প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: বেশ কিছু শিশু, নারী ও পুরুষ বুধবারও নিজেদেরকে সোয়ান নদীর পাড়ে লুকিয়ে রেখেছে। তিন দিন ধরে তারা কোন খাবার পায়নি। হিমাচল প্রদেশের পাঞ্জাব সীমান্তের কাছে পাঞ্জাবের দিকে নদীপাড়ে লুকিয়ে আছে তারা। তাদের অভিযোগ, হোশিয়ারপুর জেলার তালওয়ারা ব্লকের গ্রামগুলোতে তাদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে, তাদেরকে পেটানো হয়েছে, এবং তাদের মাটির কুঁড়েগুলো থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

ক্ষুধার্ত শিশু, নারী ও পুরুষদের বড় একটি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারাজ দিন। সাত-আটটি যৌথ পরিবার রয়েছে এখানে যাদেরকে তাদের বসতি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সারাজ দিন বললেন, “আমি তাদেরকে (হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের গ্রামবাসীদেরকে) জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেন তারা আমাদেরকে পেটাচ্ছে, জবাবে তারা আমাদেরকে গালাগালি শুরু করে দেয়, বলে আমরা নাকি অসুস্থ”।
তিনি বলেন, “এমনকি পুলিশ পর্যন্ত আমাদেরকে পাশের হিমাচলে যেতে দিচ্ছে না, যেখানে আমরা গ্রীষ্মকালে অবস্থান করি”।
সারাজের স্ত্রী বললেন, “তার (সারাজের) মায়ের বয়স ৮০, কিন্তু ওষুধের দোকানি তাকে ওষুধ দেয়নি। দোকানের মালিক তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেছে, “অসুস্থ মুসলিম ভাইরাস ছড়াচ্ছে”।

সারাজের সাথের উপজাতীয় শাফি মোহাম্মদ ব্যাখ্যা করে বলেন যে, দিল্লীতে তাবলিগি জামাতের ঘটনার পর থেকেই আশেপাশের গ্রামের অধিবাসীরা আমাদেরকে হয়রানি এবং অপমান করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কেউ কোনদিন দিল্লী দেখিনি, কিন্তু মানুষ আমাদের পেছনে লেগেছে। আর প্রশাসনও আমাদেরকে কোন সাহায্য করছে না”।
দুজন তাদের আধার কার্ড দেখিয়ে বললেন এই কার্ডগুলো দিয়ে এখন কোন কাজই হচ্ছে না।
যৌথ এই পরিবারগুলোর লোকসংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ জন। এদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে, যারা ক্ষুধা নিয়ে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছে। তাদের কোন রেশন নেই, কারণ তাদের সাহায্যের আবেদনে কেউ সাড়া দেয়নি।
পুলিশের দাবি, তারা এ ব্যাপারে জানে না
হোশিয়ারপুরের এসএসপি গৌরব গার্গকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে কেন কোন মামলা করা হয়নি। জবাবে তিনি বলেন, “না, আমরা এ ধরণের কোন অভিযোগ পাইনি”।

এসএসপি বলেন, “মানুষ একটা ধারণা করে নিয়েছে এবং সে কারণে তারা গুজ্জারদেরকে তাদের দুধ বিক্রি করতে দিচ্ছে না”।
কি ধারণা করেছে জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, “আমি কি করে বলবো কি ধারণা?”
যারা দুধ বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি গার্গ, কারণ দুধ এখানে একটি দরকারী পণ্য। এসএসপির বক্তব্যের সাথে ডেপুটি কমিশনারের বক্তব্যের মিল নেই। ডেপুটি কমিশনার বলেছেন যে, তিনি আজ এবং গতকাল দুইদিনই অভিযোগ পেয়েছেন এবং এসএসপিকে বলেছেন যাতে ‘দোষিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়”।
নোংরা ঘোষণা
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নওশেরা শিমলি, গোড্ডা, ওয়াজিরা, সারিয়ানা ও সিব্বো চক এলাকার মন্দির ও গুরদুয়ারাগুলোতে মাইকে কথিত ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, “তাবলিগি জামাতের মুসলিমরা আমাদের এলাকায় পৌঁছে গেছে, এবং এখানে তারা করোনাভাইরাস ছড়াতে চায়। তাই মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে তারা জেগে থাকে, ঘরের বাতি জ্বালিয়ে রাখে এবং তাদের বাড়ি পাহারা দেয়”।
নওশেরা শিমলির সমাজ কর্মী ধর্মেন্দার সিং বলেন যে, অন্যান্য গ্রামগুলোতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং তিনি বেশ কয়েকজন যুবককে দেখেছেন, যারা লাঠি ও রড নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “গত ২-৩ দিন ধরেই এই পরিবেশ বিরাজ করছে”।
