোয়র মিয়া (৪৬) ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাসিম (৬০)।
এছাড়া ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে আরও ৭জনকে। তবে, আসামি ৩জনের মধ্যে আনোয়ার মিয়াকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার বিকেলে বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুর রউফের বাড়ি থেকে আনোয়ার মিয়াকে আটক করে থানা পুলিশ।
মামলা দায়েরের সত্যতা জানিয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশ্বনাথ থানার ওসি (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবির্ত বলেন, এঘটনা নিয়ে বিস্তর তদন্ত চলছে। মামলায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতাও অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
ছামির মাহমুদ/এফএ/পিআর
