ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহুজাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর দাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার ফোরামের উদ্দ্যোগে  মত বিনিময় সভা


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক ::  গত ১৮ই মে ২০২৫, প্রবাসী বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার ফোরাম এর উদ্যোগে সুপ্রিম ল চেম্বার, ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সিটি, জল্লারপার রোড, জিন্দাবাজার সিলেট এ ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহুজাতিক এয়ারলাইন্স অবতরণ, বিমানের সিলেট – ম্যানচেস্টার – সিলেট রুটে বিমানের ভাড়া হ্রাস ও কার্গো মালামাল সিলেটে কাস্টমস করার দাবিতে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার ফোরামের আহ্বায়ক ডক্টর এম এ মোশতাক, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ জনাব বদরুজ্জামান সেলিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক্সপ্রেস কার্গোর পরিচালক এনামুল করিম, ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমেদ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ডক্টর শাহ জামাল নুরুল হুদা প্রমূখ।

বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহবায়ক ডক্টর এম এ মোশতাক, যুগ্ন আহবায়ক এনামুল করিম, ব্যারিষ্টার ফয়েজ আহমেদ, ডক্টর শাহ জামাল নুরুল হুদা, এডভোকেট মোঃ শাহজাহান, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ, আমেরিকা প্রবাসী হোসেন আহমেদ চৌধুরী (খলকু কামাল), সিলেট বাণীর সহ সম্পাদক চৌধুরী দেলোয়ার হোসেন জিলন, সাংবাদিক আমিরূল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, আবুল হাসান শামীম, তারেক আল মইন, নুরুল ইসলাম, মুন্তাজ আলী রুহেল আহমেদ, এডভোকেট সোনিয়া চৌধুরী প্রমূখ।

মত বিনিময় সভায় পঠিত বক্তব্য

সম্মানিত উপস্থিতি, আস্সালামু আলাইকুম। আমি ডক্টর এম এ মোশতাক প্রবাসী বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার ফোরাম এর আহ্বায়ক হিসেবে আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমাদের এ সংগঠন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে। আজ আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরতে চাই।

শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকবৃন্দ,

আপনারা জানেন, যুক্তরাজ্য বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগই সিলেটি । যারা প্রত্যেকেই সিলেট তথা বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। এ সকল প্রবাসী ছুটিতে এবং বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগকারী প্রবাসীরা প্রিয় মাতৃভূমিতে আসতে চাইলে সরাসরি সিলেটে আসতে চান। বাংলাদেশের মানুষের অর্থের জোগান দিচ্ছেন এসব প্রবাসী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দীর্ঘ ২ দশকের ও বেশী সময় ধরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্তেও সিলেটে বহুজাতিক এয়ারলাইনস অবতরণ করতে পারে না।

সম্মানিত ভাই ও বোনেরা,

১৯৪৪ সালে সিলেট  বিমান বন্দর প্রতিষ্টিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর নামে এর নামকরণ করা হয় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর। ২০০২ সালে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের আন্দোলনের পর লন্ডন সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। অনেকবার নানান অজুহাত দেখিয়ে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে এবং আন্দোলনের পর পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে বাংলাদেশী প্রবাসীরা সরাসরি সিলেট যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ ও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে আন্তর্জাতিক হলেও এখনও আন্তর্জাতিক রুপ ধারণ করতে পারেনি। কারন বিমান ছাড়া অন্য কোন এয়ারলাইন্সকে এখানে নামতে দেওয়া হচ্ছেনা । অথচ চট্রগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও ৭টি বিদেশী এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট উঠানামা করছে । বাংলাদেশ সরকার ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সিলেট বাসীর সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। বাংলাদেশ বিমানের শতকরা ৯৫ ভাগ যাত্রী সিলেট অঞ্চলের।

বিমানের বেশীরভাগ যাত্রী সিলেটি হওয়ায়, সিলেটিদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যেমন লন্ডন-সিলেট- লন্ডন এবং ম্যানচেস্টার – সিলেট – ম্যানচেস্টার রিটার্ন টিকেটের ভাড়া ১০০০ – ১৫০০ পাউন্ড আদায় করছে। অথচ এক-ই ফ্লাইটে ঢাকার যাত্রির জন্য রিটার্ন টিকেটের মুল্য ৮০০ – ১০০০ পাউন্ড ধার্য করা হয়। এটা সিলেটবাসীর সাথে বৈষম্য নয় কি? যার ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটিরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে সিলেটে আসতে পারেন না। তাছাড়া বিমানবন্দরে চেক-ইন কাউন্টারে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হন। আমরা এর প্রতিকার চাই ও সুষ্ট ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে বর্তমান সরকার উদ্যোগী হবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফুয়েলিং স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সাব-ষ্টেশন ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। কার্গো মালামাল সংরক্ষনের ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ টনে উন্নিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকার চাইলেই বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো উঠানামা করার জন্য অনুমতি প্রদান করতেপারে।

 

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিক সুযোগ সুবিদা সহ পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন সহ বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোকে উঠানামা করার অনুমতি প্রদান করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া হ্রাস করা এবং ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে ভাড়ার পার্থক্য দূর করা। শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যাত্রী হয়রানী বন্ধ করা সহ কাষ্টমসে যাত্রীদের মালামালের নিরাপত্তা প্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি ।

আপনারা হয়তো জানেন, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৫ থেকে সিলেট – ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট ১২ই জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। অনতিবিলম্বে যুক্তরাজ্য নর্থ ওয়েস্ট বাংলাদেশীদের দেশ ভ্রুমনের নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষে সিলেট – ম্যানচেস্টার রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।

