ওমা আমাকে রেখে তুই যাস না, করোনায় মারা যাওয়া মায়ের জন্য মেয়ের কান্না


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, করোনায় মারা যাওয়া মায়ের জন্য মেয়ের আর্তনাদের একটি স্পর্শ কারত ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লা’শ কে পিপিই পরা কয়েকজন মিলে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে ভ্যানে করে নিয়ে যান। মৃ’তদেহটি একজন মহিলার।

মহিলার নাম শিল্পী এবং বয়স ৪০ বছর। তিনি মৃ’ত্যুর সময় তার স্বামী এবং দুই কন্যাকে ইহলোকে রেখে যান। ঘটনাটি ঘটে ২১ এপ্রিল সকাল ৫ টায়। জনাব শিল্পী হি’ন্দু ধর্মাবলম্বী। তিনি থাকতেন নারায়নগঞ্জের নন্দীপাড়াতে। অপর এক হি’ন্দু ধর্মাবলম্বী সমীর করের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন তিনি ও তার পরিবার।

করোনা লক্ষণ নিয়ে মৃ’ত্যু হয় জনাব শিল্পীর। মৃ’ত্যুর সময় তার কন্যা ছাড়া আর কাউকে তার পাশে ভিড়তে দেখা যায়নি। এমনকি তার সৎ’কার কাজেও তার কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়াডের কাউন্সিলর জনাব সফিউদ্দিন খবর পেয়ে সেখানে তাঁর স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে উপস্থিত হন এবং নিজ দায়িত্বে সৎ’কার কাজ সম্পন্ন করেন। এটাও বোধ হয়, দুনিয়ার নি’ষ্ঠুর মানবতার আরেক উদাহরণ।

এছাড়াও নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাচ্ছে এরকমই অসংখ্য মর’মান্তিক ঘটনা। তবুও যেন আমরা এখনো অবুঝ শিশু। কিছুই বুঝতে পারছি না, কিছুই করছি না নিজ থেকে। চলাফেরা করে বেড়াচ্ছি অসচেতন ও অসাবধান হয়ে। তবে কি বাংলাদেশকে বাঁ’চাতে পারবো আমরা? কী অবস্থায় আছে বাংলাদেশ?

দেশের এই ভয়া’বহতা দেখে আর যাই হোক, এটা নিশ্চিত যে, এরকম চলতে থাকলে প্রচুর সংক’টের শামিল হতে হবে আমাদের। স’ন্দেহ যে, ইতালি বা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চলে না যায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আলোকপাত লক্ষ্য করা গিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে,”বাংলাদেশ হতে পারে ক’রোনার পরবর্তী স্বী’কার। চীন, ইতালি, যুক্তরাষ্টকেও হার মানাতে পারে বাংলাদেশ।” তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই অনুমান যেন সত্যি না হয়, সেই প্রার্থনাই করছে সকলে। তবে হাতে গোণা কয়েকটি পরিবার ছাড়া কেউই মানছে না পরিপূর্ণ কোয়া’রেন্টাইন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারকে কম করে হলেও ১০ দিনের কোয়া’রেন্টাইন মানতেই হবে। কে শোনে কার কথা! দেখা গিয়েছে, অনেকে বাজারের নাম করে গায়ে হাওয়া লাগাতে বেরিয়েছেন কেউ বা শান্তি খুঁজতে। তবে কেউ এটা বুঝতে চান না যে, সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকাতেই রয়েছে আসল শান্তি৷ যা আমরা পেতে পারি অল্প কয়েকদিনের জন্য ঘর থেকে না বেরিয়ে। তাই নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখতে ঘর থেকে বের হবেন না। প্রত্যেকটি পরিবার বেঁচে গেলে বেঁচে যাবে পুরো দেশ, বেঁচে যাবে পুরো বিশ্ব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *