প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিজস্ব প্রতিনিধি কবির আহমেদ :: বিমান বাংলাদেশের লন্ডন সিলেট রুটের বিরাট পরিবর্তনের ফলে পুরো বৃটেনজুড়ে সিলেটবাসীর আলোচনার মুল বিষয়বস্তু হলো বাংলাদেশ বিমান। সারা বৃটেনে বাংলাদেশীদের মধ্যে শতকরা ৯০% ভাগ সিলেট থেকে আসা। প্রায় পাঁচ প্রজন্ম ধরে এখানে সিলেটের প্রবাসীরা বসবাস করে আসছেন।
প্রতিবছর সিলেটের প্রবাসীরা নাড়ীর টানে বাড়ী যেতে কার্পণ্য করেন না। আর সেক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ বিমান। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃক লন্ডন সিলেট রুট পরিবর্তনের কারণে সিলেটবাসীরা বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ নিয়ে লন্ডনের স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও বাংলাদেশ বিমান অফিসে লিখিত প্রতিবাদের স্তুপ জমেছে। আর এই প্রতিবাদের কারণে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাঈদা মোনা তাসনিম সিলেটবাসীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। লন্ডনের স্থানীয় এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে বলেছেন, এ ব্যাপারে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব। আমি আশাকরি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে ।
বাংলাদেশ সরকার গত ১৬ ই জুলাই ঘোষণা দিয়ে ২৬ শে জুলাই নতুন রুটটি কার্যকর করে। আর ঐদিন থেকে লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে কোন ফ্লাইট যায় নাই। ইতিমধ্যে যেসকল যাত্রী লন্ডন থেকে সিলেট গিয়েছেন । তারা ঢাকায় নেমে ইমিগ্রেশন করে এবং ল্যাগেজ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেট পাঠানো হয় ।
বিমানের এরকম বিদ্বেষমুলক সিদ্ধান্তের কারণে সিলেটের যাত্রীরা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রবীণ সিলেটিদের সাথে কথা হয়। তারমধ্যে সর্বজনাব আব্দুল রব তিনি ৬০ এর দশকে এদেশে আসেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমি এই বৃদ্ধ বয়সে প্রতিবছর দেশে যাই, সবসময় ভাড়া কিছু বেশী দিয়ে বিমানে যাই, কারণ কোন ঝামেলা ছাড়া সিলেটে চলে যেতে পারি। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় নেমে ইমিগ্রেশন করলে অনেক বেশী সময় লাগবে। আর ঢাকা এয়ারপোর্টে যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো বলেন, আপনারা জুড়ালো প্রতিবাদ করুন এবং প্রতিবাদ লিপিতে আমরা দস্তখত করব।

তবে সম্মানিত হাইকমিশনার সাঈদ মোনা তাসনিম এর সাক্ষাৎকারে সিলেটবাসী আশার আলো দেখছেন। তিনি আরো বলেন, আমি দেড়বছর যাবত লন্ডনে আছি । আমি আপনাদেরই একজন, প্রবাসীদের সমস্যা মানে নিজের সমস্যা হিসাবে আখ্যায়িত করেন ।
তিনি বলেন আমি ইতিমধ্যে প্রতিবাদ লিপিগুলি ঢাকায় পাঠিয়েছি । ইতিমধ্যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিভিল এভিয়েশনের সাথে কথা বলেছেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, আমি কমিউনিটির সাথে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
সিলেটবাসীরা আশার আলো দেখছেন । সিলেটের বিলাত প্রবাসীরা আশাকরেন বিমান বাংলাদেশ শীঘ্রই তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনবে ।
