লাগামহীন দুর্নীতি -একটি এলইডি বাতির দাম ৬৫ হাজার টাকা


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ  লাগাম ছাড়া বাড়ছে প্রকল্পের ব্যয়। মেয়াদ পার করে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের ডিজাইন পরিবর্তনে ব্যয় বাড়ানো হয়। আর প্রকল্পের পণ্য কেনাকাটায় একক পণ্য মূল্যের অঙ্ক দেখলেই চোখ ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা।ঢাকা শহরের রাস্তায় প্রতিটি এলইডি বাতি স্থাপনে খরচ ধরা হয়েছে ৬৪ হাজার ৮৫৪ টাকা। যেখানে ছয় কোটি টাকা ধরা হয়েছিল ধূপখোলা শিশুপার্ক উন্নয়নে, সেখানে সেই ব্যয় ৭৪ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আর জনপ্রতি বিদেশে প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। সার্বিকভাবে চলমান ঢাকা দক্ষিণ সিটির এই অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ৫১৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার একনেক সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনার ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক হাজার ২০২ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিএসসিসির ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা, ফুটপাথসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের জন্য ২০১৬ সালে প্রকল্প নেয়া হয়।

তিন বছর পার করে এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হলো ৫১৭ কোটি টাকা। রাস্তাগুলো আলোকিত করার জন্য ৪৪ হাজার ৫৯৮টি এলইডি লাইট কিনে তা স্থাপন করা হবে। আর এই কাজে প্রতিটি লাইটের জন্য ব্যয় হবে ৬৪ হাজার ৮৫৪ টাকা। ফলে এই লাইট স্থাপনেই মোট ব্যয় ২৮৯ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

এখানে ১৮টি পার্ক ও ১১টি প্লে গ্রাউন্ড উন্নয়নে ব্যয় বাড়িয়ে ৪২২ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতিটির ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বাইরে আলাদা করে ৭.৮২ একরের ধূপখোলা শিশুপার্ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রথমে ছয় কোটি দুই লাখ টাকা। আয়তন অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

ফলে এই শিশুপার্কের উন্নয়নেই খরচ হবে ৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। পাঁচটি এলাকায় ১১টি ক্লিনার কলোনি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয় ৯৪ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। সেখানে ব্যয় সাড়ে ২২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতিটি কলোনি নির্মাণে খরচ হবে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকাবিদেশে ৩০ জন জনবলকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। তাতে মাথাপিছু ৩২ লাখ টাকা করে মোট তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর স্থানীয় প্রশিক্ষণে ১০ জনের জন্য ১০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এখানে মাথাপিছু খরচ এক লাখ টাকা। নতুন করে খাত যুক্ত করা হয়েছে, ধানমন্ডি লেক সংস্কারের জন্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা, নতুন নগর ভবনের জন্য ৫২ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, রাস্তা, ফুটপাথ, ড্রেন অবকাঠামোতে ব্যয় হবে ১৯৪ কোটি ৫২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। শান্তিনগর, রাজারবাগ ও মালিবাগের জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যয় হবে ৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট-বড় মিলে ১৩টি বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হবে।

হাজারীবাগ ও কাপ্তান বাজারে দু’টি কসাইখানা নির্মাণে খরচ ধরা হয় প্রথমে ১১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা, সেটি এখন বৃদ্ধি করে ১৬২ কোটি ৫১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।তিনটি কবরস্থান উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এখন ১২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। ডিএসসিসির তথ্যানুযায়ী এই প্রকল্পে নির্ধারিত তিন বছরে কাজের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। এতে ব্যয় হয়েছে ৭৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশন বলছে, খেলার মাঠ উন্নয়ন কাজের ড্রইং ও ডিজাইন পরিবর্তন, কসাইখানা নির্মাণের প্রকল্প সাইট বুঝে নিতে দেরি, ফুটওভার ব্রিজ, ধূপখোলা শিশুপার্ক নির্মাণের ডিজাইন পরিবর্তন ও প্রণয়নে বিলম্ব এবং ক্লিনার কলোনি ভবন নির্মাণ কাজে বিলম্ব হওয়াতে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পোস্তাগোলা আর্মি ক্যাম্প ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এলইডি বাতি স্থাপন এবং নগর ভবন ও ধানমন্ডি লেক সংস্কারের জন্য নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো: জাফর আহমেদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে আধাঘণ্টা পর ফোন করার জন্য বলেন। এরপর তাকে ফোনে আর পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। নির্বাহী প্রকৌশলীর (বিদ্যুৎ) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন। কিন্তু জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়কে কয়েক দফা ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
ইটিই বিভাগককে ট্রিপল-ই বিভাগের রুপান্তরের দাবিতে আন্দোলন করছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা সিঁড়িতে নিজেদের শরীরের র’ক্ত ঢেলে বি’ক্ষোভ করে।

মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভাগের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে আ’ন্দোলন শুরু করেন ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা সিঁড়িতে নিজেদের শরীরের র’ক্ত ঢেলে বি’ক্ষোভ জানায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. শেখ রাসেল আল আহম্মেদসহ তিন শিক্ষককে অ’বরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে অবস্থান নেয়।

বিকেল তিনটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ডিনকে অ’বরুদ্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দাবি বাস্তবায়ন করা হলেও পাবনায় সেটা না করে প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ইটিই বিভাগকে ট্রিপল-ই তে রুপান্তরের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

যে কারণে শান্তিতে নোবেল পেলেন কৃষকের ছেলে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ !

চলতি বছরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

গত বছর ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় ইথিওপিয়া। ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয়মাসের মধ্যেই তিনি এই অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। এতে ১‌৯৯৮-২০০০ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর গত ২০ বছরের অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে। ওই যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যমতে, এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩০১টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল।

এর মধ্যে ২২৩ জন ব্যক্তি ও বাকি ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে গত ৫০ বছর ধরেই বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কর্তৃপক্ষ। আগামী ডিসেম্বরে অসলোতে বিজয়ীকে নয় মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার পুরস্কার দেয়া হবে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইথিওপিয়ায় ব্যাপক উদারীকরণ সংস্কার করেন আবি আহমেদ। দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রীত সমাজ ব্যবস্থায় তিনি বড় ধরনের একটা নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন।

কারাগার থেকে কয়েক হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকে তিনি মুক্ত করে দেন। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে-তিনি প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশকের যুদ্ধের ইতি ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তি সই করেন। পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার চেষ্টায় গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায় ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস- আইসিএএন।

আগামী ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। গরিব কৃষকের সন্তান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে আফ্রিকার দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির সংস্কারের নেপথ্য নায়কে পরিণত হয়েছেন আবি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কয়েক দশকের ঘা-কে তিনি সেরে তুলেছেন। তাকে দেশটির এক অবিশ্বাস্য নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। শুক্রবার নোবেল জয়ের মধ্য দিয়ে তার জীবনের অবিশ্বাস্য গল্পের নতুন একটি অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

৪৩ বছর বয়সী এই আফ্রিকান নেতা নিজ সমাজ ব্যবস্থাকে একটা বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গেছেন। সেই গতিকে তিনি সীমান্ত ছাড়িয়ে বহুদূর ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের কেবল কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নৃশংসতার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। এছাড়া তার পূর্বসূরি যাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছিল, সেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের তিনি দেশে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আবি আহমেদ প্রতিকূলতাও রয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বিক্ষোভও করছেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও মিত্রদের প্রত্যাশা, তার ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ তার তার উত্থানকে দীর্ঘায়িত করবে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বেশাসায় এক মুসলমান বাবা ও খ্রিষ্টান মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছেন আবি। বিদ্যুৎ ও পানির স্বল্পতা ছিল তাদের বাড়িতে।

এমনকি তাকে ফ্লোরে ঘুমিয়ে বড় হতে হয়েছে। গত মাসে একটি রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নদী থেকে আমাদের পানি বয়ে নিয়ে আসতে হতো। সপ্তম গ্রেডে পড়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কিংবা অ্যাসফল্ট আস্তীর্ণ রাস্তা দেখেননি তিনি। ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপল’স রেভালুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) গঠনের মধ্যে দিয়ে আবি আহমেদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। প্রযুক্তির প্রতি তার আলাদা মুগ্ধতা রয়েছে।

কিশোর বয়েসে তিনি সামরিক বাহিনীর একজন রেডিও অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। সরকারে ঢোকার আগে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবি পেয়েছিলেন। ইথিওপিয়ার সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ছিলেন তিনি

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *