আব্দুল আজিজ নুনু মিয়া – ম আ মোশতাক (ভিডিও সহ)


আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল আজিজ নুনু মিয়া চেষ্টার এর অত্যন্ত পরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী হিসেবে পরি্রিচিত। তিনি ১৯৪৮ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা অন্তর্গত মটুকোনা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতার নামঃ মোঃ তরমুজ মিয়া।  তার পিতা ১৯৫৮ সালে ব্রিটেন আসার পূর্বে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষিভিত্তিক কর্মে আত্মনির্ভরশীল ছিলেন। তার নিজস্ব কৃষি খামারে অন্যান্য লোকের ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল। যদিও একান্ত ব্যক্তিগত টানে শেষ পর্যন্ত বিলেতে চলে আসতে বাধ্য হন।

পিতার বিলেত আসার তথ্য সঠিকভাবে বলতে না পারলেও তিনি বলেন তৎকালীন মেডিকেল বা লেবার ভাউচারে যে কোন লোক এই পদ্ধতির আওতায় এসেছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পিতার পথ অনুসরণ করে তিনি বিলেত আসতে উদ্বুদ্ধ হন।

১৯৬৬ সালে তিনি বয় ভাউচার নিয়ে বিলেত চলে আসেন। তখন তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পিতার একান্ত ইচ্ছায় লেখাপড়ার ইতি টেনে জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করতে হয় । উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকাকে তার জীবনের বড় দুর্ভাগ্য বলে মন্তব্য করেন । তখন ছিলেন ১৩ বছরের বালক এবং বিলেতে এসে পার্ট টাইম কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু দিন লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। এই সময় প্রথম পর্যায়ে বার্মিংহামের ওসলে দুই মাস কাটান। পরে চলে যান অক্সফোর্ড ও লন্ডনের মধ্যবর্তী এলাকা বার্কশায়ারের রিডিং এলাকায় ।

১৯৬৬ – ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত অত্র এলাকায় থাকাকালীন সময়ে পার্টটাইম কাজ করাকালীন সময়ে কোনদিন অধ্যায়ন করতে অমনোযোগী হননি। বিলেতে পিতার কর্মজীবনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, তৎকালের ব্রিটেনে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যাক্টরির চাকরি ছিল। সেখানে অনেক বাংলাদেশী কর্মরত ছিলেন । তাদের মধ্যে একজন তার পিতা ও ছিলেন।

পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পিতার সংসারে তার পিতা-মাতা, অপর দুই বোন ও এক ভাই ছিলেন । তাদের উভয়ের উপস্থিতিতে বেশ সুখী ছিলেন। তিনি এক ভাই ও এক বোনের ছোট ছিলেন এবং সর্বকনিষ্ঠ বোনের বড় অর্থাৎ ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয় তবে সম্মিলিতভাবে তৃতীয়।

রিডিং এলাকার “করাচি রেষ্টুরেন্ট” এ ইভিনিং টাইমে কাজ করার সময় প্রতি সপ্তাহে বেতন ছিল ৫ পাউন্ড। রেষ্টুরেন্ট তার এক আত্মীয় ছিল এবং বয়স কম থাকার দরুন ওয়েটারের কাজ না করে কিচেন পোর্টারের কাজ করতে হতো । বেতন কম হলেও থাকাও খাওয়া ফ্রি ছিলো। সেখানে রেষ্টুরেন্টের উপরে স্টাফ থাকার ব্যবস্থা ছিল।

আত্মীয়তার সুবাদে অনেক সুবিধা পেতেন। তিনি যদিও বয়সে ছোট ছিলেন তাই লাঞ্চ টাইমে খোলা থাকলেও লেখাপড়ার ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেই জন্য তিনি লাঞ্চের সময় কাজ না করলেও চলত। ফলে দিনে স্কুলে এবং বিকেলে কাজে এভাবে তার বেশ ভালই সময় কাটছিল। কাজের শুরুতে প্রতি সপ্তাহে ৫ পাউন্ড দিয়ে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে তার বেতন বৃদ্ধি পায়।

প্রায় এক বছর কিচেন পোর্টার হিসাবে কাজ করেন। তারপরে এক বছর কাজ করেন কুক হিসাবে । তারপর তিনি শেফের কাজ শিখে ফেলেন।

