প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সিলেট ও সুনামগঞ্জে ফের বন্যায় ডুবেছে ঘর বাড়ি। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। উজানে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, সারীনদীসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদসীমার উপরে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাড়িঘর রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর দাবী তোলা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকাসহ সুরমার তীর ঘেঁষা ওয়ার্ডগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিলো। এখনো অনেক জায়গায় পানি রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন বাসা বাড়ির নিচতলার বাসিন্দাদের।
সিলেট শহরতলীর সদর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের অন্ততঃ ৭টি ইউনিয়নই বন্যা কবলিত। হাটখোলা, জালালাবাদ, মোগলগাঁও, খাদিমনগর, কান্দিগাঁও, টুকেরবাজারের একাংশসহ প্রায় এলাকার মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। এছাড়া, গতকাল শনিবার সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে বন্যার পানি ঢুকে যায়। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া চাল পানিতে ভিজে যায়।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে সুরমা কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ১২.৭৫ সেন্টিমিটার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে সুরমার পানি ১৩.৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সারি নদী সারিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ১২.৩৫ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে ১২.৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ৯.৪৫ সেন্টিমিটার। সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে নদীর পানি ৯.৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ ঃ কোম্পানীগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা আবিদুর রহমান জানান,উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। ধলাই-পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ – ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক ব্যতিত উপজেলার সকল কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের মাঠ, সরকারি কোয়ার্টার, থানা কম্পাউন্ডার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। থানা বাজারে লোকজন চলাচল করছে নৌকায়। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন জনগণ। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন অবস্থান করছেন।
এ বছর তৃতীয়বারের মতো বন্যার কবলে পড়লেন কোম্পানীগঞ্জের মানুষ। করোনাকালে আকস্মিক বন্যায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই আবারও বন্যা হয়। এর আগে গত ২৭ মে প্রথম দফায় ও ২৬ জুন দ্বিতীয় দফায় কোম্পানীগঞ্জে বন্যা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, তার বাসার নিচ তলার রুমগুলোতে হাঁটু পরিমাণ পানি। বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৫ টি স্কুল-কলেজকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
কানাইঘাট ঃ কানাইঘাট থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা আলাউদ্দিন জানান, গত কয়েকদিন থেকে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কানাইঘাটে বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে অনেক আমন ধানের বীজতলার ক্ষতিসাধন হয়।
গতকাল শনিবার কানাইঘাট সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাট পূর্ব বাজার দক্ষিণ বাজার, খেয়াঘাট, উত্তর বাজার ও কামার পট্টিতে সুরমা নদীর পানি অনেকটা ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার পাশাপাশি তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
ভারি বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে কানাইঘাটে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ বারিউল করিম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন বন্যা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে আমরা মনিটরিং করছি।
গোয়াইনঘাট ঃ গোয়াইনঘাট থেকে মনজুর আহমদ জানান, ফের গোয়াইনঘাট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা। গত দুইদিনের পাহাড়ি ঢলে সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এতে সহ¯্রধিক ফিসারীর মাছ পানিতে পুনরায় ভেসে গেছে, অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এছাড়া, সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক ও গোয়াইনঘাট জাফলং সড়কে, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে। এতে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, বাউরবাগ হাইর, আসামপাড়া হাওর, পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দা, তীতকুল্লি, বুধিগাঁও, খাষ, দাড়াইল, বাংলাইন ও লাতু হাওর, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাতাইন, পাঁচপাড়া, পুকাশহাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ ছোট বড় ও নীচু কাঁচা এবং পাকা সকল রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে সারী ও পিয়াইন নদীতে বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, উপজেলার সিংহভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ- বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ৭৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন, ২০টা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। রস্তমপুর ইউনিয়নে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে কিছু লোকজন আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া ৩০ টন চাউল ও ২৫০ পেকেট শুকনা খাবার ত্রাণের জন্য পেয়েছি। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।
সুনামগঞ্জ ঃ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী জানান, বন্যার পানিতে আবারও ভাসছে সুনামগঞ্জ শহর। শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্লাবিত হয়ে এলাকায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩ টা থেকে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৮ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপদ সীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী প্রিতম পাল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভরতে চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় ৫২৩মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে তা সুরমা নদীতে পড়লে পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ছিল ৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদ সীমা হল ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।
৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ধরা হয়। এদিকে, সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারের গ্রামীণ সড়ক ডুবে গিয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, বন্যার পানিতে ছাতক-সিলেট সড়কে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়াও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা সদরের সবক’টি রাস্তা ডুবে গিয়ে উপজেলা সদরে বাসাবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। একই অবস্থা তাহিরপুর উপজেলায়ও।
বৃহস্পতিবার বন্যাপূর্বাবাস কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ স্বাক্ষরিত বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলা উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এক সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৮ জুন (রোববার) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে ৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল। যা বিপদ সীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার।