সরকার ও বিমান কর্তৃপক্ষ রানওয়ে সম্প্রসারণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না ।  অথচ আমরা অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছি বিমান অবতরণের সকল ধরনের সক্ষমতা ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর যেখানে ১০/১৫ ভাগ প্রবাসী আসা যাওয়া করেন সেখানে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস অবতরণ করতে পারে এবং সরাসরি ফ্লাইট বিদ্যমান রয়েছে। সেদিক বিবেচনায় কোন যুক্তিতে ওসমানী বিমানবন্দরে বহুজাতিক এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে গড়িমশি করা হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সরাসরি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও টিকেট না পাওয়ায় প্রবাসীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রায় ৫০ লক্ষ সিলেটি প্রবাসী রয়েছেন। প্রতিদিন আনুমানিক হাজারের মতো সিলেট প্রবাসী ওসমানী বিমানবন্দর হয়ে দেশে আসতে চান। কিন্তু ফ্লাইটের অভাবের কারণে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন। এতে নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রবাসীদের।

বিশেষ করে ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেটে আসতে সময় ক্ষেপণের পাশাপাশি সীমাহীন কষ্টে পড়তে হয় যাত্রীদের। পাশাপাশি সড়ক পথে আসা যাওয়াতে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান শুধুমাত্র সিলেট-হিত্রো একটি ফ্লাইটে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে থাকে। প্রবাসীরা বাংলাদেশ বিমানে যাতায়াত করতে আগ্রহী। কারণ তারা মনে করেন দেশের বিমান ব্যবহার করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। কিন্তু বিমানের ভাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের চেয়ে অনেক বেশি হওয়াতে এবং সময়সূচি বিলম্বের কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এয়ারলাইনস ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ কম। আমরা প্রবাসীরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই সরকার সুযোগ দিলে শুধুমাত্র সিলেটের প্রবাসীরা অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ কিনে দিতে প্রস্তুত আছেন। এজন্য শেয়ার হোল্ডারের অভাব হবে না। যুক্তরাজ্যে এ রকম সক্ষমতা সম্পন্ন সিলেটি প্রবাসীদের সংখ্যা কম নয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অর্থায়নে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ বিমানের এয়ারবাস ক্রয় করা হয় এবং এটি দিয়েই বাংলাদেশ বিমানের যাত্রা শুরু হয়।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মেদ ইউনূস এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা মনে করি প্রধান উপদেষ্টা সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলো প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়টুকু বিবেচনা করবেন। আমরা চাই দেশ আরো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি লাভ করুক। কারণ অর্থনৈতিক মুক্তি মিললেই দেশ এগিয়ে যাবেই।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতি দ্রুত সকল এয়ারলাইনস অবতরণের সুযোগ দিতে হবে। সরাসরি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে বিপুল সংখ্যক সিলেটি প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। ওসমানী বিমানবন্দরে ২৪ ঘন্টা সার্ভিস শুরু করলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটনের ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে সিলেট। এ সকল দাবি-দাওয়া দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সিলেটি প্রবাসীরা বাংলাদেশ বিমান ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এমিরাটসের তিনটি ফ্লাইট প্রতিদিন ঢাকায় অবতরণের পরও তারা আরো ফ্লাইট সংযোগ দিতে চেষ্টা করছে। সে জায়গায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বাড়িয়ে দিলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বাংলাদেশ বিমানের প্রতি ঝুকে পড়বে।

সিলেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। অথচ এই সিলেটকে নিয়ে একটি মহল সব সময় ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। সে জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য এখনি আমাদের উদ্যোগী হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সর্বস্তরের সিলেটবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ

বাংলাদেশ সরকার সব সময় প্রবাসীদের দেশে বিনোয়েগের আহবান জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সরকার বিদেশী বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহবান করছেন । আমার জানামতে প্রবাসী অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন, সরকার যদি তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা প্রদান করে্ন, তাহলে তারা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়না।

কলম সৈনিক বন্ধুগণঃ

প্রবাসীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশে বিনিয়োগ করতে চান। পাশাপাশি হলিডে-তে পরিবার পরিজন নিয়ে মাতৃভূমিতে আসতে চান। কিন্তু এরূপ পরিস্থিতির কারণে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী দেশ-বিমুখ হয়ে পড়েছেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকল এয়ারলাইন্স অবতরণের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এগিয়ে আসবে। পরিশেষে আপনাদের মূল্যবান সময়টুকু দেয়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ

আপনারা হয়তো অবগত আছেন প্রবাসীরা তাদের আত্মীয় স্বজনদের জন্য ইউ কে থেকে কার্গোর মাধ্যমে অনেক মালামাল পাঠিয়ে থাকেন । আমি তাদের এই মালামালগুলো বিমানের বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করে থাকি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই মালামালগুলো সিলেটে কাষ্টমস না হয়ে, সেগুলো ঢাকায় কাষ্টমস করে ট্রাকযোগে সিলেট পাঠানো হয় । এই মালগুলো আমার সিলেট অফিসে পৌছতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ লেগে যায়। তারপর এই মালগুলো প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে আরোও এক সপ্তাহ চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে প্রাপকরা অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আমার প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরাঃ

আমি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মেদ ইউনূস সহ বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাহাতে অনতিবিলম্বে এই ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কাষ্টমসের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দঃ

আপনারা হয়তো জানেন, বর্তমান সরকার গত ২৭ শে এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে স্পেন সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালূ করেছে । যা অত্যন্ত প্রশংসার দাবী রাখে । এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।

আমি আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি যে, সিলেটবাসী তথা প্রবাসী বাংলাদেশীদের কথা বিবেচনা করে সিলেট ম্যানচেস্টার রুটে সপ্তাহে অন্তত একটি কার্গো ফ্লাইট চালু করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। পরিশেষে আপনাদের সবাইকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *