বাংলাদেশে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামীর আমীর আহমদ শফীর ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ এসেছে তারই অনুসারী জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে। 
বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসার শ্রেনিকক্ষের দৃশ্য।মি: শফীর ছেলে আনাস মাদানী অভিযোগ করেছেন, গত দু’দিনে মি: বাবুনগরীর সমর্থক ছাত্ররা এবং কিছু বহিরাগত বিক্ষোভ করে মাদ্রাসাটির দখল নিয়েছিল।

মি: বাবুনগরীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।

তবে বিক্ষোভকারীরা মি: শফীকে মাদ্রাসার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া এবং তার ছেলে আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দেয়া সহ ছয় দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিলি করেছিল।

বিক্ষোভ থেকে মি: শফী এবং তার সমর্থক শিক্ষকদের কক্ষে ভাঙচুর এবং একজনকে মারধোরের ঘটনাও ঘটে।

বিক্ষোভের মুখে মি: শফীকে হাজির করে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির বৈঠক করা হয় এবং সেই বৈঠকের পর আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতিও দেয়ার কথা জানানো হয়।

শেষপর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেয়।

হাটহাজারী মাদ্রাসা: পরিস্থিতি থমথমে, পুলিশ মোতায়েন

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবারও থেকে থেকে বিক্ষোভ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল সারাদিনই মাদ্রাসার প্রতিটি ফটক বন্ধ থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থাতেই ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছে এবং মাদ্রাসার শিক্ষক আনাস মাদানীকে অবিলম্বে বহিষ্কার কার্যকর না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে শিক্ষার্থীরা ভেতরের মসজিদ থেকে মাইকিং করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখতে সব দাবি দাওয়া মেনে নেয়া হবে বলে শিক্ষকরা আশ্বাস দিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে হাটহাজারীর মাদ্রাসাটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

গতকাল দুই পক্ষের বিক্ষুব্ধ অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন শতাধিক সদস্য।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গত ২৪ অগাস্ট পুনরায় শুরু হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার কার্যক্রম।

কিন্তু এর মধ্যে মাদ্রাসার মাদ্রাসার পরিচালক আহমদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থকদের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন বাবা আহমদ শফীর অসুস্থতার সুযোগে তার ছেলে আনাস মাদানী মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থীকে হয়রানি করছেন।

এমন অবস্থায় তারা আনাস মাদানীকে অবিলম্বে বহিষ্কারসহ ছয় দাবিতে গতকাল থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here