ইসলাম শান্তির ধর্ম – আব্দুল করিম কিম


হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহঃ) সিলেট কেন এসেছিলেন, জানা আছে? তাঁর তলোয়ার কার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল? তিনি কি সিলেট বিজয়ের পর সব বিধর্মীদের কচু কাটা করেছিলেন? যারা ভুলে গেছেন অথবা যাদের জানা নেই, তাঁদেরকে সেই কাহিনী স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
লোকগাঁথার ইতিহাস ও ঐতিহাসিক গবেষকদের বরাতে জানা যায়, শ্রীহট্রের তৎকালীন হিন্দু শাসক তাঁর সংখ্যালঘু প্রজা সৈয়দ বুরহান উদ্দিন-এর সাথে অমানবিক আচরণ করেন। এমন আচরণের কারন, বুরহান উদ্দিন তাঁর বহু প্রত্যাশিত নবজাতক পুত্রের জন্ম লাভের আনন্দে একটি গরু কোরবানী দেন। গো-নিধন হিন্দু শাস্ত্রে ও রাজ্যের আইনে গর্হিত অপরাধ।
গরু দেবতা জ্ঞানে পূজিত হয়। সেই পুজনীয় দেবতা হত্যা ধর্ম অবমাননা। তাই রাজা গৌড় গোবিন্দ প্রজা বুরহান উদ্দিন কে কঠোর সাজা দিলেন। তাঁর দুই হাত কেটে দেয়া হলো এবং সেই নবজাতক শিশুকে হত্যা করা হলো। নির্যাতিত বুরহান উদ্দিন পরবর্তীতে এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে দিল্লী গেলেন।
দিল্লী সালতানাতে থাকা মুসলিম শাসকদের কাছে বিচার জানালেন। নিষ্ঠুর শাসক গৌড়-গোবিন্দকে সাঁজা দিতে দিল্লী থেকে সেনা দল রওয়ানা হলো। সেই দলের সাথেই মুসলিম সাধক হযরত শাহজালাল (রহঃ) তাঁর বাহিনী সহ যুক্ত হলেন এবং শ্রীহট্ট্র জয় করলেন। শ্রীহট্ট্র জয়ের পর কি হলো?
মুসলিম বাহিনী অত্যাচারী শাসক গৌড়-গোবিন্দকে কি পিটিয়ে মেরে জ্যান্ত আগুনে নিক্ষেপ করেছিল? রাজপ্রাসাদ সহ শ্রীহট্ট্র নগরে কি ব্যাপক লুটতরাজ করেছিলেন? রাজধর্মের সব ধর্মালয় কি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন?
উত্তর অজানা থাকলে, জেনে নিন। তাহলে ‘ইসলাম’কেও জানা হবে। ইসলাম ধর্মের নামে বাংলাদেশে বর্তমানে এক শ্রেণীর লোক যে উন্মত্ত আচরণ করছে, তা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দেয়া শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরিত। এমনকি তাঁর মৃত্যুর প্রায় সাত শ বছর পর সিলেট বিজয়ী হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর দেয়া শিক্ষার সাথেও এদের কার্যকলাপ মিলে না।
মহানবী (সাঃ)-এর দেয়া শিক্ষা সাত’শ বছর পরেও হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মত সুফি-দরবেশেরা অনুসরণ করেছেন। এটাই ইসলাম ধর্ম। তাই সেই ধর্ম মানুষের মনোঃজগতকে আলোড়িত করেছে। মানুষ দলে দলে এই ধর্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু মহানবী (সাঃ)-এর ওফাতের চৌদ্দশ বছর পর এবং হযরত শাজালাল (রহ)-এর মৃত্যুর সাতশ বছর পর আমরা আর সেই শিক্ষাতে নেই।
আমরা ইসলামের দাওয়াত দেই মধ্যরাতের মাহফিলে চিৎকার দিয়ে, হুংকার দিয়ে। আমরা অমুসলিমকে তাঁর পূর্ব-পুরুষের ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করি, অবজ্ঞাসূচক এমন সব কথা বলে অপমানিত করি যে, সে ইসলামকে জানতে চাওয়ার বদলে সে ইসলামকে ঘৃণা নিয়ে প্রত্যাখ্যান করে।
অত্যন্ত বেদনা নিয়ে এই লেখা লিখছি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের পক্ষে ফেইসবুক জিহাদে যুক্তি তর্কের বদলে যেভাবে অশ্লীল গালাগালি করা হয়, যেভাবে ভিন্নধর্মের মানুষের সাথে কথা বলা হয়, তা ইসলামের আদব নয়।
আমি সৌভাগ্যবান, আমি জন্মগত ভাবে মুসলিম। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আমার বেসিক শিক্ষা লাভ হয় বাবা’র দেয়া ধর্মশিক্ষা থেকে। সেই শিক্ষা থেকে আমি জানি, মুসলমান হচ্ছে সেই ব্যাক্তি যার দ্বারা সৃষ্টির অনিষ্ট হয় না। এই সৃষ্টিতে সব কিছু আছে। অন্য ধর্মের মানুষ আছে।
ইসলামে প্রতিবেশীর হ্বক সম্পর্কে জেনেছি যে, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয় যে রাত যাপন করলো পরিতৃপ্ত অবস্থায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত এবং সে তা জানে।’ (তহাবী শরীফ: ১/২৫)। আব্বাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আব্বা এই প্রতিবেশীর মধ্যে যদি অন্য ধর্মের মানুষ থাকে? আব্বা বলেছিলেন, যে কোন ধর্মের হোক, এখানে প্রতিবেশীর কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় বলা হতো, সে মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় অথচ তাঁর মুসলিম প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়; আল্লাহর কসম, ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ কোন ব্যক্তি মুমিন নয়? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।’ (বোখারী: ২/৮৮৯) উক্ত হাদীসের বর্ণনা বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, হাদীসের বাক্যশৈলী হাদীসের মর্মকে কিরূপ শক্তিশালী করেছে প্রতিবেশীর হকের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে।
অথচ সেই প্রতিবেশীদের কেউ একজন নবী(সা;)-এর অবমাননা করায় বা ইসলামকে নিয়ে কটাক্ষ করায় দল বেঁধে সেই প্রতিবেশীর পরিবার বা জ্ঞাতিগোষ্ঠির নিরাপরাধ মানুষকে নির্মম ভাবে আমরা নির্যাতন করছি। বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছি। আমরা কি ভুলে গেছি মুসলিম জাতির পিতা নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সেই ঘটনা?
হজরত ইব্রাহীম (আ.) এত অতিথিপরায়ণ ছিলেন যে, প্রতিদিন অন্তত একজন অতিথিকে সঙ্গে না নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতেন না।
এক দিনের ঘটনা, সারা দিনেও তিনি কোনো অতিথি পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সময় তিনি যখন হতাশ হয়ে গৃহের ভেতরে প্রবেশ করতে যাবেন এমন সময় একজন ভিক্ষুক এসে হাজির হলো। তিনি অতি আনন্দে ভিক্ষুককে বসালেন এবং খাবার দিলেন। সারা দিন ক্ষুধার্ত ভিক্ষুকটি খাবার পেয়েই গোগ্রাসে খাওয়া শুরু করল। হজরত ইব্রাহীম দেখলেন, বিসমিল্লাহ না বলেই ভিক্ষুকটি খাওয়া শুরু করেছে এবং বুভুক্ষের মতো গিলছে।
আল্লাহর প্রিয় নবী ইব্রাহীম (আ.)-এর এটা সহ্য হলো না। তিনি ক্রুদ্ধ স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হে! তুমি খাওয়ার আগে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলে না যে।’ ভিক্ষুক বলল : (নাউজুবিল্লাহ) আমি বাপু আল্লাহ-টাল্লাহ মানিনে। খাবার পেলে খাব, না পেলে উপোস করব। এর সঙ্গে আবার আল্লাহর নাম নেওয়ার কি সম্পর্ক?
হজরত ইব্রাহীম (আ.) রেগে আগুন হয়ে বললেন : ‘তবে রে হতভাগা! এর একটি দানাও তুই স্পর্শ করতে পারবি না, এক্ষনি দূর হ আমার সামনে থেকে।’ বেচারা ভিক্ষুক আর কি করবে। এক গ্রাস কি দুই গ্রাস খেয়েছিল। আর খেতে পারল না।
হজরত ইব্রাহীম (আ.) ততক্ষণে তার খাবারের থালাটিও কেড়ে নিয়েছেন। অগত্যা সে একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বিদায় নিল। কিছুক্ষণ পরেই ওহি এলো। আল্লাহ ধমকের সুরে হজরত ইব্রাহীমকে বললেন : ‘হে ইব্রাহীম! দীর্ঘ আশি বছর ধরে এ অবিশ্বাসী নাস্তিককে আমি আমার পৃথিবীতে বসবাস ও চলাফেরা করতে দিয়েছি, খাবার সরবরাহ করছি। আর তুমি কি-না একটিবারও তাকে সহ্য করতে ও খাওয়াতে পারলে না।’ অনুতপ্ত হয়ে হজরত ইব্রাহীম (আ.) ভিখারিটিকে খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেলেন না। সেই থেকে হজরত ইব্রাহীম (আ.) মুমিন ও কাফের নির্বিশেষে সব অভাবি মানুষকে দয়া প্রদর্শন করতেন এবং সব রকমের অতিথির সমাদর করতেন।
একজন নাস্তিকের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়ায় আল্লাহ তাঁর নবী’র উপর রুষ্ট হয়ে ওহী নাজিল করে ছিলেন আর আমরা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছি। আল্লাহ’র সামনে কি জবাব দেবেন? শয়তানের প্ররোচনায় গুজবে কান দিয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে লালমনিরহাটে আল্লাহর এক বান্দার সাথে যা করা হলো- এর কি জবাব দেবেন? আবু ইউসুফ শহিদ্দুন্নবী জুয়েল নামের সেই মানসিকভাবে বিপর্যস্থ ব্যাক্তির এতিম সন্তানদের ফরিয়াদ আপনাদের জন্য জাহান্নামের আগুন প্রস্তুত করছে। আপনারা চরম অন্যায় করছেন।
ছোটবেলা আব্বার মুখে শুনেছি, আল্লাহ দুনিয়াতে যত বিধান দিয়েছেন, তা শুধু তাঁর নিজের জন্য নয় বরং সৃষ্টির কল্যাণে এসব বিধান প্রণয়ন করেছেন। এ বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। যার মধ্যে কিছু বিধান লঙ্ঘনের অপরাধ তাওবা-ইসতেগফারে আল্লাহ ক্ষমা করেন। আর কিছু বিধান লঙ্ঘনের অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করেন না।
প্রথম প্রকার বিধান মানুষের ব্যক্তিগত কল্যাণ ও উন্নতির সঙ্গে জড়িত। সাধারণত এগুলোকে বলা হয় হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। এ বিধান লঙ্ঘন করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
দ্বিতীয় প্রকারের বিধান মানুষের সামাজিক জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। এগুলোকে বলা হয় হক্কুল ইবাদ বা সৃষ্টির হক বা অধিকার।
প্রথম প্রকার বিধান তথা হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করলে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাগতিক, মানসিক, আত্মিক ও পারলৌকিক উন্নতির পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো হলো-
> ফরজ নামাজ আদায় না করা
> ফরজ রোজা পালন না করা
> ফরজ হজ আদায় না করা
> আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
> হারাম কাজে অংশগ্রহণ করা
> আল্লাহ, আসমানী কিতাব ও আল্লাহর ইবাদতখানার অবমাননা করা ইত্যাদি।
এ সব অপরাধে অপরাধী ব্যক্তি তাওবা-ইসতেগফার করলে আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই ভারতের বলবীরের কথা। অবশ্য তিনি এখন মহম্মদ আমির। প্রায়শ্চিত্ত করতেই ধর্ম বদলান তিনি।
এক দিন যে বলবীর ঝোঁকের মাথায় বাবরির চুড়ো থেকে ইট খসিয়েছিলেন, আজ তিনিই নিষ্ঠাবান মৌলবি। লম্বা দাড়ি। নিয়মিত ভোরে আজান করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়েন। শুধু ধর্মই নয়, বদলেছে আমিরের জীবনের মানেও। এখন একটাই চাওয়া, ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদ সারাবেন আমির। (১ম মন্তব্যে ভারতীয় গণমাধ্যমের লিংক দেয়া আছে) বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার অপরাধে বলবীর সিং-কে যদি ভারতের কোন মুসলমান ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধে হত্যা করতো তাহলে আজকে মহম্মদ আমির-কে পাওয়া সম্ভব ছিলো না।
বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় বলবীর সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও সে সময় ভারততো বটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অনেক হিন্দুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। সেই প্রাণহরণকারীরা কি জান্নাতের প্রত্যাশা করেন ?
হক্কুল্লার কথা বললাম। এবার বলছি হককুল ইবাদের কথা। এই বিধান লঙ্ঘন করলে মানুষ নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আশপাশের মানুষ, সৃষ্টির অন্যান্য প্রাণীও ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আর তাহলো-
> কোনো ব্যক্তিকে বিনা অপরাধে গালি দেয়া
> মানুষ ও প্রকৃতির অনিষ্ট করা
> অন্যের সম্পদ লুন্ঠন করা
> ভেজাল দ্রব্য বিক্রি ও পরিমাপে ঠকানো
> কারো সম্মানহানী করা
> প্রতারনা করা
> অবলা প্রানীকে কষ্ট দেয়া
> কাউকে খুন করা
> কোনো নারীকে ধর্ষণ করা
> বিনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দেয়া ইত্যাদি।
আমরা আল্লাহর হ্বক নিয়ে যতটুকু বিচলিত সৃষ্টির হ্বক নিয়ে এর সামান্য নয়। অথচ পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের জন্য ক্ষমার সুসংবাদ দিয়েছেন। যদি আমরা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য কায়োমনে ক্ষমা প্রার্থনা করি তিনি হয়তো ক্ষমা করবেন কিন্তু সৃষ্টির সাথে হওয়া অন্যায়ের ক্ষমা কিভাবে পাওয়া যাবে?
আমি আমার বাবা-মা ও সন্তান অপেক্ষা বেশি ভালোবাসি আমার প্রিয় নবী (সাঃ)-কে। আমি তাঁর গোনাহগার এক উম্মত। আমার নবী (সাঃ)-কে যখন অবমাননা করে কেউ কিছু বলে বা লিখে তা নজরে এলে অন্তরে বড় কষ্ট হয়। সেই ব্যাক্তির সুমতির জন্য প্রার্থনা করি।
মনে মনে ভাবি, আহা! বেচারা দূর্ভাগা। সে ইশকে রসুল(সাঃ)-এর সুধা পান করার সৌভাগ্যতো পায়নি উপরন্ত এমন একজন মহামানবকে অশ্রদ্ধা করছে যা তার দুনিয়া ও আখেরাতকে দূর্ভাগ্যে জর্জরিত করবে। কিন্তু সেই ব্যাক্তিকে হত্যা করার বা আঘাত করার কথা চিন্তা করি না। আশা করি, একদিন সে ভুল সংশোধন করবে।
খোদার কসম, আমাকে কেউ যদি বলে, নবীর অবমাননা না করার বদলে তোমার প্রাণহরণ করতে চাই। আমি খুশি মনে প্রাণ দিবো ইনশাল্লাহ।

Comment
Share
, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *