প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ ভারত অধিকৃত কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি জরুরি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ বৈঠকে অংশ নেন। আজাদ কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী, কাশ্মির বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি বসবাসরত জনগণের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনারা ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে। এমন অভিযোগে পাকিস্তান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এ বৈঠক আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বেসামরিক জনগণের ওপর গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের ঘটনায় এ বৈঠক থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। একে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি। ভারতের এসব আগ্রাসী আচরণের মোক্ষম জবাব দিতে পাকিস্তান সেনারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনা প্রধান কামার বাজওয়া।
ভারত সীমান্তে ভারী অস্ত্রসস্ত্র জমা করছে এ খবর পাওয়ার পর সীমান্তের ওপারে পাকিস্তান যুদ্ধ বিমান প্রস্তুত করে রেখেছে, এবং আজাদ কাশ্মীরের জনগনের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে তার বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে রবিবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইমরান খান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাশ্মিরে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখন পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখায় দখলদার ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার জন্য এখনই সঠিক সময়। কাশ্মির সংকটকে কেন্দ্র করে একটি বিস্ফোরন্মুখ আঞ্চলিক সংকটের আশঙ্কার কথাও জানান ইমরান খান।
ইমরান খানের এ টুইটের ব্যাপারে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত জুলাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, কাশ্মির সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে তার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনতেই মোদি এ অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি। সূত্র: পার্স টুডে, ডন।
ভারতকে জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত, হুঁ শিয়ারি ইমরান খানের
ভারত যে কোনও রকম আক্রমণ করলে পাকিস্তান জবাব দেবে। রবিবার ইসলামাবাদের বিশেষ বৈঠকের পর এমনটাই বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এদিন ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খটক, বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, মন্ত্রী ইজাজ শাহ ও দেশের তিন বাহিনীর প্রধান, আইএসআই চিফ ও অন্যান্য আধিকারিকরা।বৈঠকের পর ইমরান খানের অফিস থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়।
তাতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ভারতের যে কোনও ধরনের আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত। কাশ্মীরের মানুষকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাব।’ একইসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এদিকে, সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যে মোদীর বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এনএসএ অজিত দোভাল। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হওয়ার আগে মোদীর নেতৃত্বে চলছে উচ্চ পর্যায়ের আরও একটি বৈঠক। যে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং এনএসএ। এই বৈঠকের পরেই সাড়ে ৯টা থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।
এক এক করে সেখানে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা।জানা যাচ্ছে, এদিনের এই বৈঠক থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সন্ত্রাসবাদ একেবারে কাশ্মীর থেকে নিমুল করতে বড়সড় অভিযানও চালানোর নির্দেশ সরকার দিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, যেভাবে পিছনে থেকে পাকিস্তান কাশ্মীরে লাগাতার সন্ত্রাসবাদকে প্রশয় দিয়ে যাচ্ছে তা নিয়েও বড়সড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
রবিবারই ভারতের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন ইমরান খান। ট্যুইট করে ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে বার্তা দেন ইমরান খান। তিনি লিখেছেন, ‘সীমান্ত পার করে ভারত যে হামলা চালাচ্ছে, তার প্রতিবাদ জানাই।’ ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের পরও ইমরান খানের দাবি, ১৯৮৩-র চুক্তি ভঙ্গ করে বোমা ফেলেছে ভারত। এই ঘটনা বিশ্বশান্তির পরিপন্থী বলে, রাষ্ট্রসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা বলেছেন তিনি।
এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪। তাঁর দাবি, কাশ্মীর নিয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে ভারত। ট্যুইটে ইমরান ফের সেই মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সেই প্রস্তাব মেনে নিলে হয়তো এই পরিস্থিতিতে পড়তে হত না ভারতকে।
এই ভাবে একেবারে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো চরম পদক্ষেপের মধ্যে পড়তে হত না ভারতকে। শনিবারই পাক অনুপ্রবেশের ছক বানচাল করে জঙ্গিদের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ্যে এনেছে ভারতীয় সেনা। সীমান্তে নিহত হয়েছে ৭ অনুপ্রবেশকারী।
