বিশ্বনাথের সেই তরুনী গণধর্ষণ মামলার আরেক আসামি গ্রেপ্তার


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: আপন বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন সিলেটের বিশ্বনাথের তরুনী পপি বেগম (১৯)। দলবদ্ধ ধর্ষণের অপমান ভুলতে পপি বেগম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। দাফনের দুই দিন পর পপির ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) থেকে এ তথ্য মিলেছে।

পপি উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের লালটেক গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের বসত ঘর থেকে পপির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে পপির বাবা শুকুর আলী বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, গণধর্ষণ করত: আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং সাক্ষ্য ঘটনা আড়াল করার অপরাধ আইনে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই মামলার আসামি জাহেদ মিয়াকে (২২) কে সিলেট র‌্যাব-৯ গ্রেপ্তার করে। সে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী চেরাগী গ্রামের মৃত মতছির আলীর ছেলে।

র‌্যাব-৯ সিলেটের (মিডিয়া অফিসার) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, সিপিসি-১, সিলেট ক্যাম্প এর একটি আভিযানিক দল এএসপি সত্যজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তেতলী এলাকা থেকে গণধর্ষণ মামলার আসামি জাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এরআগে গত সোমবার রাতে ওই মামলার অপর আসামি ফয়জুল ইসলামকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, গণধর্ষণ মামলার আরেক আসামিকে র‌্যাব-৯ গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই আসামিকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বনাথের লালটেক গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে পপি বেগম গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে তার বোনের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী চেরাগী গ্রামে গণধর্ষণের শিকার হয়। পরদিন সকালে সে বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

তাকে দাফনের দুইদিন পর তার ব্যবহৃত ভ্যানেটি ব্যাগে নিজ হাতে লেখা একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) পায় পরিবার। ওই চিরকুটে পপি উল্লেখ করেছে বুধবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বোনের বাড়িতে অবস্থানকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সে ঘরের বাহিরে যায়। তখন পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা বারিক ও জাহেদ তার (পপির) মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায় বাড়ির পাশ্ববর্তী জঙ্গলে। তখন তাদের পায়ে ধরে কান্না কাটি করতে থাকলে বারিক-জাহেদ ও তাদের সহযোগীরা মারধর করে পপিকে পাশবিক নির্যাতন করে।

নির্যাতনের পর পপিকে বোনের বাড়িতে (যেখান থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, সেই স্থানে) ফেলে রেখে যায় জাহাঙ্গীর। আর গণধর্ষণের লজ্জা সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে পপির বাবা শুকুর আলী বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, গণধর্ষণ করত: আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং সাক্ষ্য ঘটনা আড়াল করার অপরাধ আইনে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন-সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেরাগী গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের ছেলে ফয়জুল ইসলাম (৩৬) একই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), আবদুল মনাফের ছেলে বারিক মিয়া (৩৭) ও মৃত মতছির আলীর ছেলে জাহেদ মিয়া (২২)

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *