২০১৯ সালের শেষের দিকে কভিড-১৯ চাইনার উহান প্রদেশ থেকে শুরু। তারপর আস্তে আস্তে বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড সহ বিশ্বে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।
বিশ্ব যখন মুখ থুবড়ে বসে আছে বাংলাদেশ তখনো সিরিয়াসলি মরণব্যাধি ভাইরাস নিয়ে মাথা ব্যাথা ছিল না।
বিভিন্ন ধরনের লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সাহসী কথাবার্তা শোনা যায়। সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন “করোনাভাইরাস হলো “সর্দি কাশির মতো’! যাই হোক সিলেটের জনগণকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার জন্য উনাকে ধন্যবাদ।
কিন্তু সেই সাহসী কথাবার্তা ভুল প্রমাণিত হলো । বিনা চিকিৎসায় ডাক্তার মঈন, কুমার পাড়ার খোকাভাই , সিভিল সার্জন মতিন সাহেব সহ অনেক জন চলে গেলেন পরপারে। হাসপাতালে বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও সিভিল সার্জন মতিন সাহেবের কন্যা নিজে স্ট্রেচার ঠেলতে হয়েছে । কেন এই অবস্থা হবে হাসপাতলে! মনে রাখা উচিত প্রবাস থেকে যে রেমিটেন্স পাঠানো হয় ,সেই রেমিটেন্সের একটা অংশ কর্মচারীর বেতনের অংশ।

করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য সেই সকাল ৮ ঘটিকায় গিয়ে লাইন ধরতে হয় রোগীকে। সকাল ১১ ঘটিকায় গেইট খোলা হলে রোগী নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তারপর কাউন্টারে যিনি দায়িত্বে থাকেন তিনি করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য অন্য কক্ষে টোকেন দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
সেখানে যাবার পর রোগীর বিস্তারিত নাম টেলিফোন নাম্বার লিপিবদ্ধ করা হয় খাতায়। তারপর রোগীর হাতে একটা টোকেন ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় আগামীকাল আসতে। কি অদ্ভুত সিস্টেম। হ্যাঁ তখন যদি করোনা পরীক্ষার জন্য ঘুষ দেওয়া হয় তখন আর আগামীকাল আসতে হয় না। সিলেটের সদর হাসপাতালে অনেক অনিয়ম চলছে। আশা রাখি এই অনিয়ম চিরতরে দূর করা হোক।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সময় ভিডিও কনফারেন্সে করেছিলেন সিলেটের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কতটুকু সিলেট প্রস্তুত? দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিকভাবে জনগণের জন্য চিন্তা থাকে।
উত্তরে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকারের চামচাদের দল।
ডাক্তার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল হলো ১০০ শয্যার হাসপাতাল। এই হাসপাতালে রয়েছে একটা বিরাট সাইনবোর্ড। কিন্তু হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে সরঞ্জামের প্রয়োজন তাও ছিলনা। এমনকি পানির সুবন্দোবস্ত না থাকায় সিটি মেয়র জনাব আরিফ ব্যবস্থা করে দেন।
ঠিকমতো বিদ্যুৎ ছিল না।করোনা ভাইরাসের রোগীর অক্সিজেনের ব্যবস্থা সেই হাসপাতলে নাই। দুঃখ লাগে সিলেট বিভাগে পাঁচজন মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রোগীদের দুর্দশা দেখে। মন্ত্রীমহোদয় গণ মনে হয় গাড়ির মধ্যে পতাকা লাগিয়ে শুধুমাত্র ঘুরাঘুরির জন্য।
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন প্রথম থেকেই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল অন্ততপক্ষে দুইটা অত্যাধুনিক হাসপাতাল যেন করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু আজ ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরিতা হয় নাই। কবে হবে তাও কোন সঠিক তারিখ কেউ জানেন না।
দুই দিন আগে সাবেক মেয়র কামরান ভাই কে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে উন্নত মানের চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এরকম কয়জনের কপালে জুটবে হেলিকপ্টার। ঢাকায় গিয়ে সিলেটের সাধারণ জনগণের জন্য চিকিৎসা করা অসম্ভব। হ্যাঁ সম্ভব হবে যদি কালো টাকার পাহাড় থাকে। সিলেট বিভাগের পাঁচ জন মন্ত্রীকে বলছি আপনারা যদি সিলেটের এই দুর্দিনে এগিয়ে না আসেন কে আসবে? হ্যাঁ আপনারা এতদিন ঘুমিয়ে ছিলেন। এখন সময় এসেছে সজাগ হওয়ার জন্য।
যেসব ক্লিনিক এতদিন সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা না করার বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দিয়েছিলেন। তারমধ্যে করোনা ভাইরাস ছাড়া কোন রোগী ভর্তি হতে গেলে প্রথমেই প্রমাণ করতে হতো উনার করোনাভাইরাস নাই। সেই প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হলে ৫/৭ দিন চলে যায়।
এমতাবস্থায় একজন হৃদরোগী বা ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে নেমে আসে পরপারের টিকেট। হ্যাঁ যদি রোগীর কোন আত্মীয় স্বজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকেন তাহলে প্রমান পত্রের জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে লাগেনা। সিলেটে কেন এত বৈষম্য? খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ কি স্রষ্টার সৃষ্টি না! বলতে গেলে সিলেট বিভাগ হয়ে গেছে অভিভাবকহীন।
সিলেটের এই দুরবস্থা জন্য মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাধারণ জনগণ বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপর আস্তা হারিয়ে গেছে। লাশের বন্যায় প্লাবিত হবার আগে সিলেট বিভাগকে রক্ষা করুন।
গত দুইদিন থেকে সিলেটের প্রাইভেট ক্লিনিক এবং প্রাইভেট হাসপাতাল সাধারণ রোগীর জন্য টালবাহানা না করে সেবা দিতে প্রস্তুত। ধন্যবাদ প্রাইভেট ক্লিনিক এবং হাসপাতালে ব্যবস্থাপকে। অতীতে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং প্রাইভেট ক্লিনিকের অনেক দুর্ণাম রয়েছে।
মাউন্ট এডোরা হাসপাতলে চিকিৎসা না দিয়ে ৭৫০০০ টাকার বিল করা হয়। আশা করি সেবা দেবার নামে আপনাদের ক্লিনিক এবং হাসপাতাল যেন কসাইখানায় রূপান্তরিত না হয়। এই দুর্দিনে আপনাদের মধ্যে মানবতা জাগ্রত হোক ইহাই জনগণের একান্ত কাম্য।
৯ই জুন ২০২০ সাল
লস অ্যাঞ্জেলেস
