প্রবাস বার্তা ২৪.কম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী : অভিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলার ২৪৮ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫০টি মাধ্যমিক বিদালয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, কয়েক দিনের অভিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জেলার দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছেনা। এবং কোন কোন বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত ঢলের পানি চলে আসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসেনি। তাই তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলার ৮টি উপজেলার ১৯৮ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বিদ্যালয়কে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্ধ ঘোষণাকৃত বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৯টি, বিশ্বম্ভরপুরে ৩০টি, তাহিরপুরে ২৭টি, ধর্মপাশায় ৬০টি, জামালগঞ্জে ৩০,ছাতকে ১০টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, দোয়ারাবাজারে ১ টি, তাহিরপুরে ৮টি, বিশ্বম্ভরপুরে ৩টি, ধর্মপাশায় ১টি ও সুুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১টি বিদ্যালয়।
এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর সারোয়ার জাহান খান জানান, বৃহস্পতিবার ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে যায়নি। বন্যায় বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার রাস্তাসহ কোন কোন বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পানি উঠে পড়ায় শিক্ষার্থী নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলার তাহিরপুর উপজেলায় ৮টি, দোয়ারাবাজারে ১০টি ধর্মপাশায় ২টি, জামালগঞ্জে ৪টি, বিশ্বম্ভরপুরে ১৭টি এবং সদর উপজেলায়৯ টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা টায় টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৯ টায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া ও নবীনগর, সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও শহরের নতুনপাড়া, বিলপাড়, ষোলঘর এলাকা অভিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বন্যার পানি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর, সুরমা, গৌরারং, মোহনপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের বাড়ি-ঘরে ডুকেছে।
কয়েকে দিনে অভিরাম বর্ষণে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারাপুর ও শক্তিয়ারখলা এলাকায় ঢলের পানি ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কটি আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার ডুবে গেছে। সীমান্ত নদী যাদুকাটা নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উভয় তীরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানান, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে রাত ৯ টায় ৮ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদ সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর। ৭ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বিপদ সীমা ধরা হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, যেসব এলাকা বন্যা দূর্গত সেসব এলাকায় বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখার নির্দেশ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে এ উপজেলাগুলোর বেশ কিছু বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। এ ৫টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নগদ ৫০ হাজার করে টাকা, আড়াই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া আছে। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনে এখনও কিছু শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ ও চাল রয়েছে। যেকোন পরিস্থিতিতে দূর্গতদের দেওয়া যাবে। এছাড়াও অতিরিক্ত ত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে।