১৯৪৮ সাল সাপ্তাহিক বেতন পেতেন ২০ থেকে ২৫ পাউন্ড এবং নিজের ব্যবসা চালু পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। রেষ্টুরেন্টের মালিক ছিলেন তার ফুফাতো ভাই হাফিজুর রহমান তেরা মিয়া, যিনি বাংলাদেশের প্রথম ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি সুরমা ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রির মালিক ছিলেন। এটি ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার নিকটবর্তী ছিল। জাপান থেকে মূলত টেলিভিশন অ্যাসেম্বল করা হতো। এটা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিলো এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছিলো।

কেটারিং ব্যবসার সাথে তিনি দীর্ঘদিন জড়িত থেকে তৎকালীন অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। তিনি বেশকটি ব্যবসা পরিচালনা করেন যেমন “করাচি রেষ্টুরেন্ট” কেন্টারবারি এলাকায়, “কোহিনুর রেষ্টুরেন্ট”“ইস্ট বেঙ্গল রেষ্টুরেন্ট” যার প্রতিটিতে জনাব আজিজ কাজের সুযোগ পান। ফলে তাকে অন্য কোথাও কাজ খোঁজার জন্য অন্য কোথায় যেতে হয়নি।

১৯৭৩ সালের চেষ্টার এলাকায় প্রাচীন রেষ্টুরেন্ট এশিয়া অর্ধেক পার্টনারশিপে এই ব্যবসায় জড়িত হন। তৎকালীন সাত হাজার পাউন্ড দিয়ে তিনি ব্যবসায় পার্টনার হন। প্রথম দিকে ব্যবসা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০ থেকে ৬০০ পাউন্ড হত। এই ব্যবসা দিয়েই তাদের ভালোভাবে চলে যেত। কারণ তখনকার দিনে খরচ কম ছিল। সাপ্তাহিক দোকান ভাড়া ছিল মাত্র ২০ পাউন্ড এবং বিজনেস রেইট ও কম ছিলো। জিনিসপত্রের দামও খুব সস্তা ছিলো। সকল খরচ বাদে সাপ্তাহিক ব্যবসা দিয়েই তাদের ব্যবসা ভালোই চলেছে। বেতনের সাথে ব্যবসার কিছু লাভও পাওয়া যেত।

১৯৭৩-৮৬ সাল পর্যন্ত এই ব্যবসায় থাকাকালীন হাজার ১৯৭৯ সালে প্রেস্টন এলাকায় পার্টনারশিপে “আশা রেষ্টুরেন্ট” নামে অপর একটি ব্যবসা করেন। যা প্রথমে লিজহোল্ড ও পরে ফ্রি হোল্ড হিসাবে ক্রয় করেন। ভালো ব্যবসা হতো। যদিও সেই সময় লিজ ক্রয় করতে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড লেগেছিল। সাপ্তাহিক ব্যবসা গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার পাউন্ড হয়ে যেত। প্রায় ৫ বছর এই ব্যবসার সাথে থাকার পর পারটনাদের নিকট তার অংশ বিক্রি করে দেন।

তারপর ব্ল্যাকবার্ন অ বল্টনের মধ্যবর্তী স্থানে ডারউইনে ১৯৮০ সালে “আনন রেষ্টুরেন্ট” নামে পারটনারশীপে তৃতীয় ব্যবসাটি করেন। ছোট ভিলেজ তিনটি ল্যাঙ্কাশায়ার এর অন্তর্গত ছিল। ৪/৫ বছর পরিচালনার পর ব্যবসাটির অপর অংশ পার্টনারের কাছ থেকে ক্রয় করে নেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কারণে এটি বিক্রি করে দেন।

১৯৮৬ সালের বিলেতের ব্যবসা ছেড়ে নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশে গিয়ে সিলেট শহরের লন্ডন ম্যানসনে একটি কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। যার নাম ছিল “রুনা ফ্যাশন” রেডিমেড কাপড়ের ব্যবসা। অপর একটি ব্যবসা করেন শুকরিয়া মার্কেটে একটি শাড়ির দোকান।

উল্লেখ্য, উনার বড় মেয়ের নামে শাড়ির দোকানের নামকরণ করেন “রুবি শাড়ি বিতান” এবং  ছোট মেয়ের নামে “রুনা ফ্যাশন”। প্রায় এক বছর দেশে কাটানোর পর ১৯৮৮ সালে তিনি বিলেত ফেরত আসেন।

চলবে……………………………


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *