কৌতুহল মানব জাতির একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি । প্রতিনিয়ত মানুষ জানতে চায় ; জানতে চায় টেলিভিশন কিভাবে আবিষ্কার হলো অথবা ফেসবুক আবিষ্কারক কেন এটা বানালেন, কেও কেও জানতে চান – আমি কোথা থেকে এলাম, কেওবা অবাক হয়ে জানতে চান আল্লাহ / ভগবান বলে কী আদৌ কেও আছেন । এই সব কিছু জানতে চাওয়ার অধিকার আপনার আছে, কিন্তু ঝামেলা বাঁধে তখন যখন আপনি আপনার সব চাইতে কাছের মানুষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছেন ; কিন্তু তিনি তা প্রকাশ করতে পছন্দ করছেন না ।
এই বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে । এমন কোন প্রশ্ন সঙ্গীকে করবেন না যেন তিনি মনে করেন আপনি তাকে জাসুসি করছেন । জবাবদিহিতা বাবা মায়ের কাছে অনায়াসে করা গেলেও এই কাজটি বেশিরভাগ পরিণত মানুষ পছন্দ করেন না । আর বিপত্তি ঘটে তখন ; আপনি স্ত্রী হয়ে যদি স্বামীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন

- এতো রাত কেন হলো ফিরতে ?
সেটা সরাসরি তার ইগোতে আঘাত করে ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর আসে – কাজ ছিল ।
আপনি যদি পুনরায় জিজ্ঞেস করতে যান-
এতো রাতে আবার কী কাজ ?
তাহলে ঘটে যায় বিপত্তি ।
- সংসার চালাতে কতো কষ্ট করতে হয় , তুমিতো সারাদিন বাড়িতে বসে সিরিয়াল দেখো , ইত্যাদি ইত্যাদি ; কথার বানে জর্জরিত জীবন ।
যেসব নারীরা কিছুটা সৌখিন ,শপিং মলে যাদের দিনের অধিকাংশ সময় কাটে তাদের ঝামেলাও কিন্তু কম নয় । মাস গেলেই জবাবদিহিতার প্রশ্ন
- এতো টাকা তুমি কিভাবে খরচ করলে ?’
- তুমি এই সামান্য টাকাকে এতো টাকা বলছো , আর পাশের বাসার ভাবি এবারের ঈদে কতো টাকার শাড়ি নিয়েছে তা কি তুমি জানো ?
এরপর সাইক্লিক আকারে উত্তর আসে
- আমি তো তার স্বামীর মতো অসৎ পথে কামাই করি না ,আমার বাবার এতো ঘুষের টাকা নেই , তোমার মতো উড়নচন্ডি মেয়ে বিয়ে করাই ভুল হয়েছে , ইত্যাদি ইত্যাদি ।

এটাতো দাম্পত্য জীবনের এক অংশের গল্প আর এক অংশতো লুকিয়ে আছে ফেসবুক আর হোয়াটস এপে । এ তোমাকে লাইক দিল কেন, ও তোমাকে হার্ট ইমো দিল কেন ? প্রেমিক প্রেমিকা বা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এমন খুসসুটি লেগেই থাকে ।
কিন্তু সবচাইতে ভয়াবহ প্রশ্নটা সচেতন নারী হিসেবে সবারই জানা উচিৎ – সংসারের পেছনে যে আয় হচ্ছে , যা দিয়ে সন্তান বড় হচ্ছে সেই টাকা আসলে কোথা থেকে আসে !
বিষয়টা আসলেও খুব সেনসিটিভ একটি জায়গা , আপনার স্বামী যদি সৎ পথে রোজগার করেন তাহলে আপনি ঠিকি তা উপলন্ধি করতে পারবেন , কিন্তু যদি দেখেন হঠাৎ করে তার আয়ের ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে একজন বুদ্ধিমতি নারী সহজেই বুঝে যাবেন যে এটা মোটেও সাদা টাকা নয় ।
কেও ব্যবসা করে থাকলেও রাতারাতি বড় কিছু করে ফেলা সম্ভব নয় ; এমন ম্যাজিক সবার জীবনে ঘটে না । এখন আপনি স্ত্রী হয়ে সেই অসৎ পয়সার উপার্জন গ্রহণ করবেন কীনা সেই সিদ্ধান্ত আপনার ; অনেক স্ত্রী আছেন যারা স্বামীকে বাধ্য করেন ঘুষের টাকা গ্রহণ করতে ।
কিন্তু এইভাবে আয় করা যে নারীরা পছন্দ করেন না তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায় পুরো বিষয়টা, কারণ সরাসরি প্রশ্ন করলে উত্তর হয় একটাই ।
-তোমার সংসার চালানো দরকার চালাও , টাকা কোথা থেকে আসছে তা জানার দরকার নেই ।
সরাসরি প্রশ্ন সব সময়ি জেরার দিকে চলে যায় ; তাই এমন একটা অভিনয় করতে পারেন যে স্বামীর এই আয় সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না, মোদ্দা কথা ব্যবসাটা আপনি বোঝেনি না । তার কাছে গিয়ে বন্ধুর মতো প্রশ্ন করুন , এমনতো হতে পারে তাকে দিয়ে কেও খারাপ কাজ করিয়ে নিচ্ছে ।
তার মুখ থেকেই কথা বের করবার চেষ্টা করুন , যদি সে আপনাকে প্রাধান্য দেন , জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন মনে করেন তাহলে সে অবশ্যই তার গোপন কাজ গুলো শেয়ার করবেন , আর যদি একেবারেই না করেন বুঝতে হবে তার কাছে আপনি ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রের মতোই একজন ।
তখন আর জানতে চাওয়ার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না । আপনি তার কাজকে মেনে নিবেন নাকি তাকে ছেড়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্তের ব্যাপার । তবে সবক্ষেত্রে প্রশ্ন করে যে কোন সমাধান হয় না, সেটা পরিষ্কার ।
মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কটা হতে হয় স্বচ্ছ্ব জলের মতো যার মধ্য দিয়ে একে অন্যকে পরিষ্কার দেখা যায় । আর জানতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় জল ঘোলা হয়ে যাচ্ছে ; আপনাকে বুঝতে হবে কোথায় থামা দরকার আর কিভাবে সেটা করলে নিজের সন্মানটুকু অন্তত বজায় থাকে । এই ব্যাপারটি স্বামী স্ত্রী দু’জনের ক্ষেত্রেই ।
প্রশ্নের পর প্রশ্ন চলতেই থাকে , কিন্তু তার কোন উত্তর পাওয়া যায় না , মাঝে সন্তান থাকলে তাদের মাথায়ও চলে আসে হাজারো প্রশ্ন
- আমিই কী তবে বাবা মায়ের অশান্তির কারণ !!
এমন অনেক প্রশ্ন আপনার মাথায় আসবে ; প্রায়ই মনে হবে এক্ষনি যদি ওকে হাতে নাতে ধরতে পারতাম ! দিন না রশিটা একটু আলগা করে, মানুষ পাহাড়া দিয়ে যেটা হয় সেটাকে ঠিক সংসার বলা যায় না ।
যে আপনার সেতো আপনার কাছেই ফিরে আসবে আর যে কোন দিন আপনাকে তার জীবনের অংশ ভাবেনি তাকে অযথা প্রশ্ন করে কী লাভ ! যতো কম জেনে থাকবেন , ততো বেশি ভালো রাখতে পারবেন নিজেকে । জীবন আপনার একটাই সৃষ্টিকর্তার দেওয়া ; তাকে আগে ভালো রাখুন, নিজে ভালো থাকুন, মাথার কোষ গুলোকে অন্যের ব্যাপারে যতো কম ঘাটানো যায় ততোই শান্তি ।
