সিলেটের সামাজিক ও নাট্যকর্মী আতিক রাহি


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক মো কবির আহমেদ :: সিলেটের সামাজিক অঙ্গনে খুবই পরিচিত মুখ এবং সিলেটের নাটকের অঙ্গনে অত্যন্ত প্রিয় এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সিলেটের নাট্যাঙ্গন যাদের হাত ধরে এগিয়েছে তাদেরই একজন জনাব আতিক রাহি। আতিক রাহি  ১৪/০৮/১৯৫৭ সালে, সিলেট শহরের আম্বরখানা এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহন করেন ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট শহরের সুবিদ বাজারে একঝাঁক তরুনের সম্বন্বয়ে গঠিত হয় ইয়ং টাইগার্স ক্লাব। টাইগার্সরা মুলত বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নাটক ও সাহিত্যচর্চায় অবদান রেখেছে ।নাটকের মাধ্যমে এদেশের সংস্কৃতি, কুসংস্কার এবং সামাজিক আন্দোলন মানুষের সামনে তুলে ধরতেন।

প্রথম জীবনে মঞ্চ নাটক এবং রেডিওতে খুব ব্যস্ত থাকতেন । ১৯৭২ সালে ইয়াং টাইগার্সের অফিস ঘর ছিল সুনামগঞ্জ রোডে সুবিদ বাজারে। আমি তখন মাত্র ৭ বছরের বালক । আবছা আবছা সবকিছু মনের পর্দায় ভেসে উঠছে । আমাদের তখন পদচারণা ছিল এই এলাকা জুড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছি ।

রাজনীতি বুঝতাম না, শুধু বুঝতাম বাংলাদেশ স্বাধীন । তখন দেখতাম এই ক্লাব ঘরে বড়ভাইরা জম্পেশ আড্ডা দিতেন। সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছি হয়ত কোন ভাই জিজ্ঞেস করেছেন “কিতাবা কবীর কই যাও “। তাতেই খুশীতে গদগদ করতাম। বড়ভাইদের তালিকায় ছিলেন আতিক রাহি, বেলাল ভাই, লায়েক ভাই, ফজু লস্কর, শাব্বির ভাই, ইজ্জাই ভাইরা । ইতিমধ্যে লায়েক ভাই পরলোকে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন) ।

ইয়ং টাইগার্স সম্ভবত তাদের প্রথম নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন সুবিদ বাজারের বর্তমান ইসলাম ভিলায় ।
নাটকের নাম আমার মনে নেই । তবে শ্রদ্ধেয় আতিক ভাই বলেছেন “মুক্তাহার “। তারা যখন এই নাটকের মহড়া করতেন বিভিন্ন পরিত্যক্ত বাড়ীতে । চুপি চুপি করে ফাঁক ফোকড় দিয়ে মহড়া দেখতাম। তখন কত যে পুলকিত হতাম । ভাবতাম ভবিষ্যতে অভিনয় করব।

শেষ পর্যন্ত একদিন নাটকটি মঞ্চস্হ হলো এবং দেখলাম । এই যে শুরু হয়েছিল আতিক ভাইয়ের, আর পিছনে থাকাতে হয়নি চার শতাধিক মঞ্চ নাটক এবং ৩৬ টি বেতার নাটক ১৫ টি পথনাটক । “বিবেচনা ও আশা নিরাশা নামের দুটি ইউটিউব নাটক আছে । আন্ত:জেলা নাট্য প্রতিযোগীতায় উনার নির্দেশনায় ও অভিনয়ে “সুরমা কান্দে” মঞ্চ নাটকটি ছয়টি পুরস্কার লাভ করে ।

১৯৭৭ সালের ২৪ শে এপ্রিল সিলেটে নাট্যলোক প্রতিষ্ঠা করেন । আতিক রাহির হাতে গড়া নাট্যলোক এখনও সুনামের সাথে নাটক মঞ্চস্হ যাচ্ছে । আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে আতিক রাহির প্রতিষ্ঠিত “নাট্যলোক” সিলেট প্রথম সার্থক নাটক “রক্তের খেলা“ নির্মাণ করে দেশে বিদেশে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন ।
একজন স্বনামধন্য নাট্যকর্মী হিসাবে এই সমাজকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন ।

নাটকের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার ও কলুষিত চিত্র তুলে ধরেছেন ।নতুন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে । নাট্য জগতে তিনি খুবই সফল একজন মানুষ । উনার নাটকের সংখ্যাই বলে দেয় । নাটকের মাধ্যমে আমাদের সিলেট বাসীকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন । কোন কিছু পাওয়ার আশায় নয় । নি:স্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন । একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ।

ব্যাক্তিগত জীবনে ও অত্যন্ত সফল একজন এবং বাগান বিলাসী একজন মানুষ । অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন, অমায়িক মানুষ । শান্ত স্নিগ্ধ এবং সদা হাস্যজ্জল প্রিয় এই বড়ভাইর জন্য অফুরান দোয়া আর ভালোবাসা রইল। ধর্মপরায়ন একজন সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী মানুষ । ছেলে মেয়ে নাতী নাতনী নিয়ে সুখেই দিন যাপন করছেন । অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত আর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুরো বিশ্বে উনার বিচরণ । উনার শারীরিক সুস্হতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করি ।

কবীর আহমেদ

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *