প্রবাস বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক রিপোর্ট :: ভারতের সুপ্রিমকোর্ট আজ এক নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ৫০০ বছরে পুরনো ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে রাম মন্দির নির্মাণের আদেশ দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান আজ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উদ্ভোদনের মাধ্য দিয়ে শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবর্তক ধর্মগুরু গুরু নানকের সমাধিস্থল করতারপু গোরুদুয়ারা দরবার সাহেব ভারতীয় শিখদের বিনা ভিসায় দর্শন ও প্রার্থনার জন্য খুলে দিয়েছে।
করতারপুর গোরুদুয়ারা দরবার সাহেব ভারতের বর্ডার থেকে ৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অবস্থিত। মুসলমানদের কাছে মদিনা শরিফ যেমন রাসুল সা. এর আগমন ও রওযা মোবারকের কারনে সম্মানিত ও পবিত্র, শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে করতারপুরও তাদের ধর্মগুরুর আগমন ও ও সমাধিস্থল হওয়ার কারনে একইভাবে পবিত্র ও সম্মানিত।
একজন মুসলমান যদি হজ্ব পালনে গিয়ে মদিনার ৪ কিলোমিটার দূর থেকে সীমান্তের বাধার কারণে ফিরে আসে, রাসুল সা. এর রওযা মোবারক যিয়ারত করতে না পারে, তাহলে তার মনের অবস্থা কী হবে সেটা বলে বুঝানো যাবেনা, সেই ব্যাক্তি মানসিকভাবে খুবই নিরাস ও আশাহত হবে, মানসিকভাবে একেবারে ভেঙ্গে পড়বে নিঃসন্দেহে।
শিখদের এই অবস্তা ছিলো, এতদিন তারা মধ্যখানের পাক ভারত বর্ডারের কারণে ৪ কিলোমিটার দূরত্বের তাদের মদিনা শরিফের যিয়ারত ও প্রার্থনা থেকে বঞ্চিত ছিলো। এককথায় মুসলিমরা যদি মদিনার চার কিলোমিটার দূরের বর্ডারে আটকে পড়েন এবং তারপর একদিন বর্ডার খুলে গেলে মদিনায় যেতে পারেন, কেবল সেই আনন্দেরই তুলনা হতে পারে শিখদের আজকের তৃপ্তির সঙ্গে।
২০১৮ সালের ভারত ও পাকিস্তানের এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে পাকিস্তান ৫০একর জমির উপর কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে শিখদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোরুদোওরা দরবার শরিফ নির্মাণ করে উপহার দিয়েছে শুধুমাত্র ভারতের আবদারের প্রেক্ষিতে।
নয় মাসের মধ্যে এরকম বিশাল শৈল্পিক ও নান্দনিক রুচিসম্মত প্রকল্প পাকিস্তানের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্ত পাকিস্তান নয় মাসের কম সময়ে ঝড়ের গতিতে দিন রাত কাজের মাধ্যমে গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মদিনের আগেই এই প্রকল্প শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্যে খুলে দিয়েছে।
পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের আরামের জন্য ইন্ডিয়া বর্ডার থেকে দরবার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ ও উন্নত ও আধুনিক এসি বাস গাড়ির ব্যবস্থা করে।
অন্যদিকে ভারত আজ এক নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিমের বাবরি মসজিদের জমি কেড়ে নিয়ে মন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। যেই মুসলমানরা নিজেদের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে ৫০একর জমির উপর কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে বিনা ভিসায় ভারতীয়দের নিজ ভূমিতে প্রার্থনার সুযোগ করে দিলো, সেই ভারতীয়রা আজ মুসলমানদের প্রার্থনার যায়গা কেড়ে নিলো। অকৃতজ্ঞতার এক উত্তম উদাহরণ তৈরি করলো। আফসোস।
কর্তারপুর করিডর ব্যবহার করে পাকিস্তানে শিখ উপাসনালয় গুরুদুয়ারা দরবার সাহিবগামী ভারতের প্রথম তীর্থযাত্রী দলে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা মনমোহন সিং থাকছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সাড়ে পাঁচশ তীর্থযাত্রীর ওই দলে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সানি দেওল, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হারদিপ পুরি ও হারসিমরাত কাউর বাদলেরও নাম আছে।
চিন্তা করছি তারা কোন মুখে মুসলমানদের প্রার্থনার যায়গা কেড়ে নিয়ে বিনা ভিসা ও বিনা বাস ভাড়ায় মোসলমানদের দয়ায় এসির হাওয়া বসে চেটেপুটে দুপুরের খাবার খেয়ে মুসলিম ভূমিতে গিয়ে নিজের ধর্মের প্রার্থনা করবেন!
