মরণ কোথায় লুকিয়ে আছে জানা অজানা কোন্ খানে
সবাই খুজছে নিরাপদ আশ্রয় জীবন বাঁচাতে লকডাউন ঘরে ঘরে।
প্রকৃতি আমায় করেছে পর তুমিও রেখেছো দূরে
ঝড় উঠেছে বৈরী বাতাস ভয় ভরা অন্তরে।
গৃহ অন্তরীন দিনগুলো এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
নিঃসঙ্গতা যেনো দিয়ে যায় মনে কবরের নীরাবতা!
আমি থাকতে চাই না এমন লক ডাউন
একাকিত্বে আমি বাঁচতে চাই তোমাদের সাথে
প্রেমিকার স্পর্শ সুখে আমি মরতে চাই যত ভালোবাসার মুখ দেখে।
ঐতো ওখানে কাঁচের আড়ালে কার ছায়া
কার হৃদয়ের মায়া টানছে আমায়
অঞ্জলি ভরা ফুল উচাটন মনে ডাকে চোখের ভাষায়!
অসহ মর্মপীড়া, পারবে কি মুক্তি দিতে
চল আগের মত ছুটি একসাথে জীবনের কলরবে অবিনাশী
এ বিচ্ছেদের জ্বালা লকডাউন অজুহাতে!
আমি দেখতে চাই খোলা আকাশে পাখিদের উড়ে চলা
আমি শুনতে চাই শিশুদের হাসি কান্না কলরব
আমি হাটতে চাই প্রিয়ার হাত ধরে সবুজ চত্বরে বেলাভূমে।
কি আমার অপরাধ আমি শুধু ভালোবেসেছি
জগতের যত সুন্দর প্রকৃতির সাথে করিনি বৈরীতা।
ফিরিয়ে দাও আমার মুক্ত জীবন মরুদ্যান নাহয়
জরাজীর্ণ ধুলাবালির পুরনো সেই শহর
যেখানে ফুল ফোঁটে অনাদরে পাখিরা গান করে
প্রজাপতি ভ্রমর ওলি করে মধু আহরণ কত প্রতিকুল পরিবেশে!
বন্দী ঘরে কাঁচের দেয়ালে দৃষ্টি হাড়ায় স্মৃতি হাতড়ে
কৃষ্ণচূড়ায় লাগুক আগুন
পলাশ ডাক দিয়ে যাক মুক্ত হাওয়ায় জীবনের উচ্ছলতা ফিরে পাক।
কোন্ অপরাধে অস্থির ধরা গতিহীন প্রতিটি জীবন
জানি না আবার কখন ফিরে পাবো চঞ্চল মধুর মিলন!
(সংরক্ষিত। কাব্যগ্রন্থ ‘আরেক বসন্ত’ থেকে)।
