গ্রেপ্তার হলেন মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ, থমথমে কাশ্মীর
প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ মধ্যরাতে কাশ্মীরের মুসলিম রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করেছে ভারত সরকার। গৃহবন্দীদের মধ্যে আছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি ও আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আদুল্লাহ।
এছাড়াও সিপিআই (এম) নেতা মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি, পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদ লোনকেও গৃহবন্দী করা হয়েছে।
টুইটারে ওমর আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্য প্রধান নেতারাও এই ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমি চাই না এটি সত্য হোক। তবে সত্য হলে ভয়ের কারন আছে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।’

টুইটের মাধ্যমে নিজের গৃহবন্দীত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহবুবা মুফতিও। মুফতি লিখেছেন, ‘কতটা প্রহসনের বিষয়, আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যারা শান্তির পক্ষে লড়ছি, তাদের গৃহবন্দী করা হয়েছে। বিশ্ব দেখছে কিভাবে মানুষ ও তাদের কণ্ঠস্বরকে এখানে পদদলিত করা হচ্ছে। যেই কাশ্মীর অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক ভারতকে বেঁছে নিয়েছিলো, তারা আজ আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে ভয়ানক ভাবে।’
এদিকে ওমর আব্দুল্লাহর টুইট রিটুইট করে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা শশী থারুর। থারুর লিখেছেন, ‘তোমরা একা নও ওমর আবদুল্লাহ। প্রতিটি গণতান্ত্রিক ভারতীয় কাশ্মীরের মূলধারার রাজনীতিবীদদের জন্য উঠে দাঁড়াবে। সরকার আমাদের দেশের জন্য যাই ঠিক করুক কিছু যায় আসে না। পার্লামেন্ট সেশন এখনও চলছে। আমাদের আওয়াজ দাবিয়ে রাখা যাবে না।’
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি টুইটবার্তায় থারুর লিখেন, ‘জম্মু কাশ্মীরে আসলে কী হচ্ছে। কোনো কিছু না করেও কেনো নেতারা রাতারাতি গৃহবন্দী হলেন। কাশ্মীরিরা আমাদের নাগরিক এবং তাদের নেতারা আমাদের অংশীদার। অবশ্যই মূল ধারার ব্যক্তিদের বাইরে রেখে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোকাবেলা করা যায়না। আমরা তাদেরই বাদ দিয়ে দিলে বাকি থাকে কে?’
এদিকে শ্রীনগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে ভারতীয় প্রশাসন। সমস্ত ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হতে শুরু করেছে। দেশের বাকি প্রান্তের সঙ্গে কাশ্মীরের যোগাযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ হতেও শুরু হয়েছে।
কিন্তু এই তৎপরতা কেন, কেনই বা কাশ্মীরে বিপুল পরিমাণ সেনা ও আধা সামরিক জওয়ান মোতায়েন, তার কোনো উত্তর মেলেনি রবিবার রাত পর্যন্ত। একাধিক গুঞ্জনের মধ্যেই সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে কাশ্মীর নিয়ে কোনো ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে খবর।
রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষপদস্থদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবা, গোয়েন্দা ব্যুরো প্রধান অরবিন্দ কুমার, ‘র’ প্রধান সামন্ত গোয়েল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে জড়িত সব মহলের অফিসারদের বার্তা দেওয়া হয়েছে কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে। কিন্তু কী কারণে জওয়ান মোতায়েন, তা অফিসারদেরও জানানো হয়নি।
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, আজ সোমবার ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি ছাড়াও রাজ্যের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সাজাদ লোনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজেপির সঙ্গে জোট করে এক সময় জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মেহবুবা। কিন্তু গত বছর জুনে সেই জোট ভেঙে যায়। পতন হয় সরকারের। গত সপ্তাহে কেন্দ্রের তরফ থেকে কাশ্মীরে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগের পর থেকে উপত্যকার রাজ্যনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন পিডিপি নেত্রী।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরের বহু এলাকার মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন ফোনের পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ও কেবল টিভি পরিষেবাও। রাজ্যের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একসঙ্গে অনেক মানুষের জমায়েত ও জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন ফোনের পরিষেবা বন্ধ রাখায় শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের স্যাটেলাইট ফোন দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এই ফোনের মাধ্যমে কেন্দ্রের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে আলোচনা করতে পারবেন।
এদিকে জম্মু, কিশত্বার, রেসাই, ডোবা ও উধমপুর জেলার স্কুল-কলেজগুলো আজ সোমবার থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।
গত সপ্তাহ থেকেই রাজ্যে অতিরিক্ত আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। শুক্রবারই অমরনাথ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