ছাতক ঃ ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান,ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। ছাতকে সুরমা নদী বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার পিয়াইন, চেলা,বটের খাল,বোকা,ডাউকি নদীসহ সবকটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সড়কে পানি ওঠায় সিলেট, সুনামগঞ্জসহ সারা দেশের সাথে ছাতকের সরাসরি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির,সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদ আলী, জাউয়া বাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন ও ইসলাম পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম জানান তাদের এলাকার হাট বাজার ও অনেক ঘর বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে । ছাতক শহরে চলাচল করছে নৌকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো গোলাম কবির জানান, ছাতক শহরে ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার প্রায় ৮৫ হাজার লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
দোয়ারাবাজার ঃ দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে তাজুল ইসলাম জানান, তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৯ ইউনিয়নের লাখো মানুষ। দু’দফা বন্যায় মাঠঘাট, হাওর-বাওর, জল স্থল একাকার হয়ে পড়ায় গবাদি পশুসহ সর্বক্ষেত্রেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষজন। অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিতে নিমজ্জিত হওয়াসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পেটের পীড়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বানভাসি এলাকায়।
এদিকে, পরপর দু’দফা বন্যায় সবক’টি সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে সকল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া উঠতি আউশ, আমনের বীজতলা, সবজি খেত ও মাছের খামারগুলো প্রথম দফা বন্যায় বিনষ্ট হওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হন হাজারো পরিবার। তবুও ক্ষান্ত হননি কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী পরিবারগুলো।
বুকভরা আশা উদ্দীপনা নিয়ে ভেসে যাওয়া পুকুরগুলোতে আবারও মাছের পোনা ছাড়েন খামারিরা, বিনষ্ট হওয়া বীজতলায় তড়িঘড়ি করে আবারও বীজ বুনেন কৃষকরা। কিন্তু বিধি বাম ! দ্বিতীয় দফা বন্যায় সবকিছু আবারও ভেস্তে যাওয়ায় বিশেষত চড়া সুদে ঋণ গ্রহিতারা এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন তারা। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সুরমাসহ উপজেলার সকল নদনদী, হাওর, খাল-বিলের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘরে হাটু ও কোমর পানি লেগে আছে। অনেক পরিবারের উঁনুনে হাড়িও বসছেনা। ঢলের তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরদরজা ধসে গিয়ে পানিতে ভেসে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংসহ কন্ট্রোলরুম খোলা রয়েছে। উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বানভাসিদের মাঝে শুকনো খাবার প্যাক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দফা বন্যার রেশ কেটে উঠার আগেই সপ্তাহকানেক ব্যবধানে ফের বন্যা শুরু। এবারের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ত্রাণ বিতরণসহ আমাদের সকল তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ণের জন্য আবারও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
ধর্মপাশা ঃ ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) গিয়াস উদ্দিন রানা জানান, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ঢলের পানি সুরমা নদী দিয়ে বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে উপজেলার সর্বত্র এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এলজিইডির সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তাসহ সবগুলো সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ও কন্টোল রুমের মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় মনিটরিং ও বন্যা দুর্গত পরিবারদের নিরাপদ স্থানে আনা অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মপাশায় অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ঢলের পানি সুরমা নদী দিয়ে বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার এলজিইডি সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাকা ও পিচ ঢালাই সব কটি রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জেলা ও উপজেলা সদর এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এক হাজার হতে ১২শ গ্রামের লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর বাজার বাদে মধ্যনগর, জয়শ্রী, গোলকপুর, ভারতের সীমান্ত এলাকায় মহেষখলা, গুলগাঁওসহ সব কটি হাট বাজার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গবাদি পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। হাঁস-মুরগি বন্যার পানিতে ভাসছে।
স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এর উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নিয়ে জরুরী আলোচনা সভায় বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য একটি কন্টোল রুমের মাধ্যমে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সদস্যরা বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং বন্যা দুর্গত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে এনে শুকনো খাবারের ব্যবস্থার কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান পলাশসহ কর্মকর্তারা স্পিট বোর্ড নিয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম পরিদর্শন করছেন বলে জানা যায়।
এব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ একটিও পরিবার না খেয়ে থাকবে না। আমি প্রতিটি এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, বন্যা কবলিত প্রতিটি গ্রামের সাথে আমার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী ও ভিজিএফ এর চাল ও শুকনো খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনতাসির হাসান পলাশ বলেন, আমি প্রতিটি এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানগণকে বলে দিয়েছি যে, নিজ নিজ ইউনিয়নে বন্যার্তদের প্রতি খেয়াল রেখে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে শুকনো খাবারসহ আমাকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। যে কোন ইউপিতে জরুরী বৃত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌছানোর সুব্যবস্থা রয়েছে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মনসুর উদ্দিন আহমদ ইকবাল জানান, হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চল হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলায় নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ক্রমেই তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতে করে ওই তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের রাস্তা-ঘাটসহ বেশ কিছু বাড়ি-ঘর তালিয়ে যাচ্ছে।
তবে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, কিছু কিছু নিচু স্থানে পানি উঠলেও বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। বৃষ্টি কমে গেলেই নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার দুপুর পর্যন্ত এক টানা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যায়।
এতে করে আজমিরীগঞ্জের কুশিয়ারা কালনি ভেড়ামোহনা ও বশিরা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ওই এলাকার রাস্তা-ঘাটসহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করে। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার পাহাড়পুর, মুরাদপুর, বিথঙ্গল, লাখাই উপ
শেয়ার করুন
